• প্রচ্ছদ » » অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলামের নামে একটি বিশ্বমানের ইনস্টিটিউট করেই কেবল তাঁর স্যাক্রিফাইসকে আমরা যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে পারবো


অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলামের নামে একটি বিশ্বমানের ইনস্টিটিউট করেই কেবল তাঁর স্যাক্রিফাইসকে আমরা যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে পারবো

আমাদের নতুন সময় : 12/09/2021

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন : আমাদের প্রিয় অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম ৩০ বছরের বিলাতী জীবনের অভ্যস্ততা, কেমব্রিজ ক্যাম্পাসে বড় বড় বিজ্ঞানী বন্ধু ও সতীর্থদের সঙ্গে থাকা ও কাজ করার সুযোগ, নিশ্চিন্ত ও নির্ভেজাল জীবন ইত্যাদি অনেক কিছু ছেড়ে একদিন নিজ দেশে ফিরে আসেন। প্রশ্ন হলো: তিনি কি ভুল করেছিলেন? এর উত্তর তিনি নিজেই দিয়ে গেছেন। তিনি বলতেন, ‘বাংলাদেশের একটি ছেলে বা একটি মেয়েকেও যদি আমি বিজ্ঞানের পথে নিয়ে আসতে পারি, যদি তার সামনে মহাবিশ্বের রহস্য অনুসন্ধানের একটি নতুন দরজা খুলে দিতে পারি, তাহলেই আমার দেশে ফেরা স্বার্থক হবে’। কতো বড় গভীরের কথা। আচ্ছা ধরুন উনি ইংল্যান্ডেই থেকে গিয়েছেন এবং মৃত্যুর পরেও ওখানেই রয়ে গেলেন। তাহলে এ হাজার হাজার বাঙ্গালি এখন তাকে প্রতিদিন, প্রতিবছর মনে করি তখন কি করতো? সকল প্রাণীর একটা সহজাত প্রবৃত্তি হলো নিজের লিগেসি রেখে যাওয়া। সেটার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সন্তান উৎপাদন করা। এটা সবাই পারে। কিন্তু জ্ঞান সৃষ্টি করা, কাজের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যাওয়ার মাধ্যমে লিগেসি রেখে যাওয়া এটা কঠিন। এটা সবাই পারে না। তিনি ফিরে আসায় দেশের মানুষ তাকে চিনেছে। তাকে উদাহরণ মেনেছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মও মানবে। ফিরে এসে কতোটুকু পেরেছেন আর কতোটুকু পারেননি তার দায় যতনা তার তার চেয়ে বেশি এই দেশকে যারা চালিয়েছে তাদের। ভারতের জওহরলাল নেহরুর মতো বাংলাদেশের কোনো প্রধানমন্ত্রী থাকলে অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলামকে হোমি ভাবা হিসাবে বিবেচনা করে তার মাধ্যমে বিশাল বিনিয়োগ করে একটি আন্তর্জাতিক মানের ইনস্টিটিউট করা যেতে পারতো। জামাল নজরুল ইসলামের ক্যাপাসিটি ছিলো বিশ্বের সেরা সেরা বিজ্ঞানীদের দেশে এনে আমাদের ছেলে-মেয়েদের গবেষণা উৎসাহিত করার। একটা আন্তর্জাতিক মানের ইনস্টিটিউট খোলার শ্রেষ্ট সময় ওটাই ছিলো। আমরা জামাল নজরুল ইসলামকে ভালো কাজে ব্যবহার করতে পারিনি। এটা আমাদের কূপমণ্ডকতা। আমাদের ব্যর্থতা। তাকে চিটাগং-এ ফেলে রেখেছি। সেখানেও তিনি তার নিজ উদ্যোগে একটি ইনস্টিটিউট করেছিলেন। কিন্তু যথেষ্ট ফান্ডিং এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা কখনই পায়নি।
অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম মনে করতেন ‘বিশ্বে মাথা তুলে দাড়াতে হলে বাংলাদেশের তরুণদেরও বিজ্ঞানের উচ্চতর শাখাগুলোতে অবাধ বিচরণ শিখতে হবে। সেটা কেমব্রিজে বসে নিজের গবেষণা করে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের একটি নতুন, চ্যালেঞ্জিং জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। আর এ কারণেই জামাল নজরুল ইসলাম দেশে ফেরেন। মধ্য আশির দশকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তার মূল বেতন নির্ধারণ করা হয় মাত্র তিন হাজার টাকা। তবে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি জানতেন, তিনি ঠিক সিন্ধান্ত নিয়েছেন। এখানেই তার মহত্ব এবং বড় মনের পরিচয় বহন করে আর এজন্যই মানুষ তাকে মনে রেখেছে এবং ভালোবেসেছে। একটি বিশ্বমানের ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট না করে আমরা কেবল প্রযুক্তি করছি। এর মাধ্যমেই আমরা বলদামির পরিচয় দিচ্ছি। আমরা কেন ভুলে যাই আগে তত্বীয় বিজ্ঞান। যার মাধ্যমে উন্নত মস্তিষ্কের মানুষ তৈরি হবে। তারপরে শুরু হবে প্রযুক্তির বিপ্লব। বিজ্ঞানহীন প্রযুক্তি শিখলে কখনও নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে পারব না। কেবল টেকনিশান হয়েই থাকতে হবে। অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলামের নামে একটি বিশ্বমানের ইনস্টিটিউট করেই কেবল তার স্যাক্রিফাইসকে আমরা যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে পারবো। লেখক : শিক্ষক পদার্থবিজ্ঞান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]