• প্রচ্ছদ » » কষ্ট পাই, ঘুমাতে পারি না। কী হওয়ার ছিলো, আর কী হয়ে গেলো!


কষ্ট পাই, ঘুমাতে পারি না। কী হওয়ার ছিলো, আর কী হয়ে গেলো!

আমাদের নতুন সময় : 23/10/2021

সুপ্রীতি ধর

একটি মেয়ের লেখা পড়লাম, একাত্তর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তাদের পরিবার নানাভাবে আক্রান্ত হয়েছে, আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়েছে। সবসময় কিছু জরুরি কাগজপত্র তৈরিই থাকতো তাদের যেন বিপদে আর কিছু না হোক, সেগুলোকে রক্ষা করা যায় বা সেগুলো নিয়ে গৃহত্যাগ করা যায়। দৃশ্যটা চিন্তা করা যায়? একটা সোকলড স্বাধীন দেশে, নিজদেশে সবসময় ‘উচ্ছিষ্ট’ হয়ে থাকার যন্ত্রণা কী হতে পারে? বিদেশে এসে যারা সংখ্যালঘু হয়ে যায় তাদেরও এমন অসহায় থাকতে হয় না। কারণ সেসব রাষ্ট্রের কিছু না কিছু নীতি থাকেই যা তাদের সহায় হয়। কিন্তু বাংলাদেশে? আমি জানি না, আমার মনে পড়ে না ছোটবেলায় এমন আতঙ্ক আর ছিলো কিনা একাত্তরের পর! তখন দেশ যখন যেমন ভয়াবহতার মধ্য দিয়ে গেছে, আমরা সবাই মিলেই সে সময়টা পাড়ি দিয়েছি। জানি না ভুলও হতে পারে। ছোট ছিলাম বলে হয়তো ভয়াবহতার মাত্রাটা বুঝতে পারিনি। আমি ওই মেয়েটির জায়গায় নিজেকে বসিয়ে দিয়ে ভাবতে চেষ্টা করলাম, প্রচণ্ড দমবন্ধ লাগছে।
এবারকার এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষগুলো কোথায় যাবে? কীভাবে বাঁচবে তারা? রামুর ঘটনার পর সরকার নতুন নতুন কী সব বাড়িঘর তুলে দিয়েছে। চারশো বছরের প্রাচীন স্থাপত্যকলাসম্পন্ন মন্দির ভেঙে ফেলে সেখানে এখন শোভা পায় স্কুলঘরের মতো কিছু ঘরবাড়ি। ঐশ্বর্যহীন এসব ঘরে ভাঙা মন নিয়ে আর যাই হোক প্রার্থনা হয় না। রংপুরের ঊনমানুষগুলোও নতুন ঘর পাবে, গরুছাগলও পাবে, কিন্তু রাতের আঁধারে আগুনের লেলিহান শিখা যে অন্তরকে দগ্ধ করে দিয়েছে, সেটা কীভাবে পূরণ হবে? প্রতিবেশীর সঙ্গে আর কি হবে সৌহার্দ্য? সম্ভব? সম্প্রতি একজন আমাকে বলেছে, দেশের পরিস্থিতি আমরা যেভাবে দেখছি সে রকম নয়, বিদেশে বসে দেশ নিয়ে কথা বলার অধিকার আমার নেই। আমি তাকে ব্লক করে দিয়েছি। কিন্তু ওই যে একটা কথাই তো আমাকে ‘শেষ’ করে দিলো। দেশটা কি আমার নয়? ওই লোকের দেশ কেবল? কী ভয়াবহ মানসিকতা একেকজনের। কষ্ট পাই, ঘুমাতে পারি না। কী হওয়ার ছিলো, আর কী হয়ে গেলো! ঝঁঢ়ৎরঃর উযধৎ-র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ুন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]