ভয়েস অফ আমেরিকায় শতরূপা বড়ুয়ার জন্য শুভকামনা

আমাদের নতুন সময় : 24/07/2021

নাঈমুল ইসলাম খান: শতরূপা বড়ুয়ার সঙ্গে আমার সামনাসামনি প্রথম পরিচয় ২০১৩র শেষের দিকে আমার বাসায় ওর সম্মানে দেয়া একটা ছোট্ট ঘরোয়া অনুষ্ঠানে। আমার অনুজপ্রতিম সহকর্মী সাংবাদিক ফাখরুলের স্ত্রী হিসেবে ওর কথা অবশ্য এর বহু আগে থেকেই আমি শুনেছি। সে মেধাবী, সেটা এর অনেক আগে থেকেই জানতাম। তেরো সালে শতরূপার সঙ্গে আমার যখন দেখা, তখন সে অলরেডি ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা বিভাগে প্রায় বছর খানেক ধরে কাজ করছে, ছুটিতে দেশে এসেছে। শতরূপা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্সে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়ে, ব্রিটেনে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল করেছে সামাজিক নৃবিজ্ঞানে। সচারচর কেমব্রিজ থেকে এমফিল করতে হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করে যেতে হয়, কিন্তু ওর ক্ষেত্রে, অনার্সের রেজাল্টের ভিত্তিতেই
ক্যামব্রিজে এমফিলে ভর্তি নিয়ে নেয়া হয়।
দু’বছর বাংলা বিভাগে কাজ করার পর ২০১৫তে শতরূপা ভয়েস অফ আমেরিকার নিউজ সেন্টার (ইংরেজি বিভাগে) যোগ দেয়। সেখানে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে একাধিক প্রমোশন পেয়ে শতরূপা গ্রেড ১৪ তে উন্নীত হয় ২০২০-এর মার্চে। এখানে উল্লেখ্য, বাংলা সার্ভিসসহ বিভিন্ন সার্ভিসের প্রধান পদগুলো গ্রেড ১৪ পদমর্যাদার হয়ে থাকে। সদ্য অবসরে যাওয়া বাংলা সার্ভিস প্রধান রোকেয়া হায়দারও গ্রেড ১৪ পদমর্যাতেই অবসরে যান। বর্তমানে যারা বাংলা বিভাগে কাজ করছেন তাদের মধ্যে গ্রেড ১৪ পর্যায়ের শতরূপা ছাড়া কেউ নেই। এমনকি সরকার কবিরউদ্দিন যিনি বাংলা বিভাগে তিন দশকের বেশি সময় কাজ করে সম্প্রতি ম্যানেজিং এডিটর হিসেবে অবসরে গেছেন তিনিও গ্রেড ১৩ হিসেবেই অবসরে যান।
নিউজ সেন্টারে কাজ করার সময়, শতরূপা বড়ুয়া ভয়েস অফ আমেরিকার সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য স্বর্ণপদক পায়। ২০১৭ থেকে এবছরের জুনের সাত তারিখ বাংলা বিভাগে যোগ দেয়া পর্যন্ত শতরূপা, অডিয়েন্স এনগেজমেন্ট এডিটর হিসেবে, ভয়েস অফ আমেরিকার নিউজ সেন্টারের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্বে ছিলেন। ও যখন ২০১৫ তে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্ব পায়, তখন নিউজ সেন্টারের ফেসবুকের ফলোয়ার ছিলো ৩ মিলিয়নের কম, আর ২০২১এর জুন মাসে তা বেড়ে হয় ১২ মিলিয়নের বেশি।
বিশেষ করে নিউজ সেন্টারের ফেসবুক পেজ এ বাংলাদেশ থেকে ফলোয়ার ২০১৫ এর জুলাইতে ৮৭ হাজার থেকে বেড়ে ২০২১এর জুন দাঁড়ায় ১৫ লাখে।
এই সময়ে ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, টুইটার ও ফেসবুক সব প্ল্যাটফর্মেই ভয়েস অফ আমেরিকার এনগেজমেন্ট বেড়ে যায় বিপুল পরিমাণে। ২০১৮তে ইউটিউবের ভিউ ছিলো ৫ কোটি ৭০ লাখ, যা ২০২১এ হয় ৩৭ কোটি ৭৫ লাখ। বিগত বছরগুলোতে শতরূপার সঙ্গে আমার ও মন্টির একটি সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ওর সাফল্যে আমরা গর্বিত।
