• প্রচ্ছদ » » কু-শিক্ষার কারণে ‘আলো’ হয়েছে ‘আগুন’ এবং আলোর খোঁজে আসা পতঙ্গসম শিক্ষার্থীরা যুগে যুগে পুড়েছে ধিকি ধিকি আগুনে!


কু-শিক্ষার কারণে ‘আলো’ হয়েছে ‘আগুন’ এবং আলোর খোঁজে আসা পতঙ্গসম শিক্ষার্থীরা যুগে যুগে পুড়েছে ধিকি ধিকি আগুনে!

আমাদের নতুন সময় : 20/09/2021

সায়েদুল হক খান: অনৈচ্ছিক দীর্ঘ-বন্ধের পর, সারা দেশের সরকারী ও স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ খুলতে যাচ্ছে। আবাসিক-হল, শ্রেণিকক্ষ, পাঠাগার, পাঠকক্ষ, ভজনালয়, ভোজনালয়, ইত্যাদি ব্যবহার হওয়া শুরু হবে। দীর্ঘদিন এসমস্ত স্থাপনাসমূহ বন্ধ থেকে, তাৎক্ষণিক পুনঃব্যবহারের উপযুক্ততা রয়েছে কিনা, তা ভেবে দেখা ও খোঁজ নেওয়া যুক্তিযুক্ত। আবাসিক কক্ষগুলোতে শিক্ষার্থীদের রেখে যাওয়া তোষক, বালিশ, মশারী, লেপ, কাঁথা, বই-পুস্তক ইত্যাদি আবদ্ধ অবস্থায় থেকে ধূলা, বালি, মাকড়সা, পোকা ইত্যাদি জমে থাকতে পারে, কক্ষগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ থেকে গুমটে হতে পারে, চেয়ার-টেবিলে ছত্রাক জন্মাতে পারে, জং-ধরা তালা, পানির কলগুলোর প্রবাহ, মরচে ধরা পানির লাইনগুলো, দু’একজনের পেটের পীড়াও হতে পারে, পানির ট্যাংকগুলো পরিষ্কার করা লাগতে পারে, ভোজনালয়ের হাড়ি-পাতিল-থালাবাসন, ভজনালয়ের জায়নামাজ জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত ইত্যকার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে যদ্দুর করা সম্ভব তা করে, বাকিটুকু আগমনেচ্ছু শিক্ষার্থীদের আগাম জানিয়ে, তাদের অন্তত মানসিক প্রস্তুতির নির্দেশ রাখা যেতে পারে। প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট, সিন্ডিকেট, প্রাক্তনি সমিতি, শিক্ষক সমিতি, ছাত্র সংগঠন, বিভিন্ন শিক্ষক দল, ছাত্রদের দল, বিভিন্ন উপদল, কর্মচারী সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি রয়েছে তাদের কেউই এ সমস্ত বিষয় যথেষ্ট বিবেচনা করছেন বলে মনে হচ্ছে না।
‘খুলবে’ ‘খুলবে’ এই সম্ভাবনায় নীলক্ষেত-বিশ্ববিদ্যালয়ে হাত-ধোয়ার-ব্যবস্থা, টালি-বিছানো-টয়লেট এবং চুনকাম হয়েছে যার প্রায় সবই বহির্বাসীয় কিন্তু অন্তর্বাস এখনও যথেষ্ট পরিষ্কার নয়, অথচ অন্তর্বাসের সঙ্গে শরীরের সম্পর্ক, শরীরের সঙ্গে সম্পর্কিত মন, আর মন-এর সঙ্গে আধ্যায়নং তপঃ? গ্রান্টস কমিশন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ডোজ পুশ করার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, কিন্তু রোজ বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে পুছ করছেন না, তারা সর্বাঙ্গে প্রস্তুত হয়েছেন কি না? ‘এক-ব্যবস্থা- হয়ে-যাবে’ বলে বলে আমরা ছাত্রসংখ্যা বাড়িয়েছি, একজনের কক্ষে চারজন থাকায় অভ্যাস করে, গণরুমে উপচে-পরে, ফুটপাতে ছিটকে যেয়ে, ফুলকো আশাকে ঠুনকো করে, হারানো-স্বপ্নের-ধ্বজা কে দীর্ঘশ্বাসে ফুঁকে দিয়ে, হয়েছি ভঙ্গ। স্বপ্নভঙ্গের এই ক্ষোভ ভেতরে ভেতরে পুঞ্জীভূত হয়েই আছে।‘শিক্ষাই আলো’ কথাটা সত্য বটে, একজন যার ইংরেজি করেছিলেন: কহড়ষিবফমব রং ঋরৎব, যদিও এই ঋরৎব জিনিসটার বাংলা ‘আলো’ নয়, ‘আগুন। এই আগুন জিনিসটার প্রতি নীলক্ষেতের আকর্ষণ প্রায় শত বছরের, যে কারণেও, এখানকার যুবকরা হর-হামেশাই স্লোগান ধরে: ‘জ্বালো, জ্বালো, আগুন জ্বালো’ অন্যদিকে রবিঠাকুর উস্কিয়ে গেছেন ‘ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে, আগুন জ্বালো, আগুন জ্বালো’। কু-শিক্ষার কারণে ‘আলো’ হয়েছে ‘আগুন’ এবং আলোর খোঁজে আসা পতঙ্গসম শিক্ষার্থীরা যুগে যুগে পুড়েছে এই ধিকি ধিকি আগুনে, ইদানিং যে আগুন চড়াও হয়েছে কোভিড-১৯ এর উৎপাতে। এই চড়াও অবস্থাতে, করোনার মত সর্বস্বীকৃত ভাইরাস পাশে নিয়ে এবং তলব-ইলমদের ফিরতি-উদ্যম মাথায় রেখে এক-ব্যবস্থা-হয়ে-যাবে বলে স্বস্তি খোঁজার চেয়ে বরং উল্লিখিত কাজগুলো নিয়ে ভাবা উচিত। এগুলো করতে যে জনবল, অর্থবল এবং সময় লাগবে, তা প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতেই রয়েছে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]