অর্থনৈতিক অপসাশনের সুবিধাভোগীদের পক্ষে গেছে প্রস্তাবিত বাজেট, জানালো সিপিডি

আমাদের নতুন সময় : 15/06/2019

বিশ্বজিৎ দত্ত : অর্থনৈতিক অপসাশনে যারা সুবিধাভোগী তাদের পক্ষেই গেছে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ সালের বাজেট বলেছেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। গতকাল বাজেটেত্তোর সংবাদ সাম্মলেনে সিপিডির সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দেশের উচ্চ আয়ের মানুষকে বাজেটে সুবিধা দেয়া হয়েছে। বিকাশমান মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্তের জন্য এই বাজেটে কোন সুবিধা নেই। দেশে চলমান যে অর্থনীতি রয়েছে, তাতে মানুষের মধ্যে বৈষম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকগুলো দেওলিয়া হচ্ছে। এই অর্থনৈতিক অবস্থাপনার বিষয়ে বাজটে কোন নির্দেশনা নেই। বাজেটে রয়েছে কিছু বায়বীয় কথা বার্তা। যার কোন বাস্তবতা নেই। বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছিল বৈষ্যমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। কিন্তু বাজেটে বৈষম্য বৃদ্ধির দিকেই মনোযোগ দেয়া হয়েছে। ফলে বাজেট প্রস্তাব হয়েছে অর্থনৈতিক অপশাসনের পক্ষে। ড. দেবপ্রিয় বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। পাশাপাশি বাজেটে সচ্ছল ও উচ্চ আয়ের মানুষকে বেশি সুবিধা দেয়া হয়েছে।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মধ্যবিত্তদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়নি। আবার সারচার্জকৃত সম্পদের সীমা বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ যারা আয় করে তাদের জন্য সুবিধা বা প্রণোদনা দেয়া হয়নি। কিন্তু যারা সম্পদশালী তাদের সুবিধা দেয়া হয়েছে। কেন দেয়া হয়েছে, আমাদের কাছে এটি বোধগম্য নয়। এটি সরকারের নির্বাচনী চেতনার সঙ্গেও মিলে না।
কালোটাকা সাদা করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কালোটাকা সাদা করার সুযোগ বাড়ানো নির্বাচনী ইশতেহারের পরিপন্থি।
তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের সংস্কার দরকার। কিন্তু অর্থমন্ত্রী সুনির্দিষ্টভাবে এ নিয়ে নির্দেশনা দেননি। ব্যাংক থেকে যারা অন্যায্য সুবিধা নিয়েছেন, তারা আসলে পরিবর্তন চান না; তারা স্বচ্ছতা চান না। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ব্যাংক কমিশন গঠন হলে কার সম্পর্কে কি তথ্য আছে তা বের হয়ে আসবে। বাজেটে মধ্যবিত্তের উপার্জন ক্ষমতা বিকাশে সেভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়নি বাংলাদেশ এখন প্রান্তিক পর্যায় এসেছে। এই জায়গা থেকে উত্তোরণ না হলে বাংলাদেশের বিকাশ আটকে যাবে। এগুতে হলে দ্বিতীয় প্রজন্মের সংস্কারে যেতে হবে। কিন্তু বাজেটে এটি গুরুত্ব পায়নি। তিনি বলেন, বাজেটে গরিব মানুষের জন্য একটি প্রান্তিক সুবিধা দেয়া হয়েছে।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, নতুন বাজেটে কৃষককে ধানের লোকসান বাবদ প্রণোদনা দেওয়া হয়নি। সাধারণ মানুষের করমুক্ত আয়সীমাও বাড়ানো হয়নি। কিন্তু সম্পদের সারচার্জের সীমায় ছাড় দেওয়া হয়েছে। ধনীরা ফ্ল্যাট কিনতেও কর ছাড় পেয়েছে। পোশাক রপ্তানিকারকেরাও নগদ ভর্তুকি পেয়েছেন।
সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সামষ্টিক বাজেট কাঠামো নিয়ে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী এবার অনেক লক্ষ্যের ক্ষেত্রেই বাস্তবমুখী হয়েছেন। ফলে আগের দু-একটি বছরের তুলনায় রাজস্ব, বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা কম। তিনি কর বর্হিভূত আয় বাড়ানোর উদ্যোগ, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে উন্নয়ন ব্যয় ৭ শতাংশ রাখা, শত শত নতুন প্রকল্প না নেওয়াসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানান। পুঁজিবাজারে নেওয়া পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন নেই বলে উল্লেখ করেন। তবে এও বলেন, সুশাসন ছাড়া পুঁজিবাজারের পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। ভ্যাট আইনে জরুরি সেবা ও পণ্যে ছাড় দেওয়ার বিষয়টিও ঠিকই আছে বলে উল্লেখ করেন।
প্রশ্নোত্তর পর্বে ড. দেবপ্রিয় বলেন, শিক্ষা-স্বাস্থ্যে ব্যয় মোট জিডিপি অনুপাতে বৃদ্ধি না পাওয়ার বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, যারা ব্যাংকক সিঙ্গাপুরে গিয়ে শিক্ষা নিতে পারে না ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পারে না, তাদের জন্য আপনি কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন? গণপরিবহন সংকটে যারা তাদের জন্য কী গণপরিবহন তৈরি হচ্ছে কি না, তাদের শিশুরা কি সেরকম মানে উচ্চ শিক্ষা পাচ্ছে কি না, এটিই বড় বিষয়।যে সমাজে বৈষম্য বৃদ্ধি পায়, সে সমাজ আজ হোক কাল হোক টেকে না, আগাতে পারে না বলে মন্তব্য করেন দেবপ্রিয়। তিনি বলেন, যেভাবে বাংলাদেশে বৈষম্য বাড়ছে, তাতে ৭, ৮, ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি টেকানো কষ্টকর হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে।
করদাতার সংখ্যা এক কোটিতে উন্নীত করা ও তিন কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যের বিষয়ে বলতে গিয়ে বায়বীয় শব্দটি ব্যবহার করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘আপনারা বলছেন যে, করদাতার সংখ্যা ১ কোটি হবে, বলা হয়েছে শিগগিরই হবে। শিগগিরই কবে? কালকে? ৩ বছর পর? পাঁচ বছর পর? কবে। কর্মসূচি দেওয়া হলে তার বিশ্বাসযোগ্যতা লাগে। আপনি যখন বলেন আমি এটা দিয়ে এই অর্জন করতে চাচ্ছি, এই অর্জন করার জন্য এই কৌশল নিয়েছি। এই কৌশলকে কার্যকর করার জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছি। অর্থ দিচ্ছি প্রতিষ্ঠান দিচ্ছি। ইত্যাদি। এটা যতক্ষণ না বলা হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আমি অর্থনীতিবিদ হিসেবে আশ্বস্ত হই না। সাধারণ নাগরিক খুশি হতে পারে।’
নতুন বাজেটে নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেননি বলেও উল্লেখ করেন।


সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]