ডাকসু নির্বাচনে প্রচার যুদ্ধে প্রার্থীরা

আমাদের নতুন সময় : 06/03/2019

রিয়াজ হোসেন : তফসিল অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে আর মাত্র ৫ দিন বাকি। দ্বিতীয় দিনের মতো প্রচার যুদ্ধে নেমেছেন ডাকসু ও হল সংসদের প্রার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তুলে ধরছেন নানা প্রতিশ্রুতি।
গতকাল সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা চালিয়েছে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, বাম জোট ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা। এর বাইরে স্বতন্ত্র জোট, স্বাধীকার স্বতন্ত্র পরিষদ, ছাত্র মৈত্রী ও বিভিন্ন পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রচার চালিয়েছেন। পাশাপাশি অবস্থানে প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। আবাসন সংকট নিরাসন, খাবার মান উন্নয়ন,গণরুম-গেস্টরুম প্রথা উচ্ছেদের অঙ্গীকার করছেন প্রার্থীরা। এবারের ডাকসু নির্বাচনে প্রচারণায় নতুন মাত্রা পেয়েছে সামজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউভ। প্রচারণার সময় কম থাকায় প্রার্থীরা ফেসবুকে লাইভে এসে তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরছেন। ভোটারদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন প্রার্থীরা।
মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন ছাত্রলীগ সভাপতি ও ভিপি প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, জিএস গোলাম রাব্বানী, এজিএস সাদ্দাম হুসাইন, তারা আলাদা ভাগ হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অনুষদের সামনে গিয়ে নিজেদের পক্ষে শিক্ষার্থীদের কাছে ভোট চেয়েছেন। এসময় রেজওয়ানুল হক চৌধুরী বলেন, ক্যাম্পাসে সকলে সমান তালে প্রচারণা চালাচ্ছে। আমরাও শিক্ষার্থীদের কাছে যাচ্ছি। গঠনতন্ত্র মেনে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছি। আমরা ১১ দফা দাবি নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে যাচ্ছি। তারাও আমাদের সাদরে গ্রহণ করছে। শিক্ষার্থীদের ভালবাসা নিয়ে আমরা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করবো।
বামজোটের প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ব্যতিক্রমী প্রচার চালিয়েছেন। গান-মিছিলের মাধ্যমে তারা শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্ট করেন। তাদের পদযাত্রায় হাতে ছিলো প্লাকার্ড, মুখে ছিল স্লোগান। প্যাডড্রাম বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ডাকসু নির্বাচনের জন্য তারা ভোট চেয়েছেন।
এসময় ছাত্রজোটের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী বলেন, আমরা সন্ত্রাস দখলদারিত্বের পক্ষে না, আমরা মৌসুমী আন্দোলনকারীও না। আমরা সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে ছিলাম আগামীতেও থাকবো। তিনি বলেন ডাকসুতে আমরা এমন নেতা চাই যে আমাদের প্রভু হবে না বন্ধু হবে। আমরা বিশ্বাস করি শিক্ষার্থীরা যোগ্য নেতৃত্বকে ডাকসুতে বসাবে।
এদিকে ভিপি, জিএস, এজিএস এর নেতৃত্বে তিন দলে বিভক্ত হয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছে ছাত্রদল। সকালে কলাভবন, সেন্ট্রাল লাইব্রেরি, টিএসসি, ব্যাবসা অনুষদ, কার্জন হল, সাইন্স লাইব্রেরীতে প্রচারণা চালায় তারা।
এসময় ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হলগুলোতে প্রচারণা চালানোর পরিবেশ এখন তৈরি হয়নি। আমাদের হল সংসদের প্রার্থীরা এখন হল গুলোতে যেতে পারছে না। মেয়েদের হলে প্রচার চালাতে গিয়ে আমাদের নারী প্রার্থীরা প্রভোস্টের বাধার শিকার হয়েছেন। এছাড়া নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও এখন পর্যন্ত ব্যালট নম্বর দেয়নি। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে আমাদের শংকা রয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরাও এসময় ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নুরু বলেন, নির্বাচনের প্রচারের দিন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করছে। কোন বাধার সম্মুক্ষীন না হওয়ায় প্রশাসনকে তিনি ধন্যবাদ জানান। শেষ পর্যন্ত এমন পরিবেশ বজায় থাকবে এবং প্রশাসন ইতিবাচক একটি নির্বাচন উপহার দেবে। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]