[১]যশোরের কেশবপুরে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষে সফল সাইফুল

আমাদের নতুন সময় : 16/10/2021

আব্দুল করিম: [২] উপজেলার বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে কৃষকের মাঠের উর্বর মাটিতে বিদেশি ফল ড্রগন চাষের উপযোগী হওয়ায় এ উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফলচাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সৌখিন চাষি সাইফুল ইসলাম। [৩] তার বাগানে ড্রাগনফল চারা রোপণের ৮ থেকে ৯ মাসের মধ্যেই গাছে ফল ধরেছে। রোপনের পর অল্পদিনে উৎপাদন ও অধিক লাভজনক হওয়ায় কেশবপুরসহ পাশ^বর্তী উপজেলার অনেকেই এখন ড্রাগন চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। শুরুর বছরেই ৪ বিঘা জমিতে সাইফুল ইসলাম ৫ লক্ষ টাকার ড্রাগনফল বিক্রি করেছেন। সেই থেকে এখনও চলমান রয়েছে তার গাছেন ফল উৎপাদন ও বিক্রি। গাছের বয়স যত বৃদ্ধি পাবে ফলনও তত বাড়বে। আর এভাবে উৎপাদন অব্যাহত থাকলে আগামী দশ বছরে কোটি টাকারও বেশি ফল উৎপাদন হবে বলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। [৪] সাধারণত এ গাছে রোপনের ১২ থেকে ১৮ মাস পর ফল ধরে। এ প্রজাতির গাছ প্রায় ১০০বছর বাঁচে। ৫০ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ভালোভাবে ফল উৎপাদন হয়। পরে উৎপাদন কমতে থাকে। সাইফুলের স্বপ্ন উপজেলাব্যাপী ড্রাগন চাষ ছড়িয়ে দিয়ে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা। তার সাফল্যের খবর পেয়ে পাশের কলারোয়া উপজেলার কওসার আলী নামের এক ব্যক্তি সাইফুলের পরামর্শ নিয়ে ১১ বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেছেন।
[৫] এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ছোটবড় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সাইফুলের পরামর্শে দামী ফল ড্রাগনচাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। সাইফুল ইসলাম উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান মৃত আতিয়ার রহমানের ছেলে সাইফুল ইসলাম যশোরের পলাশীর রুদ্রপুর পার্কের পাশে সাবেক এক সেনাকর্মকর্তার জমিতে ড্রাগন চাষ দেখে উদ্বুদ্ধ হন। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইউটিউব দেখে পরিকল্পনা নেন ড্রাগন চাষের।

ঐ বছরই সামরিক কর্মকর্তার বাগান থেকে ড্রাগন গাছের কান্ড সংগ্রহ করে ৪ বিঘা জমিতে রোপন করে। আড়াই হাজার সিমেন্টের তৈরি পিলার যা সোজা করে মাটিতে পুতে দিতে হয়, তার উপর মোটর সাইকেলের পুরাতন টায়ার বেঁধে চাষ এবং নিয়মিত পরিচর্যা শুরু করেন। [৬] প্রাথমিকভাবে সব মিলিয়ে ৪ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ শুরু করতে খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা। সাইফুল ইসলাম বলেন, সুস্বাদু বলে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা ফল ক্রয় করার জন্য অগ্রীম অর্ডার করছেন। বাগান থেকে প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। ৮-৯ মাসে বিঘা প্রতি প্রায় ১৫০ মন ফল পাওয়া যায়। অতিবৃষ্টি না হলে ৪ বিঘা জমিতে বছরে ৬’শ মন ফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রতিমন বারো হাজার হিসেবে বাহাত্তর লক্ষ টাকা। জানাগেছে, ড্রাগন ফলের জন্ম মধ্যআমেরিকায়। দক্ষিণ এশিয়ার মালেশিয়ায় ফলটির উৎপাদন হয় বিংশ শতাব্দীর দিকে। বর্তমানে ভিয়েতনামে বেশি চাষ হচ্ছে। ভিয়েতনাম ছাড়া তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, মালেশিয়া, চীন, ইসরাইল, অস্ট্রলিয়াতেও চাষ হচ্ছে। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্ম প্লাজম সেন্টারের প্রফেসর ড. এম.এ. রহিম গবেষণার উদ্দেশ্যে ড্রাগন ফলের কয়েকটি জাত নিয়ে আসেন থাইল্যান্ড থেকে।

তার গবেষণা সফলতার ওপর ভিত্তি করে গবেষণা সেন্টার থেকে এখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ড্রাগন ফলের উন্নত জাতের চারা সরবরাহ করা হচ্ছে। ড্রাগনফল দু’রকমের- টক ও মিষ্টি স্বাদের। মিষ্টি স্বাদের ড্রাগন ফলের আবার তিনটি জাত রয়েছে। যেমন-লাল ড্রাগনফল, কোস্টারিকা ড্রাগন ফল ও হলুদ ড্রাগন ফল। একটি ফলের ওজন ১৫০ থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। কখনো কখনো ফলের ওজন এক কেজি পর্যন্ত হয়। পাকা ফলের শাঁস বেশ নরম, কালোজিরার মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কালো রঙের অসংখ্য বীজযুক্ত, হালকা মিষ্টি। [৭] এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার ঋতুুরাজ সরকার বলেন, ড্রাগন ফলের জন্য শুষ্ক জলবায়ু দরকার। মাঝারি বৃষ্টিপাত হলে ভালো হয়। অধিক বৃষ্টিতে ফুল ঝরে যায় ও ফল পচে যায়। কেশবপুরে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফল উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]