বালাই ছাপ্পান্ন ইঞ্চির!

আমাদের নতুন সময় : 05/03/2019

কাকলী সাহা কলকাতা থেকে : সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মতো নিছক এক সামরিক অভিযানকে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দার জন্য কাজে লাগানোর পর আজ যাবতীয় দায় তুলে দিয়েছে বাহিনীর ঘাড়েই। সরকারের তথ্যই বলছে, মোদীর আমলে মোটেই সুরক্ষিত নন দেশের নিরাপত্তা জওয়ানরা। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামার ঘটনায় সেই সত্যই আরো প্রকট হয়েছে। অথচ ২০১৪-তে সরকারে এসেই কাশ্মীর সমস্যার সমাধানের জন্য অস্ত্রকেই একমাত্র পথ হিসেবে বেছে নিয়েছে মোদী সরকার, যদিও কাশ্মীর সম্পর্কে ওয়াকিবহাল মহল বারবার সরকারের কাছে আলোচনায় বসে সমাধানের চেষ্টা চালানোর আবেদন জানিয়েছেন।
উগ্রপন্থী হামলার ঘটনা, নাগরিকদের মৃত্যু, নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের মৃত্যু এবং উগ্রপন্থীদের হত্যাÑসব মিলিয়ে সংখ্যাটা বেশ উদ্বেগজনক। সেই পরিসংখ্যানেই দেখা যাচ্ছে, ভূস্বর্গে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের হত্যার ঘটনা ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে ৯৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই পাঁচ বছরে সন্ত্রাসবাদী নাশকতার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭৬ শতাংশ। ২০১৪ সালের ২২২টি হামলার ঘটনা থেকে তা গত বছর পৌঁছেছে ৬১-তে। সরকারের দেয়া হিসেবেই এই পঁচ বছরে জম্মু-কাশ্মীরে উগ্রপন্থী হামলার ঘটনা ঘটেছে সর্বমোট ১৭০৮টি। এরপরেও সন্ত্রাসবাদ দমনে সরকারের নিজের পিঠ চাপড়ানো দাবি যে সারবত্তাহীন, তা আর একবার প্রমাণিত হয়ে গেল গত গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামার ঘটনায়।
৬০ কিলোগ্রাম ওজনের অত্যন্ত শক্তিশালী আর ডি এক্স বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিলো পুলওয়ামায়। সিআরপি এফ সূত্রের খবর, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতো ভয়াবহ ছিলো যে, এর আঘাতে একজনের দেহ ৮০ মিটার দূরে ছিটকে পড়ে। এতে কমপক্ষে ৪৪ জন জওয়ানের মৃত্যু ঘটে। সংখ্যাটা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা। এর আগে ২০১৬ সালে উরিতে ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার পর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে বিজেপি সরকারের তরফে প্রচার ছিলো, “সন্ত্রাসবাদের মাজা ভেঙে দেয়া হয়েছে।” পাঁচরাজ্যে নির্বাচনের পূর্বে ‘ঘর মে ঘুসকে’ মারার দেদার প্রচারের মধ্যেও ওই বছর নভেম্বরই জম্মুর নাগরোতায় সেনার অস্ত্রভান্ডারে হামলা চালায় জঙ্গিরা এবং তাতে ৭ জন জওয়ান নিহত হন। এছাড়া পরের বছর আগস্ট মাসে পুলওয়ামাতেই হামলা চালায় জৈশ-সন্ত্রাসবাদীরা, তাতে ৪জন জওয়ান নিহত হয়। এছাড়াও প্রতিদিন চলতে থাকে লাগাতার হামলার ঘটনা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোদী সরকারের দমন-পীড়ন নীতির প্রভাবে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ওইসব অঞ্চলে ব্যবহৃত হচ্ছে যথেচ্ছ গুলি, পেলেট। এতে তিন হাজারের বেশি মানুষ বিশেষত কিশোর-তরুণের চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন হয়ে গেছেন আরো কয়েকশো মানুষ, স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে গেছেন আরো কয়েকহাজার। স্থানীয় যুবক ও কিশোরদের উগ্রপন্থী তকমা এঁটে দিয়ে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়েছে উপত্যকায়। বর্তমান সরকারের এই নীতির প্রভাবে কাশ্মীরসমস্যার সমাধান তো হয়ইনি বরং ঘটেছে অনুপ্রবেশ ও নাশকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে স্থানীয় যুবকদের মধ্যে উগ্রপন্থী সংগঠনে যোগ দেবার প্রবণতা, এমনকি উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যেও এই ট্রেন্ড লক্ষ করা যাচ্ছে। আর গোটা দেশ জুড়েই ছড়িয়ে পড়ছে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প। এক্ষেত্রে যেটা করণীয় ছিলো, সে বিষয়ে কেউই ততোটা আন্তরিক নয়। প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্র পরস্পরবিরোধী মনোভাব ও পারস্পরিক দোষারোপ বন্ধ করে যতোদিন না গঠনমূলক আলোচনায় সক্রিয় হবে, ততোদিন পর্যন্ত চলতে থাকবে এই হত্যালীলা।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]