• প্রচ্ছদ » » ঘৃণার এতো উঁচু পাহাড় ডিঙিয়ে কখনো ভালোবাসা ও সম্প্রীতি ফিরবে বলে আর মনে হয় না


ঘৃণার এতো উঁচু পাহাড় ডিঙিয়ে কখনো ভালোবাসা ও সম্প্রীতি ফিরবে বলে আর মনে হয় না

আমাদের নতুন সময় : 16/10/2021

শর্বাণী দত্ত

‘আপনি কি মূর্তিপূজাকে সমর্থন করেন’? ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে হিন্দুরাই’। ধর্ম যার যার উৎসব সবার ইত্যাদি একটা সময় বলতে, ভাবতে একধরনের স্নিগ্ধ, গর্বমাখা অনুভূতি হতো। ইদানীং এসব হয় না, কাউকে এসব বলতেও যাই না। ধর্ম যার যার, উৎসবও যার যার। আমার মনে আছে, আমি যে ‘বিখ্যাত’ স্কুলে পড়েছি (বিখ্যাত স্কুলটির আরও ভয়ংকর সব ইতিহাস আছে, সেখানে না-ই যাই) সেখানে ভালো, শিক্ষিত পরিবার থেকে আসা ‘প্রগতিশীল’ বান্ধবীরা বলতো মূর্তিপূজা, পুতুল পূজার মতো লাগে। তার বাবা-মা ডাক্তার, বড় বোন বুয়েটে পড়েছেন, নিজেও ডাক্তার হতে চলেছে। সেও বলতো। কারও দশ হাত, কারও চার হাত, কী হাস্যকর খেলা খেলিস রে তোরা! যারা মূর্তিপূজা করে তারা মুরতাদ, মুরতাদ মানেই শয়তান। এরপর হিন্দুরা গরু খায় না কেন, একবার খেলেই আর কোনোদিন স্বাদ ভুলতে পারবে না, আমার অমুক হিন্দু বন্ধু তো গরু খায় তুই খাবি না কেন- এই অসভ্যতা একটানা দেখতে দেখতে নিজে খুব একটা ধার্মিক না হলেও অনেকটা একগুঁয়েমি থেকেই ওদিকে পা মাড়াইনি।
দেখলাম ভোলার ছাত্রলীগের পোস্টধারী নেতারা ৯৬ শতাংশ মুসলমানের দেশে বেশি গলা না তোলার ‘অনুরোধ’ করেছে। একজন বিশ^াসী, কিন্তু অসাম্প্রদায়িক মুসলমান যখন লিখেছেন তাদের উৎসব তাদের করতে দিন, হামলা করবেন না, তার অন্যান্য বন্ধুরা জেঁকে ধরেছে ‘নাস্তিক’ ‘নাস্তিক’ ‘মুরতাদ’ ‘তুই মূর্তিপূজা সমর্থন করিস’! এর মানে, এ দেশে আজকাল একজন মানুষ অন্য ধর্মের মানুষের সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলেও সে নাস্তিক হয়ে যায়। এখানে সাম্প্রদায়িক হামলা না হওয়ার তো কোনো কারণ দেখি না! হামলা হয়তো পাঁচ-দশজনই করছে। লাখ লাখ মানুষ হামলার খবর শুনে পুলকিত হচ্ছে, সমর্থন জানাচ্ছে। সমর্থন জানাতে না পারলে, একটু ঘুরিয়ে লিখছে ‘মূর্তিপূজা সমর্থন করি না’। এরপরও কীভাবে ধর্ম যার যার উৎসব সবার হয় আমার জানা নেই। বছরের মোটে পাঁচটা দিন ঢাকঢোল পিটিয়ে একটু জানান দিয়ে যায় বাংলাদেশের হিন্দুরা, যে তারা এখনো আছে, এবার বোধহয় সেটাও আতঙ্কের দিন গোনা হয়ে যাবে। এতো অসহনশীল, ঠুনকোর চেয়েও ঠুনকো ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষের সঙ্গে পাশাপাশি জীবন কাটিয়ে দিচ্ছি আমরা। ঘৃণার এতো উঁচু পাহাড় ডিঙিয়ে কখনো ভালোবাসা ও সম্প্রীতি ফিরবে বলে আর মনে হয় না। এজন্যই এখন ঞযব নরমমবংঃ ইধহমষধফবংযর ফৎবধস রং ঃড় ষবধাব ঃযব পড়ঁহঃৎু ভড়ৎ মড়ড়ফ! ঝযধৎনধহর উধঃঃধ-র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ুন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]