এফআর টাওয়ারের অবৈধ কাজে জড়িত ৬৭ কর্মকর্তা চিহ্নিত

আমাদের নতুন সময় : 23/05/2019

তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ হ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা মন্ত্রীর

আসাদুজ্জামান সম্রাট : বনানীর ফারুক রূপায়ণ (এফআর) টাওয়ার দুর্ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণহানির পর গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। রিপোর্টে এফআর টাওয়ারের নকশা অনুমোদন ও নির্মাণসংক্রান্ত কাজের অনিয়মে ৬৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত বলে চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি। যাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বুধবার গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ রিপোর্ট প্রকাশ করে এফআর টাওয়ার নির্মাণে অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, এফআর টাওয়ারের অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত রাজউক কর্মকর্তাসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। যারা অবসরে গেছেন তাদের বিরুদ্ধেও প্রযোজ্য প্রক্রিয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। যারা এখনও কর্মরত আছেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরিপূর্ণভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, আমাদের তদন্তের বিষয় ছিলো, এফআর টাওয়ার নির্মাণে কোনো অনিয়ম, ব্যত্যয় হয়েছে কি না, হয়ে থাকলে তা কী ধরনের হয়েছে? ভবনের বিভিন্ন স্তরে কী কী অনিয়ম হয়েছে। এ অনিয়মের সাথে মালিক পক্ষ, ডেভেলপার পক্ষ এবং রাজউকে তৎকালীন কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা ছিলেন তাদের সম্পৃক্ততা কিভাবে ছিল। কী কী নিয়মের লঙ্ঘন হয়েছে। তিনি বলেন, ‘১৯৯০ সালে এফআর টাওয়ারের ১৫তলা পর্যন্ত ভবনের অনুমোদন ছিলো। পরবর্তীতে ১৫তলা থেকে ১৮তলা পর্যন্ত নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়া যথাযথ ছিলো, কিন্তু অনুমোদনকালীন বিদ্যমান বিধির আওতায় অনুমোদন দেয়া হয়নি, আবেদনকালীন বিদ্যমান আইনের আওতায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আইনগত বিষয়ের ব্যত্যয় ঘটেছে।

তিনি বলেন, ১৮তলার ঊর্ধ্বে ভবনের সকল তলা সম্পূণরূপে অবৈধ। এফআর টাওয়ার কর্তৃপক্ষ একটি প্ল্যানের অনুমোদিত কপি দেখানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু রাজউকের রেকর্ডে কোথাও তার কোনো অস্তিত্ব নেই। রাজউকের কোনো অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে অবৈধ যোগাযোগের মাধ্যমে বিল্ডিং-এর মালিক ও ডেভেলপার বাইরের একটি প্ল্যান তৈরি করতে পারে, আইনগতভাবে এই প্ল্যানের কোনো বৈধতা নেই। পরবর্তীতে অসাধু যোগসাজশে ঋণ গ্রহণের অনুমতি প্রদানের প্রক্রিয়ায় যারা জড়িত তাদেরও তদন্তে দায়ী করা হয়েছে তদন্ত রিপোর্টে।

মন্ত্রী বলেন, তদন্তে রাজউকের তৎকালীন চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে পরিদর্শক পর্যন্ত, রেজিস্টার ব্যবস্থাপনায় যারা ছিলেন, যারা ঋণ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ছিলেন তাদের সকলকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই ঘটনায় জড়িত হিসেবে রিপোর্টে এসেছে, তাদের সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তি হিসেবে আমাদের কাছে অনেক সাক্ষ্য-প্রমাণাদি রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তদন্তে অনেকগুলো অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে, সবমিলিয়ে আমরা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি তাদের অভিযোগের থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ নেই। এফ আর টাওয়ারের অবৈধভাবে নির্মিত অংশ ভেঙে ফেলার জন্য আইনগত প্রক্রিয়ায় কাজ শুরু করেছি।

বিফ্রিং অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াকুব আলী পাটোয়ারী, তদন্ত কমিটির সদস্য স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. মঈনুল ইসলামসহ তদন্ত কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]