• প্রচ্ছদ » » কাকে রক্ত দেবেন, কাকে দেবেন না?


কাকে রক্ত দেবেন, কাকে দেবেন না?

আমাদের নতুন সময় : 13/09/2021

দিপু তৌহিদুল: রাতে পরিচিত একজনের কল পেলাম। তিনি ভনিতা না করেই সরাসরি প্রশ্ন করলেন, ‘আমি কি কাউকে এখন রক্ত দিতে পারবো’? প্রশ্ন শুনে ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়েই উত্তর দিলাম ‘না’। পাল্টা প্রশ্ন করলাম কী কারণে এই কথাটা উঠেছে। তখন তিনি যা বললেন, তার কাজিনের বাচ্চা হবে বলে রক্তটা চেয়েছে তারই খালু, আর সে মেডিকেল গ্রাউন্ড দেখিয়েই মানা করে দিয়েছে। এতে করে উক্ত নয়া আর্থিক বড়লোকগণ ভীষণ রকমের রুষ্ট হয়েছে ও দু’চার কথা শুনিয়ে দিয়েছে। এটা খুব সত্যি যার কাছে তারা রক্তটা চেয়েছিলো সে মেডিকেলি রক্ত দেওয়ার জন্য পুরোপুরি আনফিট, কারণ রক্তের সমস্যার জন্য আমি নিজে তাকে ডাক্তার দেখিয়েছি এবং তার চিকিৎসা এখনো চলছে। এবার তাকে পাল্টা প্রশ্ন করেছি ‘তাদের কি রক্তের জন্য আর সোর্স নেই ?’ সে তখন বললো, উক্ত পরিবারেরই সাতজন একই রক্তের গ্রুপ। কিন্তু তারা সিগারেট খায় না আর নামাজ পড়ে এমন কারোর রক্ত খুঁজতেছে। শুনেই মেজাজ চরমে ওঠে গিয়েছিলো। কারণ [ক] আপনার নিজ পরিবারের ভেতর রক্ত দেওয়ার মতন মানুষ থাকতে বাইরের রক্তদাতা খুজতেছেন। [খ) আপনি নিজে অপবিত্র কামাইর ওপর দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু পবিত্র রক্ত খুঁজতেছেন। [গ) নিজের পরিবারের রক্ত দিতে সক্ষমদের এড়িয়ে আর্থিক দুর্বল আত্মীয় অসুস্থ জেনেও জোর জবস্তি করছেন। আমি নিজে নিয়মিত রক্তদাতা, কিন্তু আর্থিক শক্তিশালীদের কখনোই রক্ত দিতে আগ্রহী হই না, তাদের সরাসরি না করে দিই।
এই না করার পেছনেও একটা ইতিহাস রয়েছে। একসময় খুব খাতিরের এক পরিবারকে চিনতাম, যারা অবৈধ পথে অর্থ কামাইর অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলো। তাদের পরিবারেরই একজন গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর দেখেছি, তারা নিজের পরিবারে রক্ত দেওয়ার মতো লোক থাকতেও যাকে-তাকে ধরে ফাইভ স্টার হসপিটালে রক্তের জন্য নিয়ে শুইয়ে দিয়েছে। শুইয়ে দিয়ে আবার মুখে লেকচার দিতো ‘ইয়ে আমরা হইলাম ইমার্জেন্সি রিজার্ভ ব্লাড’ অর্থাৎ তারা তাদের পরিবারের মানুষটিকে বিপজ্জনক অবস্থায় পড়লে পরে রক্ত দেবে। নাহ, তাদের কাউরেই কখনও রক্ত দিতে হয়নি। এই পরিবারসহ কমপক্ষে আরও গোটা পাঁচেক নব্য আর্থিক শক্তিশালী পরিবারকে দেখেছি, যারা একই কাজ করেছে। তারা নিজেরা স্বজনকে রক্ত না দিয়ে, খাতিরা লোকজন ও আর্থিক দুর্বল মানুষদের খুজে বের করতো। রক্ত নিয়েই তাদের শেষ হতো না, রক্ত দেওয়ার পর রক্তদাতাকে খুব ভালো করে পরোক্ষভাবে বুঝিয়ে দিতো’ দেখো তোমার রক্ত যে আমরা নিয়েছি, এটা আসলে তোমার নিজের সৌভাগ্য’। এর মানে রক্তদাতার কপাল এতোই ভালো যে তারা উল্টো তারে সুযোগটা করে দিয়েছে। করাপ্ট নয়া বিত্তশালীদের নিজে চরম ঘেন্না করি বলেই তাদের রক্ত দেওয়ার বিপক্ষে। যার অনেক টাকা রয়েছে, সে রক্ত কিনা নিক, আমি ক্যান তারে রক্ত দিমু? টাকার রংবাজদের পুছার মতো সময় আমার অন্তত নেই, এরজন্য যদি অমানবিকতার ট্যাগ লাগে তাতে পরোয়া করি না।
একজন বিত্তশালীরে নিজের রক্ত দেওয়ার চাইতে রাস্তার অজানা অচেনা মানুষকে রক্ত উপহার দিয়েও অনেক আরাম বোধ হয়, করিও সেটাই। আর্থিক বিত্তশালীর জন্য রক্ত কোনো সমস্যা নয়, তারা চাইলেই খরচ করে রক্ত যোগাড় করতেই পারে, যা একজন খুব সাধারণ ও গরিব মানুষ পারে না। সত্যিকারের অসহায় মানুষদের রক্তটা দেওয়ার পর, তাদের চোখেমুখে যে আনন্দের আভা দেখি তা অনেক অনেক মূল্যবান মনে করি, এতে তৃপ্তি মেলে। নিজের রক্ত অবশ্যই দিন, তবে সেটা সত্যিকারের বিপদগ্রস্তকে দিন, আর্থিক বড়লোককে ভুলেও না- তাদের জন্য অর্থই সব, তাদের দিলে আপনার রক্ত অপমাণিত হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]