• প্রচ্ছদ » » শুরু হলো আমাদের ‘১ নং আসল কঠোর লকডাউন’!


শুরু হলো আমাদের ‘১ নং আসল কঠোর লকডাউন’!

আমাদের নতুন সময় : 24/07/2021

সাঈদ তারেক : ১ নং আসল কলিমুদ্দি মিয়ার হোটেল! পাকিস্তান আমলে গোয়ালন্দ ঘাট হয়ে যাদের যাতায়তের অভিজ্ঞতা আছে নামটা তাদের অজানা থাকার কথা না। গোয়ালন্দ ঘাট সেই বৃটিশ যুগ থেকেই একটা গুরুত্বপূর্ণ নদী বন্দর ছিল। বিশেষ করে ঢাকা কলকাতা বা বাংলার পূর্ব অঞ্চলের সাথে পশ্চিমাংশের যোগাযোগের অন্যতম সংযোগ মাধ্যম ছিল এই ঘাট। কলকাতা থেকে সড়াসড়ি ট্রেন আসতো, এখান থেকে জাহাজ যেতো চাঁদপুর নারায়নগঞ্জ ঢাকার বাদামতলী। সে কারণে দিনরাত প্রায় চব্বিশ ঘণ্টাই সরগড়ম থাকতো পুরো এলাকা। ব্যস্ত নদী বন্দর হওয়ায় গোয়ালন্দে তখন বেশকিছু খাওয়ার হোটেল গড়ে উঠেছিল। এর মধ্যে নামকরা ছিল কলিমুদ্দি মিয়ার হোটেল। বেশ বড়সড়, রাতের বেলা হ্যাজাক জ্বলতো। একসঙ্গে অনেক মানুষ বসে খেতে পারতো। রান্না বোধহয় ভালো হতো, সে কারণে মুখে মুখে নামটা ছড়িয়ে গেছিল। যাত্রীরাও প্রায়ই চেষ্টা করতেন অনন্ত কলিমুদ্দি মিয়ার হোটেলে এক ওক্তো খেয়ে যেতে। সে আমলে এই এলাকার হোটেল রেস্টুরেন্টগুলো সম্পর্কে একটা সরস প্রচারণা ছিল- জাহাজের সারেংদের সাথে নাকি তাদের যোগসাজস আছে। অপেক্ষমান জাহাজ থেকে মাঝেমাঝে ভেঁপু বাজানো হতো। ভেঁপু বাজতেই হোটেলের লোকজন ‘জাহাজ ছেড়ে দিলো জাহাজ ছেড়ে দিলো’ বলে হৈচৈ শুরু করে দিতো। কাস্টমাররা পড়িমরি করে কেউ খেয়ে কেউ না খেয়ে বিল দিয়ে দৌড় দিতো। জাহাজে গিয়ে দেখতো ছাড়ার কোনো আলামতই নেই।
প্রায় একই অবস্থার শিকার একবার আমিও হয়েছিলাম। অনেক ছোট বয়সে একবার আমার এক খালুর সাথে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকা এসেছিলাম। ট্রেন থেকে নেমে জাহাজে উঠবো। খালু বললেন, গোয়ালন্দে এলাম কলিমুদ্দি মিয়ার হোটেলে না খেয়ে গেলে চলে! অর্ডার দিয়ে হাতমুখ ধুয়ে কেবল খেতে বসেছি, অমনি জাহাজের সাইরেন। অতবড় ইলিশ মাছের পেটি দুই এক লোকমা মুখেও দেওয়া হয়নি, বেয়াররা চিৎকার করে উঠলো ‘জাহাজ ছাইড়া দিলো জাহাজ ছাইড়া দিলো’! আমাদের আর কীসের খাওয়া, কোনোমতে বিলটা দিয়ে বাক্স পেটারা নিয়ে দৌড়। ভাত তরকারি ডাল সব অমনি পড়ে রইলো। তবে সেবার আসল ভেঁপুই বেজেছিল। আমরা ঘাটে পৌঁছে দেখি জাহাজ ছেড়ে দিয়েছে। পল্টুন থেকে গ্যাপ দশবারো হাত। তাড়াতাড়ি একটা ডিঙি নৌকায় উঠে কোনোমতে জাহাজের কোনা ধরতে পারি। লোকজন আমাদেরকে টেনে তোলে। তো এই কলিমুদ্দি মিয়ার হোটেলের নামডাম এমন ছড়িয়ে যায় একই নামে একাধিক হোটেল গড়ে ওঠে। এই নাম এবং কলিমুদ্দি মিয়া চরিত্রটি আমি আমার এক নাটকে ব্যবহার করেছি। ১৯৮৪ সালে বিটিভি থেকে প্রচারিত ‘আমি তুমি সে’ ধারাবাহিকে সদরঘাট এলাকার দৃশ্যচিত্রে একটা ‘ইতালি হোটেল’ রেখেছিলাম, নাম দিয়েছিলাম ‘১ নং আসল কলিমুদ্দি মিয়ার হোটেল’। সেখানে কলিমুদ্দি মিয়ার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন হানিফ সংকেত, কাজের মেয়ে চরিত্রে ফেরদৌসি মজুমদার এবং সদরঘাটের কুলি চরিত্রে মরহুম সৈয়দ আহসান আলী সিডনি। ‘কলিমুদ্দি মিয়ার হোটেল’ আমি বাহাদুরাবাদ ঘাট ফুলছড়ি ঘাটেও দেখেছি। হয়তো আসল মালিকের জ্ঞাতিগুষ্ঠিরা ওই ব্রান্ডনেমটা ব্যবহার করতে শুরু করেছিলেন, তাতে আদি বা আসল কলিমুদ্দি মিয়ার হোটেল কোনটা এ নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। এর মধ্যে কেউ একজন ‘আসল কলিমুদ্দি মিয়ার হোটেল’ নাম দিয়ে একটা হোটেল খোলে। বোধহয় পরবর্তী সময়ে ওই একই নামে আরও হোটেল চালু হয়েছিল। এরপর দেখা যায় ‘১ নং আসল কলিমুদ্দি মিয়ার হোটেল’! সম্ভবত: এরাই ছিলেন আদি মালিকের উত্তরাধিকারী, অথবা বোঝাতে চেয়েছিলো এইটাই অরিজিনাল, বাকিসব ভুয়া। শুরু হলো আমাদের ‘১ নং আসল কঠোর লকডাউন’। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]