• প্রচ্ছদ » » বাহাত্তরের সংবিধান ফিরে আসুক


বাহাত্তরের সংবিধান ফিরে আসুক

আমাদের নতুন সময় : 20/10/2021

ফারহিন খান জয়িতা

আমার হিন্দু ধর্মের এক বন্ধুর সন্তান যখন জানতে চায় ‘মা পূজায় আমাদের ছুটি দিলো না যে?’ ছুটি দেওয়াতো দূর, বাংলাদেশের বিখ্যাত এক বহমষরংয সবফরঁস ংপযড়ড়ষ এ, এই পূজায় পুরোদমে পষধংং তো চলছেই, সেই সঙ্গে চলছে পরীক্ষা। তখনি আসলে আপনারা চোখে আঙুল দিয়ে বাচ্চাদের দেখিয়ে দেন, আমাদের ঈদ, ঈদ, তাদের পূজা অর্চনা নিয়ে মাথা না ঘামালেও চলবে আমাদের। তখনি আপনারা বুঝিয়ে দেন, আমাদের ধর্মই শ্রেষ্ঠ, আর অন্য ধর্মের সবাই পাপী। আমার আত্মীয়ার বাড়িতে পধষষরহম নবষষ বাজাতেই যখন শুনি ‘আসসালামু ওয়ালাইকুম, কৃপা কারকে দারওয়াজা খোলিয়ে’, তখনি বুঝতে পারা যায়, আপনি আপনার বাচ্চাকে আপনার সংস্কৃতি থেকে অন্য কোনো সংস্কৃতির দিকে ঠেলে দিতে চাচ্ছেন। বাড়ির বাচ্চাদের কারও সঙ্গে দেখা হলে ‘আপনি কেমন আছেন’- এটা বলা শেখালেই হয়, অথচ আরবি কায়দায় ‘আসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু’ বলা যখন আজকাল বাধ্যতামূলক করে দেন, অথচ এই আসসালামু ওয়ালাইকুম অর্থঃ ‘আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক’- আর তেমন কিছু নয়। তখন আপনি আপনার সন্তানকে তার নিজস্ব সংস্কৃতির ব্যাপারে হীনমন্য করে তোলেন। একটা ৫ বছরের বাচ্চা তার দাদিকে যখন বলে, ‘তুমি শাড়ি পরেছো কেন? শাড়িতে তো পেট দেখা যায়, আল্লাহ গুনাহ দেবে’- তখন বোঝা যায়, আপনি আপনার যুগ যুগ ধরে বয়ে চলা সংস্কৃতিকে কীভাবে আপনার সন্তানের কাছে তুলে ধরছেন। আর এই বাচ্চারাই যখন বড় হয়, আমরা একটা অসহিষ্ণু, অসংবেদনশীল, গোড়া মবহবৎধঃরড়হ দেখতে পাই। সেসব গাণ্ডুদের দেখতে পাই যারা একটু উসকানি পেলেই পাশের হিন্দু প্রতিবেশীর পূজামন্ডপ হই হই করতে করতে গুঁড়িয়ে দিতে পারে।
কে কী বিশ্বাস করবে, কে কী চর্চা করবে সেটা একেবারেই ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু আপনার সংস্কৃতিকে আপনি বুকের ভেতর লালন করছেন নাকি করছেন না সেটা ব্যক্তিগত নয়। এর প্রভাব সমাজে পড়ে, রাষ্ট্রে পড়ে। আপনার সংস্কৃতি আপনাকে সাম্প্রদায়িক হতে শেখায় না, অন্য ধর্মের প্রতি অসহনশীল হতে শেখায় না। আর এই সংস্কৃতিকে লালন করতে না পারলে বুকের ভেতর, এই দেশ আসলেই আপনার নয়। আপনারা পরভূমিতে বসে বসে বংশ বৃদ্ধি করছেন, এই দেশের সুরটাকে বেসুরো করে তুলছেন। রাষ্ট্রের দায়, সরকারের ভুলভ্রান্তি নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে, আরও হবে। কিন্তু আপনার-আমার দায় আমরা কী এড়িয়েই যাবো? গলদটাতো গোড়াতে। পারিবারিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায়। ধরেন ৭২ এর সংবিধান ফিরে আসলো, কিন্তু আপনার সন্তান তখনো, কোনো পূজামন্ডপের সামনে দিয়ে আসার সময় বিড়বিড় করে বলে উঠলো, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ!’-তাহলে লাভটা কী হলো? যাই হোক, তবুও রাষ্ট্রের কাছে দুটো দাবি রেখে গেলাম। ৭২ এর সংবিধান ফিরে আসুক, মাদ্রাসা বন্ধ হোক। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। ঋধৎযরহ কযধহ ঔড়ুরঃধ-র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ুন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]