• প্রচ্ছদ » » ‘অপারেশন বাজপেয়ি’ এবং ‘ফুলের তোড়া


‘অপারেশন বাজপেয়ি’ এবং ‘ফুলের তোড়া

আমাদের নতুন সময় : 13/10/2021

ফারুক মাঈনুউদ্দিন : ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ির হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করে কৃত্রিম হাঁটু সংযোজন করা হয়েছিলো ২০০০ সালের ১০ অক্টোবর। মুম্বাইর ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচার নিয়ে মুম্বাইর বিভিন্ন মিডিয়া ছিলো সরগরম। কাগজগুলো নানা সরস ক্যাপশন আর কার্টুন-সহযোগে প্রকাশ করছিলো বিভিন্ন সংবাদ। একটা কাগজ তো প্রথম থেকেই সাব-হেডে লিখছিলো, ‘অপারেশন বাজপেয়ি।’ একটা মজার কার্টুন ছাপা হয়েছিলো অন্য এক কাগজে। সেটাতে দেখানো হয়েছিলো, বাজপেয়ির এখন দুটো সমস্যা : একটা হচ্ছে কে জে (শহবব লড়রহঃ), আরেকটা জে কে (অর্থাৎ জম্মু-কাশ্মীর)। তখন আমি মুম্বাইতে কর্মরত। যেদিন অস্ত্রোপচার হয়, সেদিন দিল্লির বাংলাদেশ হাই কমিশন থেকে একটা ফোন পাই, বাংলাদেশের হাই কমিশনার কথা বলতে চান। সে সময় হাই কমিশনার ছিলেন মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ (পরবর্তী সময়ে সাংসদ এবং ২০১৭ সালে প্রয়াত)। ফোনে তিনি বললেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটা মানানসই ফুলের তোড়া এবং বাণী হাসপাতালে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিতে হবে। দায়িত্বটা নিঃসন্দেহে বিশাল এবং সম্মানজনক। আমি ফোনে হাই কমিশনারকে বললাম, ইওর এক্সিলেন্সি, বাণীটা আপনারা লিখে দিলেই ভালো হয়, আমি লিখতে গেলে ভাষাগতভাবে কোথাও হয়তো কূটনৈতিক শিষ্টাচারের ব্যত্যয় ঘটতে পারে। তেমন কিছু হলে সেটা বাংলাদেশের জন্য বেশ বিব্রতকর হবে, বিশেষ করে যেখানে বাণীটা যাচ্ছে স্বয়ং আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে। আমার যুক্তিটা মেনে নিয়ে পরদিন ফ্যাক্স বার্তায় বাণীটা পাঠিয়েছিলেন তিনি। সেই বাণী ভালো কাগজে প্রিন্ট করে বিশেষ অর্ডারে বানানো ফুলের একটা বিশাল স্ট্যান্ড নিয়ে গিয়েছিলাম ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে। ফুলের তোড়ার একটা ছবি দিল্লিতে পাঠাতে হবে বলে নিয়ে যাওয়ার আগে স্ট্যান্ডটার পাশে দাঁড়িয়ে একটা ছবিও তুলেছিলাম, যাতে সেটার উচ্চতা বোঝা যায়। (ফ্যাক্স বার্তাটা পেলেও ছবিটা কোথাও খুঁজে পাওয়া গেলো না) ভেবেছিলাম বাজপেয়ির রুমে গিয়ে সেটা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পাবো। কিন্তু গিয়ে দেখলাম, নিচতলায় সুসজ্জিত রিসেপশন রুম তৈরি করা হয়েছে, সেখানে আছেন বিজেপির স্থানীয় সাংসদ মঙ্গল প্রভাত লোধা। তিনিই সসম্মানে গ্রহণ করলেন ফুলের স্ট্যান্ড ও বাণীটা। তারপর আপ্যায়নের ফাঁকে জানালেন, ফুল আর বাণীটা চিকিৎসকের সম্মতিসাপেক্ষে যথাশীঘ্র সম্ভব বাজপেয়িজীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, মুম্বাইতে তখন দুটো মাত্র বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান, বিমান বাংলাদেশ এবং আরব বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকারি প্রতিষ্ঠান বিমানকে দায়িত্বটা না দিয়ে বেসরকারি ব্যাংকের একজন কর্মকর্তাকে কেন দেওয়া হয়েছিলো, সেটা বুঝতে পারি মাস চারেক পর মুম্বাইতে আন্তর্জাতিক রণতরী প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি রণতরী ‘বিএনএস আলি হায়দার’-এ হাই কমিশনারের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর। জানতে পারলাম, ‘প্রথম আলো’তে প্রকাশিত নিয়মিত কলাম ‘মুম্বাইর চিঠি’র কল্যাণে আমার নামটা দিল্লির হাই কমিশনে ভালোই পরিচিত ছিলো। ঋধৎঁয় গধরহঁফফরহ-র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ুন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]