• প্রচ্ছদ » » অজস্র নারী-পুরুষ আক্রান্ত হওয়ার আতঙ্ক নিয়ে চারদিকে তাকাচ্ছেন!


অজস্র নারী-পুরুষ আক্রান্ত হওয়ার আতঙ্ক নিয়ে চারদিকে তাকাচ্ছেন!

আমাদের নতুন সময় : 17/10/2021

ফিরোজ আহমেদ

দুদিন পত্রিকা এবং ফেসবুক থেকে প্রায় দূরে ছিলাম, মাঝে একটা দিন ছিলাম বন্ধুর নিমন্ত্রণে পূজা দেখতে মির্জাপুর। কে জানতো তখন দেশজুড়ে অজস্র সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় স্থানগুলোতে হামলা হচ্ছে, অজস্র নারী-পুরুষ আক্রান্ত হওয়ার আতঙ্ক নিয়ে চারদিকে তাকাচ্ছেন! আমাকে যদি বলেন, এতো অজস্র সাম্প্রদায়িক ঘটনার স্থলে প্রথম মুহূর্তে পৌঁছেছি, তাদের কথা শুনেছি, কীভাবে আক্রমণগুলো দানা বাঁধে সেটার বিবরণী পেয়েছি যে অধিকাংশ সাম্প্রদায়িক কোনো হামলাকেই আর নিছক ধর্মান্ধ জনগোষ্ঠীর কাণ্ড বলে বিশ্বাস করতে পারি না, যদিও তেমন একটা দুটো ঘটনার কথাও মনে পড়ছে। কিন্তু প্রায় সবগুলো সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনাই কোনো না কোনো রাষ্ট্র, রাজনৈতিক পক্ষ কিংবা শক্তির উদ্দেশ্য সাধন করে। যেকোনো হামলার খবর শুনলেই যে প্রশ্নটা প্রথমে মাথায় আসে, সেটা হলো কার স্বার্থে? কোন স্বার্থে? নানা জাতীয় ও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্বার্থের পাশাপাশি এসব হামলার স্থানীয় লাভবানদের কথাও ভাবতে হবে। একদিকে এটা যেমন খুবই সত্যি যে, আগেকার যেকোনো আমলের মতোই গত তিন দফার আওয়ামী শাসনেও হিন্দু সম্প্রদায়ের যে পরিমাণ সম্পত্তি সরকার দলীয় লোকজন দখল করেছে, সেটা বিপুল। গণমাধ্যমেই তেমন অজস্র সংবাদ এসেছে। ভয় দেখিয়ে, বাধ্য করে কিংবা প্রভাব খাটিয়ে এই দখল ঘটেছে। যা কিছু অবশিষ্ট আছে, সেটাও দখলটা সহজতর হয় যদি এই রকম উসকানির বাতাবরণ দেশে জারি থাকে। ফলে মফস্বলের পাড়া মহল্লাতেও এই সাম্প্রায়িদক স্বার্থের ঝাঁঝটা বেশ ভালোই টের পাওয়া যায়।
পরিষ্কার করে দেখবেন, যে যে বছর এমন কোনো দেশীয়/আঞ্চলিক/আন্তর্জাতিক স্বার্থের প্রয়োজন ছিলো না, পূজার সময়ে হামলার ঘটনা বেশ কম আকারে ঘটেছে। পুরো বিষয়টা সরকার, স্থানীয় পর্যায়ের আমলাতন্ত্র, প্রশাসনের সম্পূর্ণ হাতের নাগালে আছে, সেটা যারা বোঝেন না তারা বাংলাদেশের কিছুই জানেন না। জটলা যেকোনো জায়গাতেই পাকাতে পারে, কিন্তু সেটা যদি বেশিদূর যায়, হামলার স্তরে পৌঁছায়, বারবার ঘটতে থাকে, নিশ্চিত ধরে নেবেন যে যারা চাইলেই নিমিষে থামাতে পারতো তারা চেয়েছেন ঘটনা ঘটুক। আমার দেখা কিংবা জানা পুরনো প্রায় সবগুলো ঘটনার বেলাতে সেটা সত্যি। কিন্তু এসব জটিল রাজনৈতিক স্বার্থের হিসাবের আলাপটা তো ঘটনার অর্ধাংশ। যে মানুষটাকে আতঙ্কে মুহূর্ত গুনতে হয়, দেশত্যাগ কিংবা ভিটা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে যিনি আরেকটু ঝুঁকে পড়েন, সেই নিপীড়িত, অসম্মানিত মানুষটার কোনো উপকারে আসে এসব রাজনৈতিক হিসাব নিকাশের সত্যাসত্য? তার দরকার তার পক্ষে অবস্থান ঘোষণা। কাজ। সক্রিয় ভূমিকা। হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ প্রশাসনকে ঘেরাও করাটা এমন ক্ষেত্রগুলোতে রাজনৈতিক কর্মসূচি হওয়া উচিত। আরেকটা কর্মসূচি হওয়া উচিত নিজেরাই পাহারা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া এবং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা। ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গীয় পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটা মানুষের জীবন-সম্পদ-মর্যাদার অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। সেটা রাষ্ট্র করতে ব্যর্থ হলে, বাংলাদেশের মতো দেশের বেলায় সেটা করায় গাফিলতি দেখালে বা তাতে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদ যোগালে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াটা জনগণের কতর্ব্য। ঋরৎড়ু অযসবফ-র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ুন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]