• প্রচ্ছদ » » এক বাহিনীর দুর্নীতি রোধে অন্য বাহিনীর ওপর নির্ভরশীলতা কখনোই কোনো সমাধান নয়


এক বাহিনীর দুর্নীতি রোধে অন্য বাহিনীর ওপর নির্ভরশীলতা কখনোই কোনো সমাধান নয়

আমাদের নতুন সময় : 20/09/2021

ইহতিশাম আহমেদ : দক্ষিণ ভারতের একটা সিনেমা দেখতেছিলাম। অর্ধেকটা দেখে বন্ধ করে রেখেছি। পরে হয়তো বাকিটা দেখবো। সামরিক বাহিনীর লোকেরা এসে সমাজের অপরাধ দমন করতে অপারগ পুলিশের কাজ করে দিয়ে যাচ্ছে, এমন সিনেমা দেখে দেখে ক্লান্ত হয়ে গেলাম। অনেকদিন ধরেই দেখতেছি ‘পুলিশের চেয়ে আর্মি বড়’ মেসেজ দিয়ে সিনেমা বানানো হচ্ছে। এই চলচ্চিত্রগুলো দর্শকদের ইমোশনের সুযোগ নিয়ে ভীষণ ভুল একটা মেসেজ দিচ্ছে। বস্তুত এক বাহিনীর দুর্নীতি রোধে অন্য বাহিনীর ওপর নির্ভরশীলতা কখনোই কোনো সমাধান নয়। কারণ, দুই বাহিনীর কর্মক্ষেত্র সম্পূর্ণই ভিন্ন এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে দুই বাহিনীই একটি দেশের জন্য অতি প্রয়োজনীয়। এখানে তুলনা করার কোনো সুযোগই নেই। মিলিটারির কাজ শত্রু নিধন করা। তাই তাদের হাতে দেশের সবচেয়ে ভারী ও স্বয়ংক্রিয় সব অস্ত্র থাকে। তাদের অল্প সময়ে শত্রু হত্যা করবার ট্রেনিং থাকে। বলা যায়, তাদের কর্মকাণ্ড শুরুই হয় গোলাগুলি দিয়ে। তাই অস্ত্রপাতি ও যুদ্ধবিদ্যায় মিলিটারি পুলিশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। অপরদিকে, পুলিশের কাজ নিজ দেশের নাগরিকদের বে-লাইনে গেলে লাইনে নিয়ে আসা। তাই পুলিশি অ্যাকশনগুলো হলো- অপরাধী অপরাধপ্রবণ মানুষকে সাবধান করা, বোঝানো, হুমকি দেওয়া, ফাঁকা গুলি করা, অ্যারেস্ট করা এবং আদালতে সোপর্দ করা। কাউকে গুলি করা পুলিশি কর্মকাণ্ডের সর্বশেষ অপশন। পুলিশ একটি সিভিল ফোর্স। তাদের কাজ মোটেও শত্রুদের সঙ্গে নয়। তাই, সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দক্ষতায় পুলিশ মিলিটারি চেয়ে অনেক এগিয়ে। প্রকৃতপক্ষে, সামরিক লোকদের দিয়ে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা বেশ দুরূহ। তাই তো জাতিসংঘের শান্তি মিশনে যাওয়ার আগে সামরিক বাহিনীর লোকদের, কীভাবে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হয়, তাদের সুবিধা-অসুবিধা বুঝতে হয়, তার জোর ট্রেনিং দেয়া হয়। তবে এই চলচ্চিত্রগুলোর দর্শক গ্রহণযোগ্যতায় কিন্তু একটি সামাজিক চিত্র পরিষ্কার হয়ে যায়। তা হল, এই উপমহাদেশে পুলিশের উপর জনগণের আস্থা এতই কম যে, তার বিকল্প খুঁজতেই বোধহয় তুলনামূলকভাবে গায়ে-গতরে বেশি শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর উপরেই আমাদের ব্যাপক আস্থা। বিষয়টা কিন্তু মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়।
পুলিশের কাজ যদি মিলিটারি করে, তবে কি মিলিটারির কাজ পুলিশ করবে? পারবে করতে? অপরদিকে সামরিক বাহিনীর পেছনে যা ব্যায়, তাতে করে তারা যদি পুলিশের কাজ করা শুরু করে, তবে তা হবে জনগণের পয়সার চরম অপচয়। সম্ভাব্য যুদ্ধ প্রস্তুতির খরচ আর সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার খরচ কখনোই এক সমান হতে পারে না। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]