• প্রচ্ছদ » » [১]মাছের আঁশে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন কুমিল্লার মাহবুব


[১]মাছের আঁশে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন কুমিল্লার মাহবুব

আমাদের নতুন সময় : 26/09/2021

শাহাজাদা এমরান: [২] দুর্গন্ধযুক্ত মাছের আঁশ গুলো পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য এত দিন ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করলেও এখন তা আর্শিবাদ হিসেবে দেখা দিয়েছে কুমিল্লার মাহবুবের কল্যাণে। মাছের আঁশের ভিতরই আগামীর সুখ স্বপ্ন দেখেন এই তরুণ। [৩] উচ্ছিষ্ট মাছের আঁশ একদিন পরিপূর্ণ একটি শিল্পের মর্যাদা পাবে সেই আশা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন বুনছে মাহবুব। [৪] কুমিল্লার এই মাছের আঁশ এখন দেশের গন্ডি পেরিয়ে রপ্তানি হচ্ছে সুদুর চীনে। আয় হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা ,ভূমিকা রাখছে কর্মসংস্থানে।
[৫] মহানগরীর ১৬নং ওয়ার্ডের সংরাইশ এলাকার ইয়াকুব আলীর সন্তান মাহবুব।বাবা-মার চার ছেলে মেয়ের মধ্যে মাহবুব সবার বড়। গত বিশ বছর ধরে তিনি কুমিল্লার রাজগঞ্জ বাজারে মাছ কাটেন আর ১০ বছর ধরে মাছের আঁশের ব্যবসা করেন। এখন তার দেখাদেখি আরো কয়েকজন এই মাছের আঁশের ব্যবসা শুরু করেছেন। [৬] মাহবুব জানান, একদিন ঢাকার দেখা হলো এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তিনি জানান, মাছের আঁশ গুলো বাসা বাড়ি কিংবা বাজার থেকে সংগ্রহ করে শুকিয়ে আমাকে দিলে আমি কেজি প্রতি তোমাকে ৪০ টাকা দিব।
[৭] এ কথা শুনে কুমিল্লা এসে একটি পাত্র নিয়ে সকালেই চলে গেলাম রাজগঞ্জ বাজারে। বাজারে দুপুর পর্যন্ত থেকে মাছের আঁশ সংগ্রহ করে ঝাকুনী পাড়া সংলগ্ন এই গোমতী নদীর পাড়ে শুকিয়ে ঐ ব্যবসায়ীকে দিলাম ৬ কেজি মাছের আঁশ।
[৮] তিনি আমাকে ৪০ টাকা ধরে ২৪০ টাকা দিলেন নগদ। এতে আমার আস্থা এবং উৎসাহ বেড়ে গেল। এরপর থেকে কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ, চকবাজার, রানীর বাজার, টমছমব্রিজ, বাদশা মিয়ার বাজার,পদুয়া বাজার চৌয়ারা বাজার, ক্যান্টনমেন্ট বাজারসহ নানা বাজারে লোক নিয়োগ করি। আমার এ কাজে আমাকে ছয় জন সহযোগিতা করেন। যারা প্রত্যেকেই মাসিক বেতনভুক্ত। আমার এই সহযোগিরা বিভিন্ন বাজার থেকে মাছের আঁশ সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন আর আমি তা শুকিয়ে প্রস্তুত করি। [৯] ঢাকার পাইকাররা আমার বাড়ি এসে প্রতি মাসে এই মাছের আঁশ নিয়ে যান। মাসে গড়ে আমি ৬০০ কেজি মাছের আঁশ শুকিয়ে বিক্রির উপযোগী করতে পারি। [১০] মাছের আঁশ সংগ্রহ করতে মাছ কাটাদের কোন টাকা দিতে হয় কিনা জানতে চাইলে মাহবুব জানান, প্রথম প্রথম দিতে হতো না। তাদের আমি টাকা দেই। তারাও নির্দিষ্ট একটি পাত্রে রেখে দেয়। আমার লোকজন গিয়ে নিয়ে আসে। [১১] কুমিল্লার বাদশা মিয়া বাজারের বাদশা আর চান্দিনার আরেকজনও আমার মত এই ব্যবসা করে। এই মাছের আঁশ দিয়ে কি করে জানতে চাইলে মাহবুব বলেন, আসলে কি করে আমি কখনো পাইকারদের কাছে জানতে চাইনি এবং তারাও আমাকে বলেনি। তবে এতটুকু জানি এগুলো চীনে রপ্তানি হ্য় এবং এগুলো দিয়ে মানব দেহের মূল্যবান উপকরণ তৈরি হয়। [১২] কুমিল্লা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন বলেন, মাসের আঁশ শুকিয়ে বিদেশে রপ্তানি করার কথাটি শুনেছি। আমি আমার লোক দিয়ে মাহবুবকে অফিসে এনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিব কিভাবে আরো সঠিক ভাবে এই কাজটি সে করতে পারে। সম্পাদনা: সোনিয়া আক্তার




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]