• প্রচ্ছদ » » কেন চারদিকে এমন সাম্প্রদায়িকতা?


কেন চারদিকে এমন সাম্প্রদায়িকতা?

আমাদের নতুন সময় : 17/10/2021

আমিনুল ইসলাম

সেবার যখন থাকার জায়গা নিয়ে সমস্যা দেখা দিলো, দাদা এসে বললেন, তুমি আমাদের মেসে চলে আসো, কোনো সমস্যা নেই। আমি তখন সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আমার বাসা ঢাকায়। সিলেটে গিয়েছি পড়তে। তখন কেবল একটাই হল ছিলো। সবাই সেখানে সিট পেতো না। প্রথম-দ্বিতীয় বর্ষে বেশিরভাগ সবাইকে মেস করে থাকতে হতো শহরের বিভিন্ন বাসায়। সেবার যখন আমি বাসা খুঁজে পাচ্ছিলাম না, পলিমার কেমিস্ট্রি বিভাগের বড় ভাই ( দাদা) এসে বললেন, তুমি আমাদের মেসে চলে আসো। ওই মেসে আমি এক বছরেরও বেশি সময় থেকেছি। আমরা চারজন ছিলাম। বাদবাকি সবাই হিন্দু ধর্মের। পুলক, উজ্জ্বল, দেবেষ দা এবং তাদের সঙ্গে আমি গিয়ে ওঠেছি। তারা সবাই সনাতন ধর্মের ছিলেন। আর আমি ছোটবেলা থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে অভ্যস্ত। এমনকি হাজার মাইল দূরে, এই বিদেশেও আমি না পারতে কোনোদিন নামাজ মিস দিই না। মেসে থাকা অবস্থায় মাগরিবের নামাজের সময় যদি ঘুমিয়ে থাকতাম, দাদা এসে জাগিয়ে তুলতেন। এরপরও না ওঠলে তিনি প্লেট-পেয়ালা নিয়ে এসে কানের সামনে শব্দ করতেন। যাতে আমি ঘুম থেকে ওঠে ঠিক সময়ে নামাজটা পড়তে পারি।
আমি মাংস খেতে পারি না। এজন্য তারা মেসে সব রকম মাংস রান্নাই বন্ধ করে দিলেন। এই যে আমি বছরখানেক তাদের সঙ্গে ছিলাম- আমার তো কোনোদিন মনে হয়নি তারা হিন্দু, আমি মুসলমান। আমি এক মুহূর্তের জন্যও অন্য রকম অনুভব করিনি। দুর্গাপূজায় যে কি চমৎকারভাবে আনন্দ উৎসব করা যায়, তাদের সঙ্গে থেকে আমি সেটা অনুভব করেছি। তারা ঈদের সময় আমার সঙ্গে একসঙ্গে উৎসব করেছে। কই, কখনো তো আমাদের মনে হয়নি- আমাদের ধর্ম আলাদা এজন্য আমাদের আলাদা থাকতে হবে। আলাদা চিন্তা করতে হবে। প্রায় ২০ বছর আগের কথা। আজ এতো বছর পরও যখন কোথাও প্রতিমা ভাঙার খবর পড়ি, কোথাও মন্দির ভাঙার খবর পড়ি, আমার বুক কেঁপে ওঠে। আমার সেই দাদার কথা মনে হয়। যিনি আমাকে একদিন তাদের মেসে থাকতে দিয়ে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছিলেন।
আমি বুকে হাত রেখে হলফ করে বলতে পারবো- কোথাও যদি কোরআন অবমাননার খবর হয় কিংবা এমন অন্য কিছু, দাদারও বুক কেঁপে ওঠবে। হয়তো তারও আমার কথা মনে হবে। কেউ কি আমাকে বলবেন, তাহলে কেন চারদিকে এমন সাম্প্রদায়িকতা? উত্তরটা আমার জানা। ধর্মকে যারা রাজনৈতিক হাতিয়ার বানায়, তারা চায় না আমরা ভালো থাকি। তারা চায় না সাধারণ মানুষ মিলেমিশে থাকুক। তারা চায় মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি হোক। কারণ এতেই তাদের ফায়দা। ব্রিটিশরা ‘ডিভাইড এন্ড রুলের’ যে নীতি শত বছর আগে আমাদের ওপর প্রয়োগ করে কয়েকশো বছর শাসন করেছে। ঠিক একই কাজ করছে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো। বাদবাকিটুকু আপনারা বুঝে নিন। অসরহঁষ ওংষধস-র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ুন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]