• প্রচ্ছদ » » জনগণ রক্তপানি করা টাকা দিয়ে মাস্তানি, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে মোটাতাজা করে


জনগণ রক্তপানি করা টাকা দিয়ে মাস্তানি, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে মোটাতাজা করে

আমাদের নতুন সময় : 17/10/2021

মুশফিক ওয়াদুদ

খাদ্য সামগ্রীর হিসাব বাদ দিলাম। কিন্তু দেশে এবং আমেরিকাতে পোশাক আশাক কেনাকাটার আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি সবকিছু হিসাব করলে আমেরিকাতে বাংলাদেশের তুলনায় বেশিরভাগ পোশাক আশাকের দাম কম। সেদিন অনলাইনে ইয়োলোর একটি টি-শার্টের দাম দেখছিলাম। হিসেব করে দেখলাম তার দাম এখান থেকে ভালো ব্রান্ডের টি-শার্টের সমান কিংবা বেশি। এখানে প্রায় সবসময়ই কোনো না কোনো ডিসকাউন্ট থাকে। এইচএন্ডএমের শার্ট-পান্টের দাম বাংলাদেশের যেকোনো শোরুমের চেয়ে কম। শুধু জিনসের দাম হয়তো বাংলাদেশে কম। তারপরও মান হিসেব করলে প্রায় সমান। এটা খুবই ইন্টারেস্টিং একটি বিষয়। যে পোশাক আশাক বাংলাদেশ থেকে সস্তা শ্রমে বানিয়ে আমেরিকাতে রপ্তানি হয়, সেসব পোশাকের দাম বাংলাদেশের লোকাল মার্কেট থেকে আমেরিকাতে কম। এই বিষয়টি বেশিরভাগ খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও সত্য। নারিকেলের দামের কথা শুনছিলাম সেদিন। আমেরিকাতে নারিকেল থাইল্যান্ড অথবা মেক্সিকো থেকে আসে। আর বাংলাদেশে নারিকেল উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও দাম প্রায় সমান অথবা বাংলাদেশে বেশি। তরমুজের ক্ষেত্রেও আমি দাম হিসেব করে দেখেছি বাংলাদেশে বেশি।
এই বিষয়টি মনে হয় অর্থনীতির কোনো থিউরির মধ্যে ফেলা সম্ভব নয়। এই পরিমাণ সস্তা শ্রম, জীবনযাত্রায় খারাপ মান হওয়া জায়গায় কেন আমেরিকা থেকে জিনিসপত্রের দাম বেশি হবে অথবা সমান হবে? এবং দেশে কৃষকরা যে ন্যায্য দাম পান এবং শ্রমিকরা যে ন্যায্য মজুরি পান এমনও নয়। এখন প্রশ্ন হলো বাড়তি টাকা আসলে কোথায় যায়? আমি মনে করি মাস্তানিতে যায়। পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি, দোকানের চাঁদাবাজি এসবের কারণে দেশে ডুইং বিজনেস কস্ট বেশি। মানে জনগণ তাঁর রক্তপানি করা টাকা দিয়ে মাস্তানি, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে মোটাতাজা করে। আর এসব মাস্তানরা মোটাতাজা হয়ে ইউরোপ-নর্থ আমেরিকায় বাড়ি কিনে বিলাসী জীবনযাপন করে। দেশটা আসলে মাস্তানির স্বর্গরাজ্য-বিনিয়োগ নেই কিন্তু আয় বেশি।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]