অযত্ন, অবহেলা আর দূষণের কবলে ধানমন্ডি লেক

আমাদের নতুন সময় : 13/06/2019

সুজিৎ নন্দী : জিগাতলা থেকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়ক পর্যন্ত ময়লা-আবর্জনার ছড়াছড়ি। অসংখ্য বেওয়ারিশ কুকুরের জটলা, হকারদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে প্রতিনিয়ত। বঙ্গবন্ধু স্মৃৃতি জাদুঘরের সামনের লেকে ময়লা আবর্জনা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) থেকে ঢাকা সিকিউরিটি সার্ভিস নামে একটি প্রতিষ্ঠান লেক পরিষ্কারের দায়িত্ব পায়। কিন্তু খামখেয়ালী ও অবহেলার কারণে ধানমন্ডি লেক ক্রমেই দূষিত হয়ে পড়ছে। এলাকাবাসী জানান, ডিএসসিসি সরাসরি পরিস্কার করলে ধানমন্ডি লেক দূষণমুক্ত থাকবে। এখানে প্রতিদিন বিদেশী পর্যটকরা আসছে।

এ ব্যাপারে ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ধানমন্ডি লেক বহু আগে আমার বাবা মরহুম মেয়র মোহাম্মদ হানিফ সংস্কার করেছেন। লেককে নবরূপে সাজানো হবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রেখে কীভাবে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা যায় সেভাবেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা হবে। তিনি আরো বলেন, শিগগিরই লেক উন্নয়ন কাজ শুরু হবে। নগর ব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। কলাবাগান মাঠ নতুন ভাবে সাজানো হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকালে এবং বিকালে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের পদচারণা বেশ চোখে পড়ে। এছাড়াও সংক্ষিপ্ত পথে গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেক পথচারী এই লেকের পাড় ব্যবহার করেন। পয়লা বৈশাখসহ অন্যান্য উৎসবের দিনগুলোতে লেকে লক্ষাধিক লোকের সমাগম হয়। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রায়ই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এই লেকের তীরে। বাদাম-ফুচকাসহ নানা ধরনের খাবার খেয়ে যত্রতত্র প্যাকেট, পানির বোতল ফেলে লেকের পানিতে। এতে লেকের পানি ক্রমেই দূষিত হয়ে পড়ছে। লেকের মধ্যে কৃষ্ণচূড়া, বটগাছ, রেইন্ট্রি, আম, কাঁঠাল গাছ, নিমগাছ, বকুল গাছ, কদম গাছসহ বিভিন্ন গাছ রয়েছে। লেকে নৌকার ব্যবসা ও ভেতরে খাবার ব্যবস্থাও আছে।

স্থানীয় কাউন্সিলর জাকির হোসেন স্বপন বলেন, কাউন্সিলর হবার আগে আমি ঢাকা সিকিউরিটি সার্ভিসের মালিক ছিলাম। বর্তমানে এই কোম্পানির মালিক অন্যজন। তবে পরিচ্ছন্নতা, লেক ও লেকপার পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে জড়িত। লেকটি আট ভাগে ভাগ করে কাজ চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, পার্কের দায়িত্ব শুধু কাউন্সিলরের নয়। তাদের ক্ষমতাও সীমিত। পার্কে ঢোকা ও বের হবার জন্য নির্দিষ্ট গেটের জন্য বলা হচ্ছে। কিন্তু তা হচ্ছে না।

প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা বলেন, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরটি ১৫নং  ওয়ার্ডে পরার কারণে কাউন্সিলরেরও দেকভালের দায়িত্ব থাকে। এখানে উন্নয়ন কাজ ও চলছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সাইফুল্লাহ বলেন, যে সময় ঢাকা সিকিউরিটি সার্ভিসকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো তখন এত জনসমাগম ছিলো না। ক্রমেই জনসমাগম বাড়ছে। এখানে ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং উপদেষ্টা কমিটি আছে। ধানমন্ডির পরিবেশ কিভাবে উন্নয়ন করা যায় তা নিয়ে এমাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত হবে। পার্কের কোন উন্নয়ন কাজ চলছে না। তবে সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের পাশে উন্নয়ন কাজ চলছে। সম্পাদনা : ইকবাল খান


সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]