জাতীয় নির্বাচনের ভূত ডাকসুতে?

আমাদের নতুন সময় : 12/03/2019

প্রভাষ আমিন : ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর বিরোধী দল আগের রাতেই ভোট দেয়ার অভিযোগ করেছিলো। কিন্তু অভিযোগ করলেও কারও কাছে প্রমাণ ছিলো না। কিন্তু নির্বাচনের দুই মাস পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা এক অনুষ্ঠানে ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে বলে ফেলেন, ‘যদি ইভিএমে ভোটের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে আর ভোটের আগের দিন রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করার সুযোগ থাকবে না’। তার মানে কিন্তু আগের রাতেই কোনো না কোনো ভূতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রেখেছিলো। জাতীয় নির্বাচনের সেই ভূত এখন ভর করেছে ডাকসুতেও।
প্রায় ২৯ বছর পর ডাকসু নির্বাচন নিয়ে গত কদিন ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিলো উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোটের দিনেও সবার মধ্যে ছিলো উৎসবের আমেজ। কিন্তু ভোট শুরুর আগেই অনিয়মের অভিযোগ কুয়েত মৈত্রী হলে। খবর পেয়ে ছুটে আসেন উপ-উপাচার্য মুহাম্মদ সামাদ, প্রক্টর গোলাম রাব্বানীসহ অনেকেই। তারা অনিয়মের প্রমাণও পান। হলের একটি রুম থেকে একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেয়া ব্যালট পেপার পাওয়া যায়।
সেই ব্যালট নিয়ে শিক্ষার্থীরা মিছিল করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেনি। তাৎক্ষণিকভাবে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়, হল প্রভোস্টকে অপসারণ করা হয়, নতুন প্রভোস্ট নিয়োগ দেয়া হয়, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। নতুন ব্যবস্থাপনায় তিনঘণ্টা পর কুয়েত মৈত্রী হলে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
কিন্তু শুরুতেই কুয়েত মৈত্রী হলের যে উত্তেজনা তা বজায় থাকে দিনভর। রোকেয়া হলে পাশের রুমে রাখা বাড়তি ব্যালট নিয়েও ছড়ায় উত্তেজনা। বন্ধ হয়ে যায় ভোটগ্রহণ। পরে দেখা যায়, এগুলো কর্তৃপক্ষের রাখা বাড়তি ব্যালট, যেগুলো রাখা হয়েছে, আগের ব্যালট ফুরিয়ে গেলে ব্যবহারের জন্য। উদ্ধার করা ব্যালটগুলো ছিলো ফ্রেশ। এখানে ছাত্রীদের হালকা ধাক্কায় জ্ঞান হারান কোটা আন্দোলনের বিপ্লবী নেতা নুরু। অনেকেই নুরুর এই জ্ঞান হারানোকে পূর্ব পরিকল্পিত নাটক বলে অভিহিত করছেন। জানা গেছে, তিনি আসলে পানিশূন্যতায় ভূগছিলেন।
কিন্তু রোকেয়া হলের ঘটনার পর দ্রুত পাল্টে যায় পরিস্থিতি। বাম, কোটা ও পরে ছাত্রদলও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। নতুন নির্বাচনের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদালয়ে ধর্মঘট ডাক দেয়। এখন ছাত্রলীগ ছাড়া সবাই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নেমেছে। বলা হচ্ছে, নির্বাচন বর্জনের অজুহাত তৈরি করতেই নুরুর অজ্ঞান নাটক ও হাসপাতালে যাওয়া। প্রায় ২৯ বছর পর ডাকসু নির্বাচন নিয়ে যে প্রত্যাশা, উৎসবে তাতে জল ঢেলে দিল কুয়েত মৈত্রী হলের ভোটের আগেই ভোট দেয়ার এই ভূত। কর্তৃপক্ষ এখন যতো কঠোর ব্যবস্থাই নেন না কেন, নির্বাচন সম্পর্কে ধারণা বদলানো যাবে না। কর্তৃপক্ষের আরো সতর্ক থাকা উচিত ছিলো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বরাবরই খুব স্পর্শকাতর। এখন ছাত্রলীগ ছাড়া বাকি সবাই যখন নির্বাচন বাতিল চাইছে, তখন পরিস্থিতি সামনে কোনদিকে যায় বলা মুশকিল। জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি যতো সহজে সামাল দেয়া গেছে, ডাকসু নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেয়া ততো সহজ নাও হতে পারে। পচা শামুকেই কিন্তু পা কাটতে পারে, এটা মনে রাখা দরকার।
আরেকটা বিষয় ডাকসু নির্বাচনে ঝামেলা হয়েছে কুয়েত-মৈত্রী হল আর রোকেয়া হলে। বিষয়টা দুইভাবে দেখা যেতে পারে। যারা নেতিবাচক, তারা বলতে পারেন, পৃথিবীর সকল ঝামেলার পেছনেই নারীরা থাকে। আর যারা ইতিবাচক, তারা বলতে পারেন, মেয়েরা সদাসতর্ক। তারা প্রতিবাদী। তাদের প্রতিবাদের মুখে নির্বাচনে অনিয়ম হতে পারেনি। আমি সবসময় ইতিবাচক। আমি মেয়েদের প্রতিবাদী চেতনাকে স্যালুট জানাই।
লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]