• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » [১]রূপগঞ্জ জুস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫২, নিখোঁজ অর্ধশতাধিক [২]ঘটনা তদন্তে তিন কমিটি


[১]রূপগঞ্জ জুস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫২, নিখোঁজ অর্ধশতাধিক [২]ঘটনা তদন্তে তিন কমিটি

আমাদের নতুন সময় : 10/07/2021

মাসুদ আলম, আরিফ হোসেন: [৪] শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ফুডস ফ্যাক্টরি থেকে ৪৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। তাদের অধিকাংশ নারী ও শিশু। এসময় নিহতের স্বজনরা কান্না ভেঙে পড়েন। স্বজনরা ছবি হাতে নিয়ে কারখানা ও মর্গের সামনে ভিড় করেন। ৫টি অ্যাম্বুলেন্সে করে মৃতদেহগুলো ঢাকা মেডিকেলের মর্গে পাঠানো হয়। হাড় ও কংকাল ছাড়া বাকি সব পুড়ে গেছে।
[৫] বৃহস্পতিবার বিকেলে অগ্নিকাণ্ডে ঘটনায় লাফিয়ে পড়ে আহত হন দুই শতাধিক। ওইদিনই তিনজনের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিসের ১৮ ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। মর্গে লাশ সারি সারি করে রাখা হয়েছে। ডিএনএ স্যাম্পল সংগ্রহ করছে সিআইডির ফরেনসিক টিম।
[৫] নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ্র সাহা বলেন, মরদেহগুলোর যথাযথ প্রক্রিয়ায় ডিএনএ টেস্ট করে শনাক্ত করা হবে। প্রয়োজনে তাদের মরদেহ ফ্রিজিং করা হবে। আত্মীয়দের সঙ্গে ডিএনএ স্যাম্পল মিলিয়ে পরবর্তীতে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
[৬] ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধন জানান, একটি সিঁড়ি বন্ধ না থাকলে আরও অনেক প্রাণ বাঁচানো যেত। কারখানাটির ভেতরে প্রচুর দাহ্য পদার্থ ও ভোজ্যতেল থাকায় ভয়াবহ হয়ে ওঠে আগুন। আগুনের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি,অগ্নি নির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ও ভবনটি কোড না মেনে নির্মিত হয়েছে ছিল কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
[৭] আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায় এবং কারখানায় হতাহতের খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ শ্রমিকদের দ্রুত সন্ধান চেয়ে স্বজনেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় আটটি মোটরসাইকেল ও ১৫/২০ যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।
[৮] কারখানার গেট সংলগ্ন আনসার ক্যাম্প থেকে চারটি শটগান ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ব্যর্থ হয়ে শ্রমিকরা শটগান পাশের খালে ফেলে চলে যায়। পরে শটগান গুলো উদ্ধার করা করা। [৯] নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা ও আহতদের ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের ঘোষণা করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসক। ফায়ার সার্ভিস এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর পৃথক তদন্ত কমিটি করে। [১০] প্রতিষ্ঠানটির

এক কর্মকর্তা জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় সেকশনের পাঁচটি ফ্লোরে প্রায় চারশ’ শ্রমিক ওভারটাইম করছিলেন। তারা ভেবে ছিলো আগুন নিভে যাবে। ৬ষ্ঠ তলা কারখানাটির চতুর্থ তলায় ললিপপ, তরল চকলেট, তৃতীয় তলায় অরগানিক পানীয় (জুস, লাচ্ছি), দোতলায় টোস্ট বিস্কুট, বিভিন্ন ধরনের পানীয় এবং নিচতলায় বাক্স ও পলিথিন তৈরির কারখানা ছিল। পঞ্চমতলার একপাশে সেমাই, সেমাই ভাজার তেল, পলিথিন; অপর পাশে কারখানার গুদাম ছিল। কারখানার ষষ্ঠতলায় ছিল কার্টনের গুদাম। টানা আগুন জ্বলতে থাকায় ভবনটিতে ফাটলও দেখা দেয়। সম্পাদনা: শাহানুজ্জামান টিটু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]