• প্রচ্ছদ » » সরকার টিসিবির ট্রাক ছড়িয়ে দিক সারাদেশে, মানুষ অন্তত খেয়ে বাঁচুক


সরকার টিসিবির ট্রাক ছড়িয়ে দিক সারাদেশে, মানুষ অন্তত খেয়ে বাঁচুক

আমাদের নতুন সময় : 17/10/2021

প্রভাষ আমিন

ভারতের কোনো এক রাজ্যে বৃষ্টি হলে বাংলাদেশের টেকনাফে পেঁয়াজের দাম সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে কেন? ভারতে বৃষ্টি হলে সেখানকার বাজারে এর প্রভাব পড়বে, সেই পেঁয়াজ বেনাপোল বা ভোমরা দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকবে। তারপর সেখান থেকে ঢাকা হয়ে টেকনাফ যাবে। কিন্তু টেকনাফের যে ব্যবসায়ী দ্বিগুণ দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন, সেটা তো আগের দামে কেনা। সেই ব্যবসায়ী কিন্তু ফাঁকতালে শেয়ার বাজারের সেই বিনিয়োগকারীর মতো ‘মানি ডাবল’ আইটেম পেয়ে যান। তার চেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশে এখনো পেঁয়াজের যা স্টক আছে, তাতে দুই মাস চলার কথা। তাহলে তো ভারতের বৃষ্টির প্রভাব বাংলাদেশের বাজারে দুই মাস পরে পড়ার কথা।
পেঁয়াজের ৮০ শতাংশই এখন বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়। ২০ শতাংশ আসে ভারত থেকে। গত কয়েকবছর ধরে সেই ২০ শতাংশ ৮০ শতাংশকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এটা অর্থনীতির কোন সূত্র? ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামতো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। অথচ এটা করার কথা সরকারের, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু সরকার গর্ব করে বলে, তারা ব্যবসায়ীবান্ধব সরকার। সমস্যাটা এখানেই, সরকার আসলে ব্যবসায়ীবান্ধব নয়, ব্যবসায়ী-নিয়ন্ত্রিত। বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যার কাজ সেই বাণিজ্যমন্ত্রী নিজেও একজন ব্যবসায়ী। সম্ভবত তারা নানা উদ্যোগে ব্যবসায়ীরাই লাভবান হন। সরকার যেদিন ব্যবসায়ীবান্ধব থেকে জনবান্ধব হতে পারবে, সেদিন সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে বাজারে যেতে পারবে। একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে সরকার জনগণের ভালোমন্দ দেখভাল করবে। প্রয়োজনে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে। চাহিদা ও সরবরাহনীতিই যদি বাজারকে মুক্ত করে দেয়, তাহলে আর সরকারের দরকারটা কী? সরকার কখনো শুল্ক বাড়িয়ে, কখনো কমিয়ে বাজারকে জনগণের জন্য সহনীয় রাখবে। ধরুন, যখন দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসবে, তখন কৃষক যাতে ন্যায্যমূল্য পায়, তাই শুল্ক বাড়িয়ে দেবে। আর যখন দেশের বাজারে সংকট সৃষ্টি হবে, তখন শুল্ক প্রত্যাহার করবে। এটাই সরকারের দায়িত্ব।
গত ক’বছর ধরেই একটা সময়ে পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়। কল্যাণ রাষ্ট্র হলে পেঁয়াজের বাজারের ক্যালেন্ডার আমার আপনার মনে রাখলেও চলবে। আর বাণ্যিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাজই এটা। কিন্তু সমস্যা হলো- বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সবার আগে এই ক্যালেন্ডার ভুলে যায়। পেঁয়াজ ‘মানি ডাবল’ আইটেম হয়ে গেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঘুম ভাঙে। তারা তখন শুল্ক কমানোর জন্য প্রস্তাব দেয়। লালফিতা পেরিয়ে এই প্রস্তাব পাস হতে হতে ব্যবসায়ীদের ‘মানি ডাবল’ হয়ে যায়, সাধারণ মানুষের কাছে পেঁয়াজ মহার্ঘ্য হয়ে যায়। এটা শুধু পেঁয়াজ নয়, সব পণ্যের ক্ষেত্রেই সত্যি। সিদ্ধান্ত নিতে নিতে সরকারের শুধু দেরিই হয়ে যায়। সরকার ব্যবসায়ী নয়। তারা লাভের চিন্তা করবে না। তারা মানুষের জীবনকে সহনীয় করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, দ্রুত সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে। সরকার কৃষিতে, জ্বালানি তেলে, বিদ্যুতে ভর্তুকি দেয়। প্রয়োজনে বাজারেও দিতে হবে। করোনার সময় সরকার ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দিয়েছে, সেই প্রণোদনার ছিটেফোঁটাও জনগণ পায়নি। এবার সরকার শক্ত হাতে বাজার নিয়ন্ত্রণ করুক, জনগণের পাশে দাঁড়াক। যদি কোনো ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, যদি ভোমরা বন্দরের পেঁয়াজ ঢাকায় আসতে আসতে আকাশ ছোঁয়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাজারে আগুন লাগলে টিসিবি ট্রাকে করে ন্যায্য দামে নিত্যপণ্য বিক্রি করে। সাধারণত নিম্নবিত্তের মানুষ এখান থেকে পণ্য কিনতো। মধ্যবিত্তের পেটে ক্ষুধা, চোখে লাজ। তাই দরকার থাকলেও তারা ট্রাকের লাইনে দাঁড়াবে না। কিন্তু করোনা এসে তাদের চোখের লজ্জার সেই পর্দাটা সরিয়ে দিয়েছে। শুরুর দিকে একটু আড়াল করে লাইনে দাঁড়ালেও এখন অধুনা নিম্নবিত্ত সাবেক মধ্যবিত্তরাও অনায়াসে লাইনে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। সরকার অন্তত টিসিবির ট্রাক ছড়িয়ে দিক সারা দেশে। মানুষ অন্তত খেয়ে বাঁচুক। লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]