• প্রচ্ছদ » » স্বপ্ন দেখুন, নিজেকে তৈরি করুন, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শিখুন


স্বপ্ন দেখুন, নিজেকে তৈরি করুন, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শিখুন

আমাদের নতুন সময় : 26/09/2021

খুজিস্তা নূর-ই নাহারিন : দৃশ্যমান জগতের বাইরেও প্রতিটি মানুষের আলাদা একটি নিজস্ব চিন্তার ভুবন থাকে। যেখানে সে যখন খুশি ঢুকে আবার বের হয়। এই ভুবনটা সকলের মাঝে থেকেও একদম আলাদা অন্য সবার ধরা ছোঁয়ার বাইরে। অতি সংগোপনে ভীষণ যত্ন করে মাঝে মাঝে সে খুলে দেখে, কিছুটা সময় দোল খায়, স্বপ্নের দুনিয়ায় ভেসে বেড়ায়,সম্বিত পেয়ে আবারও বাস্তবতায় ফিরে আসে। হ্যাঁ আমি আপনার একান্ত স্বপ্নের জগতটার কথাই বলছি। এই স্বপ্নকে ছুঁতে হলে নিজেকে তৈরি করতে হয়। যে নিজেকে যতো বেশি উপযুক্ত করে তৈরি করতে পারে সে ততো সহজে স্বপ্নকে ছুঁতে পারে। সব স্বপ্ন সবার জন্য নয়, আবার সবার সব স্বপ্ন পুরন হবে এমন কোনো কথা নেই। যার যার স্বপ্ন তার। স্বপ্ন যতো স্পষ্ট আর শক্তিশালী হবে বন্ধুর পথটাকেও মসৃণ মনে হবে। আর ইচ্ছাশক্তি দুর্বল হলে স্বপ্নটাকে প্রচণ্ড কষ্টসাধ্য আর দুরূহ মনে হবে। প্রতিটি মানুষের বেড়ে ওঠার জন্য সামনে একটি স্বপ্ন, ইচ্ছাশক্তি কিংবা গোল থাকা জরুরি। নিজে নিজে ভেবে কল্পনা করুন ৫ বছর পরে আপনি নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চান? ১০ বছর পর কি? ১৫ বছর এবং ২০ বছর পর কি? তারপর কি? ঠিক ৩৫ বছর আগে আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি আমার সামনে একই সঙ্গে পড়াশোনা, বিয়ে, মডেলিং, টেলিভিশন নাটকের নায়িকা হওয়ার অফার ছিলো। আমি সবচেয়ে কঠিন লেখাপড়ার পথটিই বেছে নিয়েছিলাম।
মাস্টার্স পরীক্ষার পর বিয়ে করে বারডেমে চাকরিতে জয়েন করি। এই সময়ে আবারও সুযোগের হাতছানি। স্কলারশিপ নিয়ে উন্নত দেশে পিএইচডি করা কিংবা সংসারকে বাড়িয়ে নিতে সন্তান উৎপাদন। স্বামীর মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে আমি সংসারকে বেছে নেই, সন্তান লালন পালনের জন্য চাকরিকে বিদায় জানাই। রসায়ন এমন একটি সাবজেক্ট উন্নত দেশে চাকরি পেতে অসুবিধা নেই। বার বার বিদেশের হাতছানি কিন্তু স্বামী যাবেন না আর তাকে দেশে একা ফেলে যাওয়া সম্ভব নয় অগত্যা সিম্পলি হাউজ ওয়াইফ। গুছিয়ে কাজ করা আমি সব কাজ স্বল্প সময়ে শেষ করে স্বামীকে বারংবার ফোনে ডিস্টার্ব করি। কি করবো একা একা সময় যে কাটে না। স্বামী বিরক্তি হন, একদিন বলেই ফেললেন, ‘এতো সময় নেই গল্প করার। নিজে নিজের সময় কাটানোর ব্যবস্থা করো’। একই সঙ্গে প্রচণ্ড অভিমান, মন খারাপ আবার খুশির ঝিলিকও দেখা দিলো। মন খারাপ হলো স্বামীর সঙ্গ না পাওয়ার বেদনাতে আর ভালো হলো একচ্ছত্র আধিপত্যবাদে বিশ্বাসী আমার স্বামী হঠাৎ ই আমায় স্বাধীন করে দিলেন। মনে এক ধরণের নির্মল আনন্দ, বহুদিনের প্রত্যাশিত মুক্তির স্বাদ। হঠাৎ বৃষ্টিতে মুখে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা লাগলে যেমন লাগে ঠিক তেমনটি। আহা!১৫ টাকা দিয়ে হুট খোলা রিকশায় চরে লম্বা খোলা চুল বাতাসে উড়াতে উড়াতে পুঁজি বাজারে ঢুকলাম।
