পল্টন থানার ওসির বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অনৈতিক সম্পর্কের প্রমাণ মিলেছে

আমাদের নতুন সময় : 01/10/2019

মাসুদ আলম : রাজধানীর পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হকের বিরুদ্ধে এক নারী ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। ধর্ষণ ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গর্ভপাত করানোর অভিযোগে ভুক্তভোগী ওই নারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) দফতরে অভিযোগ করে। পরে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগ তদন্ত করে এ অভিযোগের আংশিক সত্যতা পায়। গত বুধবার তদন্ত প্রতিবেদনটি ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশের মতিঝিল বিভাগের সবুজবাগ জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মোনালিসা বেগম বলেন, ওই নারীর অভিযোগের বিষয়টি আমি তদন্ত করেছি। প্রাথমিকভাবে ঘটনার আংশিক সত্যতা পেয়েছি। ৮ থেকে ১০ দিন আগে ডিএমপিতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিবেন।
ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, ওসি মাহমুদুল হক এবং আমার গ্রামের বাড়ি নওগাঁয়। ফেসবুকের সূত্র ধরে তার সঙ্গে আমার পরিচয়। ২০১৭ সালে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তিনি আমাকে ঢাকায় ডেকে আনেন। পরে পল্টনে ক্যাপিটাল হোটেলের একটি রুমে নিয়ে যান। হোটেলে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক খাইয়ে আমার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেন। আমার জ্ঞান ফেরার পর বিষয়টি বুঝতে পারি। এ সময় ওসি জানান, তিনি আমাকে ভালোবাসেন। আমাকে বিয়ে করতে চান। স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নয় বলে নানা অজুহাতে এমনকি কোরআন শরীফের ওপরে হাত রেখে আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর প্রতি সপ্তাহে আমাকে ঢাকা ডেকে এনে ওই হোটেলে নিয়ে যেতেন। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেও বিয়ে করেনি। এই বিষয়টা আমি মতিঝিলের ডিসি, এডিসিসহ সবাইকে জানিয়েছি। বাধ্য হয়ে গত ১ আগস্ট আইজিপির কাছে অভিযোগ করেছি।
ওই নারী আরো বলেন, গত বছরের ২০ অক্টোবর বুঝতে পারি, আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ি। বিষয়টি মাহমুদুলকে জানালে তিনি বিয়ের নামে গর্ভপাত করতে বাধ্য করেন। বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকলে ওসি মাহমুদুল একপর্যায়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দেয়। এমনকি ওসির বাবার কাছে গিয়ে বিষয়টি জানানো হয়। বিষয়টির সমাধান না হওয়ায় গত ১২ এপ্রিল ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ওই নারী। মাহমুদুলের স্ত্রী ও এক সন্তান রয়েছে। ২০০১ সালে এসআই পদে পুলিশে যোগদান করেন।
এ বিষয়ে ওসি মাহমুদুল হক বলেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। যার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট। সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]