• প্রচ্ছদ » Uncategorized » নতুন কৃষিনীতি গোটা ভারতের কৃষকদের দাসে পরিণত করবে


নতুন কৃষিনীতি গোটা ভারতের কৃষকদের দাসে পরিণত করবে

আমাদের নতুন সময় : 27/12/2020

অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় : ভারত উপমহাদেশের মাটি নীল চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী হওয়ায় ব্রিটিশ নীলকরেরা নীলচাষে বিপুল পুঁজি বিনিয়োগ করে। নদিয়া, যশোর, বগুড়া, রংপুর প্রভৃতি জেলায় নীলচাষ শুরু হয়। উনিশ শতকের শেষের দিকে নীলচাষ অর্থনৈতিক ভাবে লাভজনক না হওয়ায় কৃষকরা ধান ও পাট চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ব্রিটিশ নীলকরেরা অত্যাচার আর নিপীড়নের মাধ্যমে নীলচাষে বাধ্য করলে আন্দোলন গড়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় এক পর্যায়ে বাংলায় নীল চাষ বিলুপ্ত হয়। প্রথমদিকে নীল চাষ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একচেটিয়া অধিকারে ছিলো। ১৮৩৩ সালের সনদ আইনের ফলে তাদের একচেটিয়া অধিকার লোপ পায় এবং ব্রিটেন থেকে দলে দলে ইংরেজ নীলকররা বাংলায় আগমন করে ইচ্ছেমতো নীলের চাষ শুরু করে। তখন থেকেই কৃষকদের ওপর অত্যাচার শুরু হয়। ফলে ১৮৫৯ ফেব্রæয়ারি মার্চ মাসে নীলচাষীরা সঙ্ঘবদ্ধভাবে নীল চাষ করতে অস্বীকৃতি জানায়। প্রথমদিকে এই আন্দোলন অহিংস ছিলো, কিন্তু নীলচাষ না করার কারণে চাষীদের ওপর ভয়ানক নির্যাতন, গ্রেপ্তার শুরু হলে এ আন্দোলন সশস্ত্র বিদ্রোহে পরিণত হয়।
এই বিদ্রোহ বাংলার প্রধান ধর্মীয় গোষ্ঠীদেরও সমর্থন লাভ করে, বিশেষত চাঁদপুরের হাজি মোল্লা, যিনি ঘোষণা দেন নীলচাষ থেকে ভিক্ষা উত্তম। কী করবেন ? ভারতে তো পুনরায় নীলকরদের আবির্ভাব হয়ে গেছে। নব্য নীলকর আদানি ইদানিং সারাদেশে নীলকুঠি বানিয়ে ফেলেছে। তবে নীল নয়, সমস্ত কৃষিজ ফসল চলে যাবে নব্য নীলকর আদানির নিলকুঠিতে। বাংলায় চাষিরা চুপ কেন ? বাংলা ভারতের বাইরে নয়। নতুন কৃষিনীতি গোটা ভারতের কৃষকদের দাসে পরিণত করবে। আদানিদের হুকুমমতো চাষ করতে হবে। শুধু কৃষকরাই নয়, এর কুফল সাধারণ ক্রেতাসাধারণও ভোগ করবে। সময় এলে বুঝবেন? সময় আসেনি এখনও? নতুন কৃষি বিলের বিরোধিতা করে দিল্লিতে কয়েক লক্ষ কৃষক ৩৫ দিন ধরে অবস্থান করে আছে। অনশনরত। গত ৩৪ দিনে দিল্লির কঠিন ঠাÐায় ৪০ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। ফেকুজি এখন বাংলার কৃষকদের দুঃখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]