• প্রচ্ছদ » » শৈশব থেকেই যেখানে শিক্ষা বিভাজিত সেখানে ধর্মীয় সম্প্রীতির আশা করা বোকামি


শৈশব থেকেই যেখানে শিক্ষা বিভাজিত সেখানে ধর্মীয় সম্প্রীতির আশা করা বোকামি

আমাদের নতুন সময় : 23/10/2021

শারফিন শাহ

একটি শিশু তার প্রথম জীবনেই দেখতে পাচ্ছে, হিন্দু ধর্ম শিক্ষা, বৌদ্ধ ধর্ম শিক্ষা, খ্রিস্টান ধর্ম শিক্ষা প্রভৃতি বিভাজন। মানে এখানেই নিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে, যার ধর্ম যার যার। পরবর্তীতে ধর্ম যার যার উৎসব সবার স্লোগান দিলেই কি তা সুফল দেবে? কেন প্রাথমিক শিক্ষায় হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সব ধর্মের সমন্বয় করে আন্তঃধর্ম শিক্ষা নামক একটি পাঠ্যবই করা গেলো না? হিন্দু কেন মুসলমানের জীবনযাপন সম্পর্কে অজ্ঞ থাকবে? মুসলমান কেন হিন্দুর দেবদেবীর নাম জানবে না? গোড়ায় গণ্ডগোল লেগে থাকলে আগায় পানি দিয়ে কোনো লাভ হবে না। শিক্ষার সমস্যাটাই বড় সমস্যা। এটার সমাধান না হলে রাজনীতিতেও ধর্মের ব্যবহার প্রয়োজন পড়বে জনসমর্থন আদায়ের জন্য। বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক গোড়া মুসলমান তৈরিতে অবদান রেখে চলেছে শুধু ধর্মভিত্তিক শিক্ষা। তারা নিজ ধর্ম ছাড়া অন্য ধর্ম মানতেই পারে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক সেদিন বলছিলেন, বাঙালি মুসলমান মরার আগে তিনবার মরে! প্রথমবার মরে শিক্ষাজীবনে, তারা যা পড়ে ডিগ্রি পায় তার বাইরে কিছু শিখতে অনাগ্রহী, দ্বিতীয়বার মরে বিবাহিত জীবনে, বিয়ের পর সংসার ছাড়া দুনিয়ার আর কিছু মনে ধরে না, তৃতীয়বার মরে সন্তান লাভের পর, ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুর অন্তরে, পিতা যেমন, যা পছন্দ করে তাই পুত্রের বা কন্যার ওপর চাপিয়ে পটল তোলেন! ইউরোপে বা পশ্চিমে তুমি এমনটা পাবে না। তাদের সন্তানরা হামাগুড়ি পেরোলেই স্বাধীন, কে কী করছে, কোন ধর্ম পালন করছে এসব নিয়ে বাবা-মায়ের ঘুম হারাম করতে হয় না। তারা ধর্ম নিয়ে বলতে গেলে ভাবেই না, একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে নেয়, আমরা যখন সারাদিন ধর্ম ধর্ম করি তারা তখন নতুন কিছু আবিষ্কার করে চলেছে পৃথিবীর মঙ্গলের জন্য। এ জন্যই পৃথিবীর সমস্ত কর্তৃত্ব তাদের হাতে! আমরা তাদের হাতের খেলার পুতুল! লেখক ও গবেষক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]