• প্রচ্ছদ » » নব্বই ভাগ মুসলমানের ওপর ৫ ভাগের কাছাকাছি সংখ্যক হিন্দু ঝাঁপ দিচ্ছে?


নব্বই ভাগ মুসলমানের ওপর ৫ ভাগের কাছাকাছি সংখ্যক হিন্দু ঝাঁপ দিচ্ছে?

আমাদের নতুন সময় : 16/10/2021

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি

শাহ আবদুল করিম, কাজী নজরুল ইসলাম কেউই সংখ্যালঘু হিন্দু ছিলেন না, একজন বাউল ছিলেন আর অন্যজন কবি। শাহ আবদুল করিমকে গ্রাম ছাড়তে হয়েছিলো। কারণ করিম গান করতেন! গানে গানে বলতেন, ‘গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান/মিলিয়া বাউলা গান আর মুর্শিদি গাইতাম/আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’। বাংলাদেশের অবস্থা দেখে কী কখনো মনে হয়Ñ এখানে শাহ আবদুল করিম আসলেই সুন্দর দিন কাটিয়েছেন?
নিজের স্ত্রীর জানাজা যার করতে হয়েছে, কিংবা নিজের শিষ্যের জানাজায় যে মসজিদের মাইক পর্যন্ত পায়নি, তিনি সত্যিই কখনো সুন্দর দিন দেখেছেন? এ দেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম পুত্রদের নাম দিয়েছিলেন কৃষ্ণ মোহাম্মদ, অরিন্দম খালেদ, কাজী অনিরুদ্ধ। কৃষ্ণের সঙ্গে মোহাম্মদ, অরিন্দমের সঙ্গে খালেদ! নজরুল দুই হাতে যতো কীর্তন লিখেছেন, ঠিক তার কাছাকাছিই লিখেছেন গজল। তাকেও কি রেহাই দিয়েছে ধর্মান্ধরা? সেকালেও নজরুলকে ডাকা হতো ‘কাফের’। কারণ ধর্মান্ধগুলোর মাথায় আসেনি এই ‘কাফের’-এর লেখা হামদ-নাত গুলোই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়! অথচ সেসব তোয়াক্কা না করে নজরুল বলেছেন, ‘মিথ্যা শুনিনি ভাই/এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির কা’বা নাই’!
না, আজকাল বাংলাদেশে যা হচ্ছে সেটাকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বইলেন না। সেটার নাম নির্যাতন। এই নির্যাতন প্রতিটি সংখ্যালঘুর ওপরই। প্রতিবার নানা ছুঁতায় সেই নির্যাতনকে আর কতোবার বৈধতা দেবেন? দেশে হিন্দু-মুসলমানের রেশিও কতোখানি? মাপেন। ৯০ ভাগ মুসলমানের ওপর ৫ ভাগের কাছাকাছি সংখ্যক হিন্দু ঝাঁপ দিচ্ছে? এও কি সম্ভব? আর যদি সম্ভবও হয় তাহলে শক্তিশালী সংখ্যাগুরুরা যখন শক্তিহীন লঘুদের গায়ে একটা কিছুর অজুহাতে ঝাঁপ দেয়, তখনো সেটা আর দাঙ্গা নয়, অত্যাচার এবং নির্যাতন। নির্যাতন করার বৈধতা নিশ্চিত করতে এতো সাফাই গাওয়ারইবা কী দরকার?
অভিজিৎ রায় হিন্দু ছিলেন না, নাস্তিক ছিলেন, লেখক ছিলেন। অভিজিৎ রায়কে হত্যা করা, অনন্ত বিজয় দাশকে হত্যা করা কি কেবলই নাস্তিক হত্যা নাকি যেকোনো সংখ্যালঘুকে আরও লঘু করে দেওয়াই উদ্দেশ্য? নাকি উদ্দেশ্য কেবল ভিন্নমত হলেই একঘরে করে দেওয়ার? জ্বি, দেবতার পায়ের কাছে আপনার ধর্মগ্রন্থ বা ধর্মগ্রন্থের নিচে চাপা পড়া দেবতা দেখে যদি আপনার মনে আক্রোশ কাজ করে, তাহলে আপনি একজন সাচ্চা ধর্মান্ধ! আপনার ক্ষেত্রে মসজিদে শূকর বা মন্দিরে গরু কাটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আপনি নিজেই সেই সংখ্যাগুরু যার একটা ছুঁতা দরকার সংখ্যালঘুকে নিশ্চিহ্ন করার! আপনাকে এর বাইরে আর কোনোভাবেই হিসাব করা যায় না, কোনো যুক্তিই আপনার বেলায় খাটে না। এই জিনিসটা মনে থাকবে? ঔধহহধঃঁহ ঘধুববস চৎরঃু-র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ুন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]