গতমাসে বাংলা সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে শতরূপা দায়িত্ব নেয়ার পর আমি খুব খুশি হয়েছি। শুধু ওর জন্য না, আমি মনে করি, বাংলা সার্ভিসের এই বাঁকবদলের সময়ে ওর মতো একজন মেধাবী ও আধুনিক নেতৃত্ব বাংলা সার্ভিসকেও পুরোনো ঐতিহ্য ও নতুন নতুন সাফল্য পেতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি, নতুন প্রজন্ম ও নতুন মিডিয়া প্লাটফর্মগুলোতেও বাংলা বিভাগকে প্রভাববিস্তারকারী ভূমিকা রাখতে সাহায্য করবে।
গত ১৭ তারিখ দীর্ঘ ৫৮ বছর পর ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা বিভাগ তার রেডিও সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। বোধ করি নতুন প্রজন্মের ও নতুন যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে বাংলা বিভাগ এখন জোর দিচ্ছে তাদের ওয়েব, টেলিভিশন ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফরমগুলোতে কনটেন্ট নির্মাণ ও প্রচারে। গত কয়েকবছরে নতুন মিডিয়াগুলোতে ভয়েস অফ আমেরিকার নিউজ সেন্টারের হয়ে কাজে শতরূপার সাফল্য আমাকে শতভাগ কনফিডেন্স দিচ্ছে যে ওর নেতৃত্বে বাংলা বিভাগ তার অডিয়েন্সদের জন্য, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের অডিয়েন্সদের চাহিদা মিটিয়ে বাংলা বিভাগের সম্প্রচারের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে পারবে।
শতরূপা ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব নেয়ার দেড় মাসেরও কম সময়ে ভয়েস অফ আমেরিকা’ বাংলা বিভাগের সম্প্রচারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আমার চোখে পড়ছে।
এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত যেখানে ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা বিভাগের ফেসবুক ভিডিও ভিউ ছিলো মাসে গড়ে চার মিলিয়ন বা চল্লিশ লাখ, সেখানে শতরূপার যোগ্য নেতৃত্বে জুলাই মাসের প্রথম বিশ দিনে বাংলা সার্ভিসের ফেসবুকে ভিডিও ভিউ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ লাখ অর্থাৎ মাসের দুই-তৃতীয়াংশ ভিউ বেড়ে হয়েছে দ্বিগুনের বেশি। গত দেড়মাস বাংলা বিভাগের ওয়েবসাইটের লুক এও এসেছে লক্ষণীয় ইতিবাচক পরিবর্তন। পাশাপাশি, বাংলাদেশের অডিয়েন্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেমন মানবাধিকার, বাক-স্বাধীনতা এগুলো নিয়ে কভারেজও বেড়েছে।
গত সোমবার বাংলাদেশের ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির ওপর একটা রিপোর্ট প্রকাশ করে বাংলা বিভাগ। এই রিপোর্ট করেন বাংলাদেশের প্রতিথযশা সাংবাদিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, শতরূপা তার পদে যোগ দিয়েই যাকে ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা বিভাগের টিমে যুক্ত করেছেন। নঈমের মতো একজন অভিজ্ঞ ও শীর্ষস্থানীয় সম্পাদককে বাংলা বিভাগের টিমে যুক্ত করানোর মধ্য দিয়ে শতরূপা ওর দূরদর্শিতা ও স্ট্রাটেজিক ভিশন এর পরিচয় রেখেছে।
আমি বড় ভাই হিসেবে, ওর একজন শুভাকাক্সক্ষী হিসেবে তো বটেই, ভয়েস অফ আমেরিকার একজন দীর্ঘদিনের অডিয়েন্স হিসেবেও শতরূপা বড়ুয়ার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]