• প্রচ্ছদ » » নির্বাচন আদায় করতে হলে দেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপিকে এখন থেকে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে


নির্বাচন আদায় করতে হলে দেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপিকে এখন থেকে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে

আমাদের নতুন সময় : 12/09/2021

মাহবুব মোর্শেদ : গত নির্বাচনের আগে আওয়াজ উঠেছিলো, এবার বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের ইকুয়েশন চেঞ্জ হয়ে গেছে। ভারত সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখবে না। পরপর দুই টার্ম আওয়ামী লীগকে অকুণ্ঠ সমর্থন দেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই তারা চাইবে না তৃতীয় দফা আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আনতে। তাছাড়া সরকার এখন চীনের দিকে অনেকটাই ঝুঁকে পড়েছে। ২০১৮ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমসে বিশাল প্রতিবেদন করে দেখানো হয়েছিলো বাংলাদেশে কীভাবে চীন বলয়ে ঝুঁকে গেছে। বাংলাদেশের এই পক্ষ পরিবর্তনের কারণে ভারত একটা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে নির্বাচিত একটা সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। বিএনপি নির্বাচিত হলেও তাদের আপত্তি থাকবে না। সমস্যা শুধু দুটি জায়গায়। বিএনপির সঙ্গে জামায়াত থাকলে সমর্থন পাওয়া যাবে না। আর বিএনপির নির্বাচিত হলেও নেতৃত্বে রাখতে হবে অপেক্ষাকৃত সেকুলার ও ভারতপন্থী লোকদের। দৃশ্যত এই দুইটি শর্তই ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপি মেনে নিয়েছিলো। নির্বাচনের আগে জামায়াতকে তারা একরকম দূরে ঠেলে দিয়েছিলো। নীতিনির্ধারণী জায়গায় ড. কামাল হোসেনের মতো মানুষকে স্থান দিয়েছিলো। ধারণা করা হয়েছিলো, ড. কামাল হোসেনরা ভারতের কাছ থেকে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায় করে নিতে পারবেন। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছিল ড. কামাল হোসেনরা ঘটনাটা ঘটাতে পারবেন। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তারা পারেননি। শুধু যে পারেননি তা নয়, পুরো প্রক্রিয়াটা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের বাইরের সকল রাজনৈতিক শক্তি এই কথা বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছে যে সরকার চীন বলয়ে যাক আর মার্কিন বলয়ে থাকুক, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বিকল্প বন্ধু ভারত খুঁজবে না। আগে পরে তারা কার্যত নতুন কোনো বন্ধু খোঁজেওনি।
আওয়ামী লীগ সরকার খুব সুন্দরভাবে একটা ব্যালান্স করে চলেছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার জায়গায় ভারত বেশ প্রভাবশালী সবসময়। আবার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে চীনের একক আধিপত্য। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রই মুরুব্বী। সরকারের এ নীতি নিয়ে এ যাবত ভারত চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষেরই তীব্র আপত্তি দেখা যায়নি। বাজারে কিছু কন্সপিরেসি থিওরি ঘোরে কিন্তু সেগুলোর বাস্তব কোনো ভিত্তি আছে বলে আমার মনে হয় না। একথা সত্যি, তিন পরাশক্তির মধ্যে সমন্বয় করে চলতে চাইলে কিছু সংঘাত হবেই।কিন্তু, বড় ধরনের কোনো মতদ্বৈততা এখনো আমরা দেখতে পাইনি। ফলে, ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্কের স্থায়িত্ব ও গভীরতা সাম্প্রতিক সময়ে কমেছে বলে মনে হয় না। আর সে কারণে বিএনপির দিকে ভারত ঝুঁকে যাবে এমন কোনো পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি। ফলে, জামায়াতকে বাদ দিলে বা তারেক রহমানকে দূরে রাখলে ভারত একটা অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপিকে ক্ষমতায় আসার পথ করে দেবে এমন চিন্তার কোনো ভিত্তি নেই। বিএনপিকে নির্বাচন আদায় করতে হলে দেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে সঙ্গে নিয়ে এখন থেকে আলাপ আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]