আগের দিনের ঈদ ছিলো মানবিকতার, এখনকার ঈদ হচ্ছে কেনাকাটার, বললেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

আমাদের নতুন সময় : 04/06/2019

জুয়েল খান : আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন ঈদের সময় এতো কেনাকাটা করার প্রচলন ছিলো না। মানুষ পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করতো। যারা সমাজে গবির ছিলো সবাই মিলে তাদের সাহায্য করতো। একে অপরের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ-খবর নিতো, কিন্তু এখন এ রকম কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না বলে মনে করেন শিক্ষাবিদ ও কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আগে রমজানে একে অপরের বাড়িতে ইফতারি পাঠানোর একটা প্রচলন ছিলো, কিন্তু এখন সেটা দেখা যায় না। দিন যাচ্ছে আর মানুষ বেশি বেশি ভোগবিলাসী হয়ে যাচ্ছে। ঈদে বিত্তবানদের প্রতি গরিব মানুষের যে হক আছে কেউ সেটা মনে রাখে না। সবাই শুধু সবার পরিবার নিয়ে বেশি বেশি কেনাকাটা, খাওয়া-দাওয়া, ঘোরাঘুরিতে ব্যস্ত। পাশের বাড়ির প্রতিবেশী খেলো বা না খেলো সেদিকে কারো কোনো খেয়াল নেই। অনেক গার্মেন্টস মালিকরা ঈদের ছুটিতে বিদেশে ঘুরতে যাচ্ছে, কিন্তু তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ঈদের বোনাস ঠিকমতো দেয়া হয়েছে কিনা সেদিকে তাদের কোনো নজর নেই। ঈদে বিদেশ ভ্রমণের টাকা খরচ না করে গরিবদের মাঝে সেই টাকা বিতরণের মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমি ঈদের দিন সকালে নামাজ পড়ি ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে। আগে নামাজ পড়তাম ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে। আগে দেখতাম যারা বিত্তবান তারা ঈদের নামাজ পড়ার পরে ভাঙটি নতুন টাকা নিয়ে আসতেন। সেই টাকা নামাজ শেষে গরিবদের মাঝে বিতরণ করতেন। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে বিত্তবানরা দামি গাড়ি থেকে নেমে নামাজ শেষে ভিড় ঠেলে তাড়াহুড়ো করে বাচ্চাদের নিয়ে বেরিয়ে যায়। পাশে গরিব মিসকিনরা দাঁড়িয়ে থাকে এই বিত্তবানদের আশায়, কিন্তু তারা গরিবদের দিকে তাকায় না। এই যদি হয় সভ্যসমাজের সভ্যমানুষের মানবিকতা তাহলে ঈদ থেকে, রমজান থেকে কি শিক্ষা পাচ্ছি।


সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]