• প্রচ্ছদ » » প্রকৃত শিক্ষার অভাবে মানুষ না পারে প্রকৃত ধার্মিক হতে, না পারে প্রকৃত সৎ নাগরিক হতে


প্রকৃত শিক্ষার অভাবে মানুষ না পারে প্রকৃত ধার্মিক হতে, না পারে প্রকৃত সৎ নাগরিক হতে

আমাদের নতুন সময় : 17/10/2021

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন

সম্প্রতি কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন অবমাননার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের অনেক স্থানে পূজামন্ডপে আক্রমণ, প্রতিমা ভাঙচুর, হত্যার খবরসহ একই পরিবারের মা-মেয়ে এমনকি ১০ বছরের একটি মেয়েকেও ধর্ষণের খবরও পাওয়া যায়। এরপরও বাংলাদেশকে কীভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, সভ্য দেশ হিসেবে বিবেচনা করা যায়? এ রকম নারকীয় ঘটনার পরও আমি চারদিকে সুনসান নীরবতা দেখি। এই নীরবতা প্রমাণ করে বাংলাদেশে আসলে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই। শতাধিক ংড় পধষষবফ বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার শিক্ষক আর লাখ লাখ শিক্ষার্থী যেই দেশে সেই দেশে এ রকম ঘটনা প্রথমত ঘটারই কথা নয়। আর ঘটলেও প্রতিবাদে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হতো। রাস্তায় প্রতিবাদে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করাতো দূরে থাক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তেমন কাউকে প্রতিবাদ করতে দেখছি না।
সকালবেলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির একটা প্রতিবাদলিপি ই-মেইলে পেলাম। সেই প্রতিবাদ বিবৃতিটি পড়ে আমি বাকরুদ্ধ। পুরো বিবৃতিজুড়ে কেবল সরকারের বন্দনা আর সরকারকে দোষারোপের ঊর্ধ্বে রাখার চেষ্টা। একই সঙ্গে এই ঘটনাগুলোকে বিরোধী পক্ষের চক্রান্ত হিসেবে দেখা হয়েছে। বলা হয়েছে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে দেশের বিরাজমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে একটি রাজনৈতিক মহল তৎপর। ঠিক এই কারণেই বাংলাদেশে যেই ক্ষমতায় যায় তারাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি ইনজেক্ট করে। আমি নিশ্চিত ক্ষমতায় যদি অন্য বৃহৎ দলটি থাকতো তখনো যদি সরকার সমর্থিতরা শিক্ষক সমিতিতে থাকতো তারাও ঠিক এভাবেই এই কথাগুলো বলেই বিবৃতি দিতো। পুরো বিবৃতিটি পড়লে মনে হয় সমস্যাটা রাজনৈতিক। আর এ দেশে যেকোনো সমস্যাকে একবার যদি রাজনৈতিক লেভেল দেওয়া যায় তার আর কোনো বিচার হওয়ার নজির খুব একটা বেশি নেই। দেশে এর আগেও এই সরকার কিংবা ওই সরকারের ক্ষমতায় থাকাকালে আরও এমন কিংবা তার চেয়েও নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। কোনোটির কি বিচার হয়েছে?
কুমিল্লায় কোরআন অবমাননার খবর যখন ছড়ায় তার দুইদিন পর এ হামলাগুলো ঘটে। সরকারের হাতে প্রশাসন, পুলিশ, গোয়েন্দা, দলীয় কর্মী সব। এতোসব থাকতে এই ঘটনাগুলো কীভাবে ঘটে? প্রধানমন্ত্রী বা দলের কাউকে কোনো অবমাননা করে ফেসবুকে কিছু লিখলে তাদের খুঁজে বের করে জেলে পুরতেতো কোনো সময় লাগে না। অথচ অতীত অভিজ্ঞতাও যদি কাজে লাগাই আমরা কী জানি না শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর কিছু ঘটতে পারে। তা সত্ত্বেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? এ দেশের সকল মানুষের সুরক্ষার দায়িত্ব সরকারের। কেউ ষড়যন্ত্র করে থাকলে তাদের ধরার দায়িত্বও সরকারের। ধরে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করার দায়িত্বও সরকারের। আমরা এই ঘটনার বিচার না চেয়ে, প্রতিবাদ না করে যদি কেবল ষড়যন্ত্র দেখি তা খুবই দুঃখজনক।
জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের উচিত এসব নারকীয় ঘটনার বিচার চাওয়া। এই বিচার চাইতে গিয়ে কোনো রভ কিংবা নঁঃ থাকতে পারে না। কোনো ষড়যন্ত্র খোঁজার বাহানা থাকতে পারে না। আগে ক্রিমিনালদের ধরুন, বিচার করুন তারপর ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব দিন। এখন এ দেশের সমস্যার আসল মূল কোথায়? মূল হলো শিক্ষায়। প্রকৃত শিক্ষায়। মানুষকে অশিক্ষিত বা কুশিক্ষিত বানিয়ে রাখা রাজনীতিবিদদের জন্য লাভ। তারা যখন যেভাবে চায় সেইভাবেই ব্যবহার করতে পারে। বাংলাদেশের সকল দল সেটার সুবিধা নেয়। সেই জন্যই শিক্ষায় এতো কম বরাদ্দ দেয়। সেই জন্যই শিক্ষার মান দিনদিন নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রকৃত শিক্ষিতদের দিয়ে যখন যা ইচ্ছা করানো যাবে না। প্রকৃত শিক্ষিতরা বেকার থাকবে না। এটা বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা ভালোভাবে জানেন। জানেন বলেই এই দেশের এতো সমস্যা। প্রকৃত শিক্ষার অভাবের কারণে মানুষ না পারে প্রকৃত ধার্মিক হতে, না পারে প্রকৃত সৎ নাগরিক হতে। লেখক : শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]