• প্রচ্ছদ » » পাঠ্যবই থেকে কি হিন্দু লেখকদের সরিয়ে ফেলা হয়েছে?


পাঠ্যবই থেকে কি হিন্দু লেখকদের সরিয়ে ফেলা হয়েছে?

আমাদের নতুন সময় : 17/10/2021

অজয় দাশগুপ্ত

অ-তে অজগর, আ-তে আম নাই আর। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতায়, দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে, থাকায় সেটা বাতিল। নজরুলের মহাশ্মশান হয়েছে গোরস্তান। কথায় কথায়, পোশাকে, খাদ্যে নিয়ম আর নিয়ম। ছেলেবেলায় বড় হয়ে যা দেখিনি, শুনিনি সেগুলোই এখন ধর্ম। পূজার প্রসাদ খাওয়া পূজায় যাওয়া নিয়ে কতো ফতোয়া। রামুর বৌদ্ধ বিহারের নিরীহ বুদ্ধ, চার্চের যিশু কেউই নিরাপদ নয়। এতো বছর ধরে চেতনার সরকার ক্ষমতায়, কী করেছেন আপনারা? বায়াত্তরের সংবিধান ফিরিয়ে আনার কথা ভুলেও বলেন না। কওমি পদবির জন্য তাদের ম্যানেজ করার জন্য কতো ছাড় কতো ঘুষ। লাভ হয়েছে কিছু?
সাপ পুষবেন কিন্তু ছোবল খাবেন নাÑ তা কী হয়? আফসোস একটাই, এবারও টার্গেট নিরীহ হিন্দু জনগোষ্ঠী। যাদের কিনা সংখ্যালঘু বলাও বারণ এখন। এতোদিন তারা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক ছিলো, ঘটনার পর কী আসলেই তাদের কোনো নাগরিকত্ব আছে! তারা কি সত্যি একই দেশের প্রাণী? এমন অসহায় অস্তিত্বহীন জনগোষ্ঠীর জন্য ভাষণ আশা আর সান্ত্বনাও একধরনের বলৎকার। বরং নাই হয়ে যাওয়া তাদের মরে বাঁচতে দিন। বন্ধ করে দিন এসব পূজা। মুক্তিযুদ্ধ, চেতনা, ধর্মনিরপেক্ষতা এসব গালভারী কথাও বাদ দেন। বাস্তবতা মেনে হয় সরে দাঁড়ান নয়তো মোকাবেলা করেন। গত কয়েকদিন কী শুধু হিন্দুরা হেরেছে? এ পরাজয় মুক্তবুদ্ধির মুসলমানদেরও। হেরে গেছে অন্য ধর্মের মানুষ, হেরেছে এ দেশের ইতিহাস ও সম্প্রীতি নামের কংকাল। সাম্প্রতিককালের তাণ্ডব দেখার পর দেশ ছেড়ে আসার সমস্ত গ্লানি ম্লান হয়ে গেছে। লেখক : কলামিস্ট




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]