জেন্ডার বাজেটে বরাদ্দ বড় কথা নয় নারীর নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে সবার আগে, বললেন খুশী কবির

আমাদের নতুন সময় : 15/06/2019

তাপসী রাবেয়া : মানবাধিকারকর্মী খুশি কবির বলেছেন, নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য দূর করতে কাগজে কলমে নানা কর্মসূচী নেয়া হয়েছে। তা বাস্তবায়ন কতটুকু হচ্ছে তার কোনো সফল সমীক্ষা হয় নি বা কেউ মনিটরিং করে না। বরাদ্দ অর্থ কোথায় ব্যয় হয়। খুশি কবির বলেন, নারীকে এগিয়ে নিতে হলে তার সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সম্পত্তি সমান ভাগ দিতে হবে। এসব বিষয়ে কোনো সঠিক নির্দেশনাই নেই। তিনি বলেন, নারীর সামাজিক-অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, নারী বান্ধব কাজের সুযোগ, নারীর সন্তানের নিরাপদ অবস্থানের নিশ্চয়তা অর্থাৎ ডে কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কোনো আগ্রহ নেই কারো।
তিনি বলেন, গণপরিবহনে নারীকে নিয়ে যা হচ্ছে তাতে কোনো বরাদ্দই নারীকে এগিয়ে নিতে পারবে না। নারীর মুক্ত ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক পরিসরে সিডও সনদের বৈষম্যমূলক একটি ধারা রহিত করে রাখা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সব ধরনের বৈষম্যমূলক আইন বিলোপের ঘোষণা আশান্বিত করে। এখন দেখার বিষয় অন্য অনেক বিষয়ে মতো এটিও কেবলই বলার জন্য বলা কিনা। তিনি বলেন, উত্তরাধিকার প্রশ্নে, সন্তানের অভিভাবকত্বসহ নানা ক্ষেত্রে পারিবারিক আইনে বৈষম্য আছে। এই নারী নেত্রী আরও বলেন, সরকার মূল জায়গায় হাত দিতে রাজি আছে কিনা, যেখানে নারীর বৈষম্য দূরের কথা; নারীর নিরাপত্তা নেই, যেখানে নারী প্রত্যেক জায়গায় প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সেসব জায়গায় প্রশ্ন তোলা যাবে কিনা। সরকারের সব স্তরে যারা নিয়োজিত তাদেরও জেন্ডার সংবেদনশীল প্রশিক্ষণ আছে কিনা, সেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা, সেটিও মনিটর করতে হবে।
খুশি কবির বলেন, গার্মেন্টস সেক্টরে পুরুষদের ট্রেনিং দিচ্ছে সরকার কিন্তু নারীদের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয় নি। আধুনিক প্রযুক্তিতে পুরুষ প্রশিক্ষণ নিলে নারী কেন নিবে না সে প্রশ্ন তোলেন এই নেত্রী। অথচ গার্মেন্টস সেক্টরে নারী শ্রমিক প্রায় সমান সমান। কৃষি কাজেও নারী শ্রমিকের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। প্রযুক্তি প্রশিক্ষনে সব মন্ত্রণালয়েই পিছিয়ে আছে নারী। ফলে বৈষম্য গোড়ায় গলদ বলেও মন্তব্য করেন এই নেত্রী। আইসিটি খাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে খুশি কবির বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ক্রমাগত নারীকে আক্রমণ করা হয়। সেসব ক্ষেত্রেও আইনের প্রয়োগ হয় না। এসব বন্ধ করতে হবে।


সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]