• প্রচ্ছদ » » ক্রিয়েটিভ বিজনেসম্যানদের পাশে গভর্মেন্ট যদি না দাঁড়ায়, শুধু কাপড় সেলাই করে আর দিনমজুর এক্সপোর্ট করে একটা দেশ কোনোদিনও উন্নত হতে পারে না


ক্রিয়েটিভ বিজনেসম্যানদের পাশে গভর্মেন্ট যদি না দাঁড়ায়, শুধু কাপড় সেলাই করে আর দিনমজুর এক্সপোর্ট করে একটা দেশ কোনোদিনও উন্নত হতে পারে না

আমাদের নতুন সময় : 22/09/2021

শোয়েব সর্বনাম: ইভ্যালির রাসেলকে কখনও আমার বাটপার জাতীয় কিছু মনে হয়নি। এই লোকটাকে ক্রিয়েটিভ ধরনের বিজনেসম্যান হিসেবে আমি দাবি করব। গ্রেফতারের পর থেকে আমি একটু গভীরভাবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো লক্ষ্য করলাম। রাসেলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব অভিযোগ করছে, তার পরিকল্পনা ছিলো বিদেশি কোনো ইনভেস্টরের কাছে প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া। এইটা তো কোনো অভিযোগ হতে পারে না। বিদেশি কোম্পানির কাছে শেয়ার বিক্রি করা কোনো অপরাধ না। শেয়ারবাজার থেকে পুঁজি সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিলো তার। এটাও অপরাধ না। এটাই ব্যবসার নিয়ম। কোনো সন্দেহ নেই, ইভ্যালি একটা এক্সপেরিমেন্টাল প্রতিষ্ঠান। একটা নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ শুরু করছে তারা। বাংলাদেশে আরও দুইটা এক্সপেরিমেন্টাল বিজনেস আইডিয়া নিয়ে সাকসেসফুল হয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের কথা বলা যাবে বিকাশ আর পাঠাও। বিকাশ এখন রাজত্ব করে বেড়াচ্ছে।
ব্যবসার একটা পর্যায়ে তারা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে শেয়ার বিক্রি করছে। পাঠাও লিমিটেডও সেইম। টোটালি এক্সপেরিমেন্টাল বিজনেস, এখন একটা বড় শেয়ার বিদেশি কোম্পানির কাছে বিক্রি করে পুঁজি সংগ্রহ করছে। এই দুইটা কোম্পানিই শেয়ারবাজারে ঢুকে পরছে। সেখান থেকেও তারা পুঁজি কালেক্ট করতেছে। তো, ইভ্যালি সেটা করতে চাইলে সমস্যাটা কোথায়? দ্বিতীয় অভিযোগ, রাসেল ইনভেস্টর না পাইলে প্রতিষ্ঠানকে দেউলিয়া ঘোষণা করে দিতে চেয়েছিলো। এটাও কোনো অভিযোগ হতে পারে না। যেকোনো প্রতিষ্ঠানই বাণিজ্যিকভাবে আর লাভ করতে না পারলে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করতে পারে, এটা প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্রেই থাকে। এটা লিগ্যাল সিস্টেম, ক্রাইম না। রাসেলের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের কোনো ইংগিত পাওয়া যায়নি। টাকাপয়সা নিয়ে ভেগে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই, এটাও স্পষ্ট। বিদেশ যাওয়ার কোনো হিস্ট্রি তার পাসপোর্টে নেই। দেশের বাইরে টাকা পাচারের কোনো প্রমাণ নেই। ইভ্যালির টাকা অন্য কোথাও সরায় ফেলার কোনো চেষ্টাও দেখা যায়নি। তার একটা বিজনেস প্ল্যান ছিলো। প্ল্যানটা ফেল করছে। কুয়াকাটার এক হুজুর ধর্মের নাম বেঁচে পাবলিকের সতেরো হাজার কোটি টাকা মেরে দিছে, অথচ তার কোনো বিজনেস প্ল্যানই ছিলো না। তার উদ্দেশ্যই ছিলো ধান্দাবাজি। তার বিপরীতে ইভ্যালির রাসেল মাত্র পাঁচশ কোটি টাকার ঘাটতিতে ছিলো বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে। তারে ক্রিমিন্যাল বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ধান্দাবাজ আর ব্যবসায়ি দুইটা দুই জিনিস, মিডিয়া দুইটারে এক করে ফেলতেছে। ব্যবসা করা কি ক্রাইম? সর্বোপরি, রাসেল ইভ্যালিকে যেকোনোভাবে দাঁড় করানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছিলো। সে ব্যর্থ হয়েছে, বারবার সময় চাইছে, তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিলো প্রতিষ্ঠানটা সফল করে তোলা। এর বাইরে তার আর কোনো উদ্দেশ্য দেখা যায়নি। তার বিজনেস মডেলটা ফেল করছে। সে একটা নতুন আইডিয়া নিয়ে মাঠে নামছে, আইডিয়াটা ঠিকঠাক কাজ করতেছে না। রাসেলের ভুলগুলা থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্য কেউ সফল হতে পারবে না এই কথা বলা যাবে না। বাংলাদেশে চুরি বাটপারি করে বেশকিছু ব্যাংক ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিলো। গভর্মেন্ট লোন দিয়ে ব্যাংকগুলাকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ব্যাংকের মালিকেরা ভেগে গেলো। লুটপাট করে ধ্বংস করে দেওয়া প্রাইভেট ব্যাংকগুলোকে যদি গভর্মেন্ট লোন দিয়ে পুণরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করতে করতে পারে, ইভ্যালিকে কেন নয়? আমি অর্থনীতি বুঝি না, একদমই ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে বলতেছি, আমার ভুল হতে পারে, আমার কম্পারেটিভ লজিকগুলা ঠিক আছে কিনা অর্থনীতির লোকেরা ধরায়ে দিয়েন। তবে এইটুকু বুঝি, ব্যবসা একটা ক্রিয়েটিভ ব্যাপার, অন্তত এই যুগে। ক্রিয়েটিভ বিজনেসম্যানদের পাশে গভর্মেন্ট যদি না দাঁড়ায়, শুধু কাপড় সেলাই করে আর দিনমজুর এক্সপোর্ট করে একটা দেশ কোনোদিনও উন্নত হতে পারে না। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]