• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » সপ্তাহখানেক পরই ওয়ার্কাস পার্টির জাতীয় কাউন্সিল,দলের নেতাকর্মীরা মেননের ওপর অসন্তÍুষ্ঠ


সপ্তাহখানেক পরই ওয়ার্কাস পার্টির জাতীয় কাউন্সিল,দলের নেতাকর্মীরা মেননের ওপর অসন্তÍুষ্ঠ

আমাদের নতুন সময় : 24/10/2019

দেবদুলাল মুন্না: চলতি বছরের ১৯ অক্টোবর বরিশালে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, যে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এর আগে তিনি ক্যাসিনেব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে এ অভিযোগ উঠে এ মাসেই। ১৪ দলের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের এই বক্তব্য আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতাকর্মীদের বিক্ষুদ্ধ করেছে। মেননের এই বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মন্ত্রিত্ব পেলে কি মেনন নির্বাচন নিয়ে ‘বিরূপ’ মন্তব্য করতেন? অন্যদিকে বিএনপি নেতারা রাশেদ খান মেননের এ মন্তব্য লুফে নিয়েছেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নিশিরাতের ভোট নিয়ে মহাসত্যটা বলে দিয়েছেন মেনন। ওবায়দুল কাদের ও হাছান মাহমুদও একদিন এই সত্য স্বীকার করবেন। এরপরই অনেকে প্রশ্ন করেন নির্বাচন যদি নিরপেক্ষ না হয় তবে কি রাশেদ খান মেনন পদত্যাগ করবেন? এ বিষয়ে মেনন বলেন,‘আমি পদত্যাগ করব না। আর পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না।’
গতকাল ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ রাশেদ খান মেননের কাছে জাতীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ না হলে উনার পদক্ষেপ করা দরকার। সেটি করবেন না।কারণ মন্ত্রীত্ব পাননি বলে এসব কথা তার বিদ্বেষপ্রসূত।’ ১৪ দলের শরীক সাম্যবাদী দলের প্রধান দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘রাশেদ খান মেনন কেন বলেছেন, তার কথা সঠিক কিনা সেটার জবাব আমি দেব না। তবে তিনি যা বলেছেন তা পদত্যাগ করেই বলা উচিত ছিল।’
এদিকে জানা গেছে ওয়ার্কার্স পার্টিতেও বাড়ছে তাকে নিয়ে অসন্তোষ। কারণ তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতিস্বজনপ্রীতির নানান অভিযোগ। তারা হলেন রাজশাহী-২ আসন থেকে দলটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, সাতক্ষীরা-১ থেকে পলিট ব্যুরোর সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এবং ঢাকা-৮ আসন থেকে দলের সভাপতি রাশেদ খান মেনন। আগামী ২ থেকে ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কংগ্রেস। ওই কংগ্রেস সামনে রেখে দলের বর্তমান নীতি এবং কয়েকজন বিশেষ নেতার বিতর্কিত কর্মকা-ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন কেন্দ্রীয় পলিট ব্যুরোর বেশ কয়েকজন সদস্য। তাদের সঙ্গে একমত হয়ে অবস্থান নিচ্ছেন জেলা পর্যায়ের নেতারাও। তাদের অভিযোগ, সরকারের সঙ্গে থেকে ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্যরা অনিয়ম, দুর্নীতিতে যুক্ত হয়েছেন।সর্বোপরি কমিউনিস্ট আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে দল।
বেশি অভিযোগ রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে। ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে যখন দেশব্যাপী শুদ্ধি অভিযান শুরু হলো তখন সবাইকে অবাক করে দিয়ে এর সুবিধাভোগী হিসেবে নাম উঠে আসল রাশেদ খান মেননের! ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে শুরুর দিকেই রাজধানীর ফকিরাপুলের যে ‘ইয়ংমেন্স ক্লাবে’ অভিযান চালানো হয়েছিল, সেই ক্লাবের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান রাশেদ খান মেনন। ক্লাবের মালিক যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদ খান মেননকে টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন তাদের দেওয়া তথ্যমতে, মেনন প্রতি মাসে সম্রাটের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা নিতেন। এমনকি ইয়ংমেনস ক্লাব থেকে উদ্ধার করা চাঁদাবাজির খাতায় মেননের নাম রয়েছে ৫নং সিরিয়ালে।
এর আগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে এই বামপন্থি নেতার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন দলের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখে আসছেন, এমন অনেককে বাদ দিয়ে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হিসেবে নিজের স্ত্রী লুৎফুন্নেসা খান বিউটিকে বেছে নেন তিনি। এমনকি এ নিয়ে দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনাই করেননি। এতে সে সময় প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলের অনেক কেন্দ্রীয় নেতা। এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পরও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অনিয়মের খবর পাওয়া যায়।বিশেষ করে রাজধানীর দুটি নামি স্কুল ভিকারনুননিসা এবং আইডিয়ালে ভর্তির ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকা ভর্তি-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছিল সে সময়।


সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]