এখানে এসে বুঝলাম মূলত বুদ্ধির খেলা, পয়সা দিয়ে সময় কেনা। খোলা চুল নয় টাইট করে খোঁপা বেঁধে তবেই নামতে হবে।পুরুষদের জগতে জায়গা করার জন্য নানাবিধ পরীক্ষার জন্য নিজেকে তৈরি করতে হয়। বিজ্ঞানের ছাত্রী এক অংক ছাড়া ফিনেন্স,একাউন্টিং, অর্থনীতির কিছুই জানি না। আবারও দুটি পথ খোলা। বিশ্ববিদ্যালয়ে রাত্রিকালীন শিক্ষার্থী হয়ে সার্টিফিকেট সহ জ্ঞানার্জন অথবা বাসায় শিক্ষক রেখে নিজেকে স্বশিক্ষিত করা। একমাত্র কন্যা সেই সময়ে দুধের শিশু, দুই হাতে ফিডার ধরে খায়। কন্যাকে বাসায় রেখে এতোটা সময় বাইরে কাটানো সম্ভব নয়। অতঃপর বাসায় শিক্ষক আসা শুরু। একজন নারী যদি ভাবে আমি নারী অন্যরাও কেবল তাকে নারীই ভাববে। অন্যদের চোখে সমীহ দেখতে হলে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার কোনো বিকল্প নেই, প্রতিনিয়ত দৃশ্যমান অদৃশ্যমান নানা পরীক্ষা তো দিতেই হবে। প্রথা ভাঙ্গা প্রথম নারীকে অন্যরা বাজিয়ে দেখতে চাইবে খুব স্বাভাবিক। জীবনের এই লম্বা সফরে কতোশতো বার বৈরী সময়ের সঙ্গে স্বপ্নের গতিপথ পরিবর্তন করতে হয় তার হিসেব রাখে না কেউ। দিনশেষে দেখে আপনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন। জীবনে কি হতে চেয়েছিলাম, কি হয়েছি, আর কি হতে পারিনি ভেবে লাভ নেই। হাতে যতোগুলো অপশন ছিলো সব সময় কারেক্টটি চুজ করতে বা বেছে নিতে পেরেছি বলেই মনে কোনো আফসোস নেই। অবসরে কখনো সখনো যদি মনের গোপন কুঠরিতে প্রবেশ করি, পিছু ফিরে দেখি মনে হয় সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছি বলেই আজও আমি ভালো আছি নতুবা যেকোনো ভুল সিদ্ধান্তে বানের পানির সঙ্গে অনেক আগেই খর কুটোর মতো ভেসে যেতে হতো। স্বপ্ন দেখুন, নিজেকে তৈরি করুন, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শিখুন। জীবনের একমুখী পথে ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। আর কোনোকিছু নিয়ে আফসোস করে লাভ নেই। জীবনের চারিপাশে এতো বেশি আহরণের উপাদান ছড়ানো ছিটানো আছে যে যোগ্যতা থাকলে নিয়ে শেষ করতে পারবেন না। যোগ্যতাটাই সবচেয়ে আপন। বৃথা সময় নষ্ট না করে নিজেকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলুন দেখবেন পুরো পৃথিবীটাই কোনো এক অলক্ষ্য শক্তিতে আপনার হয়ে গেছে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]