• প্রচ্ছদ » » উৎসব সবার হলে বেদনাও তো সবার হওয়ার কথা


উৎসব সবার হলে বেদনাও তো সবার হওয়ার কথা

আমাদের নতুন সময় : 20/10/2021

আরিফ জেবতিক

আমি আমাদের নাড়ুখোর মুসলমান বন্ধুদের সম্প্রতি কয়দিন ধরে খুঁজে পাচ্ছি না। প্রতিবছর পূজা এলেই আমার এই নাড়ুখোর বন্ধুরা তাঁদের হিন্দু বন্ধুদের ট্যাগ করে ‘দাদা, আমাকে কেউ নেমন্তন্ন করেন’ বলে হল্লাগাল্লা শুরু করে দেন। পূজার এই কয়দিন তাঁরা সবগুলো মণ্ডপে ঘুরেঘুরে চেকইন দেন, পারলে দেবীর প্রায় কোলের কাছে গিয়ে দেবীর হিন্দু ভক্তদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে সেলফি তুলেন। এসবকে আমি সারাজীবন স্বাগত জানিয়ে এসেছি। আমাদের এই মিডিলক্লাস বন্ধুরা যখন এসব করেন, সেগুলোকে আমি সারাজীবন ‘সম্প্রীতি’ হিসেবে বিশ্বাস করে এসেছি, আমি জেনে এসেছি যে ‘ধর্ম যার যার, আনন্দ সবার’ এই কথাটি মিছে নয়।
কিন্তু আমার এই নাড়ুখোর বন্ধুরা আজ নিখোঁজ। একেকটা মণ্ডপে যে পরিমাণ বাঙালি মুসলমান ‘সম্প্রীতি’ বন্ধুরা গেছেন, তাঁদের ৫ শতাংশও যদি হাতে হাত রেখে কোনো একটা রাস্তায় ১০ মিনিটের জন্যও দাঁড়াতেন, তাহলে সেই লাইন এই নগরকে এফোঁড় ওফোঁড় করে যেতো। অন্তত সোশ্যাল মিডিয়ায় যদি এ নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন, গাল পাড়তেন, হা-হুতাশ করতেন-তাহলেও নিউজফিড বোঝাই হয়ে যেতো। সেরকম কিছুই হয়নি। শাহবাগে সেই হাতে গোনা রবিন আহসান, আকরাম, জীবন জয়ন্ত, মাসুম গং। পরিচিত কয়েক ডজন মুখ, ঘুরেফিরে। আর আমাদের চিরন্তন আশ্রয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সাহসী সন্তান। আমার এই নাড়ুখোর বন্ধুরা কোথাও নেই। পথেঘাটে তো নেই-ই, ফেসবুকেও নেই, টুইটারেও নেই। নাড়ু গাছটি মুড়ালো, হিন্দু বন্ধু ফুরালো। অথচ উৎসব সবার হলে বেদনাও তো সবার হওয়ার কথা! লেখক : অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]