• প্রচ্ছদ » » য্দ্ধুাপরাধীদের বিচার, জামায়াত এবং ব্লগারদের ওপর আক্রমণের দিনগুলো


য্দ্ধুাপরাধীদের বিচার, জামায়াত এবং ব্লগারদের ওপর আক্রমণের দিনগুলো

আমাদের নতুন সময় : 13/09/2021

হাসান মোরশেদ : ২০০৬ সালে যখন কমিউনিটি প্লাটফর্মের বাংলা ব্লগিংয়ের যাত্রা শুরু, মেরুকরণ হয়েছিলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে। জামায়াত-শিবিরের পেইড এজেন্ট এবং বড় বড় রাজাকারের বাচ্চারা পরিকল্পিতভাবে একজোট ছিলো, তাদের মেন্টর ছিলো কয়েকজন, টিমে বুড়ো থেকে কচি খোকা সবই ছিলো, মেয়েও ছিলো কয়েকটা। ভালো গ্রুমিং, ভালো যুক্তি, ভালো প্রস্তুতি ছিলো তাদের। বিপরীতে আমাদের কোনো সাংগঠনিক বা আনুষ্ঠানিক কাঠামো ছিলো না, কেউ কাউকে চিনতামও না। বড় অংশ আমরা তখন প্রবাসে দরিদ্র ছাত্র অথবা ছাত্রত্ব মাত্র শেষ করেছি, দেশেও ছিলেন কয়েকজন। আমাদের ব্যক্তিক তাড়না ছিলো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে অপপ্রচার, মুক্তিযোদ্ধাদের অপমাণ এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিকে নস্যাৎ করার বিরুদ্ধে অনলাইন যুদ্ধটা চালিয়ে যাওয়া।
ব্যক্তিক তাড়না আমাদের অনেককে পরস্পরের কাছে এনেছিলো, সাংগঠনিক কোনো কাঠামো না হলেও একটা আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো আমাদের, আমরা পরস্পরকে চিনে নিয়েছিলাম। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, জাপান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশ মিলে মোটামুটি ২৪ ঘণ্টা আমরা অনলাইন পাহারা দিতাম। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারী কোনো একটা পোস্ট এলেই সঙ্গে সঙ্গে কাউন্টার চলে আসতো। বড় বড় যুদ্ধাপরাধীদের বায়োলজিক্যাল সন্তানেরা আমাদেরকে শারীরিকভাবে আক্রমণের হুমকী দিতো। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই জামাতীদের ওই টিম একেবারেই ভোজবাজির মতো নাই হয়ে যায় ব্লগ থেকে। নাই মানে নাই, যেন তাদের কোনো অস্তিত্ব ছিলো না কোনোদিন। তাদের প্ল্যাটফর্ম সুবিধা যারা দিতো তারাও চেহারা পাল্টায়। ব্লগসাইটের বদলে ফেসবুক তখন জনপ্রিয় হতে থাকে, লড়াইটা ফেসবুকে চলে আসে কিন্তু ক্রমশ মানহীন হতে থাকে। তথ্যের বদলে গুজব আর গুজব মোকাবেলায় দুর্বলতা প্রকাশ হতে থাকে। ২০০৯ থেকে যখন সত্যি সত্যি আওয়ামী লীগ সরকার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে তখন থেকে, আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গণজাগরণ ও ৫ মে হেফাজতী তাণ্ডবের বিরুদ্ধে সরকারের অ্যাকশনের পর আশ্চর্য ঘটনা ঘটে। ব্লগ যুগে একসঙ্গে এ ইস্যুতে সহযোদ্ধা ছিলাম এমন কয়েকজনকে আবিষ্কার করলাম পুরো বিপরীত চেহারায়। এতোদিন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে লিখেছেন, সোচ্চার থেকে সময় দিয়েছেন সেরকম উচ্চ শিক্ষিত কয়েকজনকে দেখলাম- তারা সরকারের ‘ইসলাম বিরোধী’ ভূমিকায় ক্ষুব্ধ। তারা কেবল বিশ্বাস নয়, প্রচার করাও শুরু করলেন যে যুদ্ধাপরাধী বিচারের নামে আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠে ইসলামী ব্যক্তিত্বদের নির্মূল করে দিচ্ছে। বিস্ময়ের আরেক পিঠও দেখলাম এসময়। ব্লগারদের ওপর আক্রমণ, ব্লগারদের হত্যার ঘটনা যখন ঘটতে থাকলো ২০১৬ পর্যন্ত তখন একটা পক্ষ ন্যারেটিভ দাঁড় করালেন-এগুলো আসলে সরকারেই কাজ। অর্থ্যাৎ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন এমন কেউ কেউ সরকারকে দায়ী করলেন ইসলাম বিরোধী অবস্থান নেওয়া আবার একই দাবিতে সোচ্চার কেউ কেউ সরকারকে অভিযুক্ত করলেন ইসলামিস্টদের দিয়ে ব্লগারদের হত্যা করানোর।দ্বিতীয় অভিযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেকে দেশের বাইরে চলে গেলেন এসাইলাম নিয়ে। তাদের কারও কারও যাওয়াটা জরুরি ছিলো, দেশে আসলেই তারা নিরাপত্তাহীন ছিলেন এবং সরকার তাদের নিরাপত্তা দিতে পারছিলো না। কিন্তু বড় একটা অংশ কেবল সুযোগ নিয়েছিলেন। এই সুযোগ নেওয়ারা ছিলো মূলত ফেসবুকার, ব্লগে যখন কন্টেন্ট দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষের প্রচারণা মোকাবেলা করা হয় তখন তারা কেউ ছিলো না। এক বন্ধু মজা করে বলেছিলো-ইস্ট লন্ডনের গলিতে এখন যার সঙ্গেই ধাক্কা লাগে সে বাংলা ব্লগের বিরাট ব্লগার। লেখক ও গবেষক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]