• প্রচ্ছদ » » ‘ধর্মব্যবসায়ী’রা চায় আপনার নির্বুদ্ধিতা টিকে থাকুক


‘ধর্মব্যবসায়ী’রা চায় আপনার নির্বুদ্ধিতা টিকে থাকুক

আমাদের নতুন সময় : 17/10/2021

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি : বাঙালি মুসলমানের মন সম্ভবত সবচেয়ে ভালো বুঝেছিলেন আহমদ ছফা। তিনি বলেছিলেন, মুসলমানরা শতকরা ১০০ শতাংশ হলেও বাংলাদেশকে একটা সেক্যুলার রাষ্ট্র বানাতে হবে, না হলে বাংলাদেশ নামের যা থাকবে তা মূলত পাকিস্তান! গত কয়েকদিনের ঘটনা খেয়াল করে কি সেইটাই দেখতে পাননি? ধর্ম অবমাননা মূলত একটা পাতানো খেলার মতো। আপনার ধর্মের অবস্থা এতোই খারাপ যে অবমাননা করা সম্ভব- এই কনসেপ্টটাই সবচেয়ে বিশ্রী। কিন্তু একটা পাতানো খেলায় যখন মন্দিরের সামনে ১৮টা বোমা পাওয়া যায়, ৪৩ জন অ্যারেস্ট হয়, চারজন নিহত হয় তখন সবচেয়ে বিশ্রী লোকেরা মূলত আমরা, যারা জানে না কোথায় থামতে হয়! মানুষের সীমাহীন বেয়াকুবিপনার শেষ কোথায় যেখানে ধর্মান্ধতা রক্ষায় সে নিজের জীবন উৎসর্গ করে আরেকজনের জীবন নিতে? খেয়াল করলে দেখবেন, এই উপমহাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যবসাটা হয় ধর্ম আর চেতনা নিয়ে। কেবল ধর্ম অবমাননার অভিযোগে নদীর ওপাড়ে বাবরি মসজিদ ভেঙে দেওয়া হয় আর নদীর এপাড়ে ভেঙে দেওয়া হয় দুর্গা প্রতিমা! কিন্তু কী লাভ হয় তাতে? লাভ যা হয় তা হলো এহসান গ্রুপের মতো ধাপ্পাবাজ সাধারণ মানুষের কোটি টাকা মেরে দেওয়া এহসানদের, হিজাব রিফ্রেশ শ্যাম্পু আর অ্যালকোহলবিহীন পারফিউম কোম্পানিগুলোর, লাভ হয় করোনার ওষুধ বের করা ধর্মব্যবসায়ীদের। তারা জানে এই হানাহানি টিকে থাকলে তাদের ফায়দা কেউ ঠেকাতে পারবে না!
তারা চায় আপনার নির্বুদ্ধিতা টিকে থাকুক। কেবল ধর্মের আর বিদ্বেষের দোহাই দিয়ে, অবমাননার ধোঁয়া তুলে আপনি অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন আপনারই চিরচেনা অন্য ধর্মের প্রতিবেশীর ঘাড়ে, কারণ আপনি যে হাতিয়ার নিয়ে ঝাঁপ দেবেন, সেটা বেচাও একটা বিজনেস! আপনি অস্ত্র না কিনলে অস্ত্রের ব্যবসার কী হবে? মাথায় রাখেন- তারা শ্যাম্পু, হিজাব বা বিশ্বাসের ব্যবসা করে না, তারা যে ব্যাবসা করে সেটা আপনার নির্বুদ্ধিতার, আপনার ভেতরের অমানুষটার, আপনার অশিক্ষিত বর্বর আচরণ আর ঘৃণার। তবুও কি আপনি নির্বুদ্ধিতা প্রমাণ করে যাবেন? হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেন, ভেতরে পাপ যখন বাড়ে, বাইরে ধর্মের পতাকা তখন খুবই ওড়াওড়ি করে, একুশ শতকে বাঙালি ঢুকবে মূলত একটা ধর্ম রাষ্ট্র মাথায় করে। সেই রাষ্ট্র কি আপনি দেখতে পান না? অন্তত একবার কি বুঝবেন- কেবল অনুভূতির দোহাই দিয়ে এই হানাহানিতে প্রাণ হারানোটা ট্র্যাজেডি নয়, ট্র্যাজেডি হলো প্রাণগুলো অকারণে হারানো! আর কতোগুলো মানুষ অহেতুক মরলে, আর কতোগুলো মানুষের ঘর পুড়লে, আর কতোবার হানাহানি হলে আপনি ব্যাপারটা বুঝবেন? ঔধহহধঃঁহ ঘধুববস চৎরঃু-র ফেসবুক পেজে লেখাটি পড়ুন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]