ঢাকা উত্তরের নতুন মেয়রের সময় কম, কাজ বেশি

আমাদের নতুন সময় : 04/03/2019

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র উপ-নির্বাচনে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলাম আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। ফলাফলটি এমনই হবে এটি প্রায় সবাই আগেই ধরে নিয়েছিলো। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর নবনির্বাচিত মেয়র তার পরিকল্পনার কথা গণমাধ্যমে জানিয়েছেন। তবে তিনি এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট সময় পাচ্ছেন নাÑ এটি স্পষ্ট। কারণ একবছর পরেই তার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এর আগে আনিসুল হকের মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় ধরে মেয়র পদটি ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে পরিচালিত হয়েছিলো। সে কারণে আনিসুল হকের কাজের গতি অনেকটাই থেকে গিয়েছিলো। ঢাকা উত্তরে অনেক সমস্যা জমা হচ্ছিলো। সকলেই প্রতীক্ষায় ছিলেন আনিসুল হকের মতন একজন গতিশীল মেয়র উক্ত পদে দ্রুত হাল ধরবেন। ধারণা করা হচ্ছে আতিকুল ইসলাম সে হালটি ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি নিজেও প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি নগরবাসীকে শুনিয়েছিলেন। যেহেতু তিনি নিজেও একজন সফল ব্যবসায়ী এবং ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন যার সঙ্গে আনিসুল হকের অনেকটাই মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। তাই আতিকুলের মধ্যে অনেকেই আনিসের প্রতিচ্ছবি দেখছেন। যদিও দুজন ব্যক্তি কখনই এক হতে পারেন না, দুজনের কাজ এবং চিন্তাধারা একই রকম হওয়ার নয়, তারপরও আনিসুল হক এবং আতিকুল ইসলামের মধ্যে অনেক ব্যাপারেই মিলের লক্ষণ রয়েছে। আদর্শগতভাবে তারা দুজনই একই গড়ানার। সাফল্যের দিক থেকেও দুজনেরই বর্ণাঢ্য অতীত রয়েছে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুজনকেই ঢাকা শহরের মেয়র পদে দায়িত্বের বিশালতা উপলদ্ধি করে বিবেচনা করেছিলেন। আনিসুল হক অতি অল্প সময়ে যে প্রমাণ রেখে গেছেন তা বিস্ময়করভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে। ঢাকা শহর সত্যি এক সমস্যা সংকুল শহরে পরিণত হয়েছে।
এ শহরকে মানুষের জন্য বাসযোগ্য, অপেক্ষাকৃত স্বাস্থ্যকর, চলাচলযোগ্য এবং দৃষ্টিনন্দন করার বিষয়টি এখন দীর্ঘ জটিলতা অতিক্রম করার বিষয়। এর জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, শিক্ষা, যাতায়াত এবং কর্মক্ষেত্র তৈরি করা। অতীতে ঢাকা এসব নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা খুব একটা করা হয়নি। ফলে উন্নয়নের গতি দ্রুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার ওপর বহুমুখী চাপ এতোটাই প্রবল হয়ে উঠেছে যে কোনটা রাখি, কোনটা ধরি, কোনটা বাস্তবায়ন করি- এমন জটিলতর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঢাকা এখন সত্যি মানুষের বসবাসের জন্য অযোগ্য হয়ে উঠছে। এই শহরে দুটো সিটি কর্পোরেশন অনেকের কাছে একসময় গ্রহণযোগ্য মনে না হলেও এখন প্রায় সবাই স্বীকার করছেন যে, ঢাকার সমস্যার সমাধানে বেশি হাত দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। দক্ষিণের মেয়র ঢাকার দক্ষিণকে নিয়ে প্রতিদিন হিমশিম খাচ্ছেন। সেখানে আগুনের ওপর মানুষ বসবাস করছে। আবার আগুন ছেড়ে তারা কোথায় যেতেও খুব একটা চাচ্ছেন না বা চাইলেও তাদের কোথায় জায়গা দেওয়া হবে। এটি হচ্ছে দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত সমস্যার জটলা, যার একটি থেকে আরেকটিকে আলাদা করা খুবই কঠিন কাজ।
উত্তর ঢাকার অবস্থাও মোটেও সুখকর নয়। যদিও এটি পুরান ঢাকা চাইতে অনেকটাই ভিন্নতর, পশ এলাকা বলে পরিচিত। তথাপিও এইখানেও আবাসিক এলাকায় অনাবাসিক নানা বিষয়াদি প্রবেশ করেছে। এখানেও নগর পরিকল্পনার অনেক কিছুই দৃশ্যত কার্যকর নেই। ফলে এইসব এলাকাতেও অপরিকল্পিত জীবন ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা বাণিজ্য, চিকিৎসা ব্যবস্থা ও যাতায়াত ব্যবস্থা চলছে। এগুলোকেও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। প্রয়াত আনিসুল হক বেশকিছু ব্যবস্থায় হাত দিয়েছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর অনেককিছুই থেমে গেছে, আবার পূর্বাবস্থা ফিরে এসেছে। এখন আতিকুল ইসলাম দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। তার কাধে সব বোঝাই একসাথে এসে পড়ছে। তিনি কয়টা রাখবেন, কয়টা ফেলে রাখবেন, কয়টা বাস্তবায়ন করবেন সেটি নির্ধারণ করার সময়ও বোধহয় পাচ্ছেন না। আগামী এক বছরের মধ্যে উত্তর সিটি কর্পোরেশনে যাতায়াত ব্যবস্থা, মশা নিধন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ফুটপাট ব্যবস্থাপনা, রাস্তাঘাট সচল রাখা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের প্রত্যাশা উপযোগী করা ইত্যাদি নিয়ে তাকে দ্রুতই হাত দিতে হবে। জানি না কয়জন কমিশনারকে তিনি তার মতো করে সক্রিয় করতে পারবেন। কিছু কিছু এলাকায় নতুন করে সিটি কর্পোরেশনের পরিসর বেড়েছে, কিন্তু সেগুলোতে রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জনসেবা দেওয়া খুবই প্রাথমিক পর্যায়ও নেই। এসব জায়গায় তাকে দৃশ্যমান কিছু কাজ হাতে নিতেই হবে। পুরো উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমকে তিনি কিভাবে গতিশীল করবেন, উন্নয়ন ও জনসেবায় সংযুক্ত করবেন- সেখানেই তার বর্তমান প্রতিশ্রুতির দৃশ্যমান বাস্তবতা ঘটবে বলে আমাদের বিশ্বাস। এই একবছর তিনি যদি সব জায়গায় উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কর্মকা- দৃশ্যমান করতে পারেন তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে তার পক্ষে সাধারণ ভোটারদের সমর্থন অনেকটাই নিশ্চিত হতে পারে। আশা করি তিনি সেভাবেই কাজে হাত দেবেন।
লেখক : শিক্ষাবিদ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]