• প্রচ্ছদ » » লিটনকে ‘বলির পাঁঠা’ বানাতে পারলে বাকিরা দায় এড়াতে পারেন?


লিটনকে ‘বলির পাঁঠা’ বানাতে পারলে বাকিরা দায় এড়াতে পারেন?

আমাদের নতুন সময় : 27/10/2021

মঞ্জুরুল হক : বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে নিয়মিত লিখি না ১৮ বছর হলো। লেখার ইচ্ছাও নেই, কারণ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ক্রিকেটারদের পারফরমেন্স খারাপ হলে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হয়। কেউ নিতে পারে, কেউ না পেরে ক্ষুব্ধ হয়। আর এখানে ক্রিকেটাররা তো ক্ষুব্ধ হয়ই, সঙ্গে ম্যানেজমেন্ট, কোচ, সমর্থক এবং ক্রীড়া সাংবাদিকরাও ক্ষুব্ধ হয়ে তেড়েফুঁড়ে মারতে আসে। তাই বাংলাদেশের ক্রিকেট টিমই শুধু তলানিতে নয়, এর সঙ্গে জড়িত স্টেক হোল্ডাররাও তলানিতে। যাকগে। শ্রীলঙ্কা ম্যাচে যা হয়েছে তাতে মাহমুদউল্লাহ সব দোষ লিটন দাসের ঘাড়েই চাপিয়েছেন। যদিও টেকনিক্যালি অন্য ত্রুটিগুলোও ‘টাচ’ করে গেছেন। টিম মিটিংয়ে, টিমের বাইরে কী হচ্ছে সেটা আমরা কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। কিন্তু পরদিন দেশের একমাত্র স্পোর্টস চ্যানেলে যেভাবে ফ্রেম বাই ফ্রেম স্টিল ছবি দেখিয়ে লিটনের দু’টো ক্যাচ ড্রপ, মাঠে মেজাজ হারানো এবং বাজে শট খলে আউট হওয়া নিয়ে রিপোর্ট করলো না শুধু, রীতিমতো বলে দিলো- ‘পরের ম্যাচে তাকে বাদ দেওয়া নিশ্চিত’। অতিথি আলোচক হান্নান সরকার যতো বলে- ‘এটা পার্ট অব ক্রিকেট। একটা-দু’টো ক্যাচ নেওয়া বা ফেলে দেওয়া নিয়ে একটা ক্রিকেটারকে জাজ করা যায় না’, ততোই উপস্থাপক লিটনকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেই গেলেন!
কেউ কি বলবেন, এটা সাংবাদিকতার কোন নর্মসে পড়ে? আপনি উপস্থাপক, রিপোর্টার, দর্শক যেই হন, আপনি ওপেন স্পেসে আপনার মতামত দিতে পারেন। সিদ্ধান্ত নয়। তারা সেই বেসিকটাও জানে না। ওই উপস্থাপকের জন্য এবার কয়েকটি ‘হ্যাপেন্স’ নিবেদন করি- [১] নাসুম প্রথম ওভারেই কাজের কাজটি করে দেওয়ার পর তাকে ৩ নম্বর ওভার দেওয়া ভুল ছিলো। জানা কথা রিভেঞ্জ অ্যাটাক হতে পারে। হয়েছেও। [২] শ্রীলঙ্কা পাওয়ার প্লেতে ৫৪ রানে ১ উইকেট। তারা ১০ ওভারে ৪ উইকেট হারানোর পর সাকিবকে আরও একটা ওভার দেওয়া উচিত ছিলো। [৩] নিয়মিত ৫ বোলার খারাপ না করার পরও ক্যাপ্টেন আর আফিফ ৩ ওভার বল করা অনুচিত ছিলো। ওই ৩ ওভারে শ্রীলঙ্কা ৩৬ রান নিয়েছে!
[৪] ক্রিকেটে ‘ল’ অব অ্যাভারেজ বলে একটা কথা আছে। মানে গত ম্যাচে যে ভালো করেছে আজও সে ভালো করবে এটা প্রমাণিত নয়। তাই কোয়ালিফাই ম্যাচে ভালো করেছে বলেই সেট হয়ে যাওয়া জুটির সামনে সাইফুদ্দিনকে আনা ভুল ছিলো। সে এক ওভারেই ২২ রান দিয়েছে, যা এই আসরে ১ ওভারে যেকোনো বোলারের সর্বোচ্চ রান। [৫] ‘ল’ অব অ্যাভারেজ সূত্রেই দিনটা মুস্তাফিজের ছিলো না। তাকে খেলার কৌশলটা আসালাঙ্কা-রাজাপাক্সে বুঝে ফেলেছিলো। ক্রিজ ছেড়ে ফুটখানেক এগিয়ে তাকে খেলেছে। তাই তাকে আগে-পরে শাফল না করা ভুল ছিলো। [৬] ক্যাপ্টেন বাউন্ডারি ঠেকাতে ডিপে ফিল্ডার দাঁড় করিয়ে নিরাপদে সিঙ্গেলস নিতে দিয়েছেন। তাতে করে ব্যাটাররা চাপমুক্ত হয়েছে।
এবার আসি ফিল্ডিং প্রসঙ্গে। আপনারা যখন লিটনকে শূলে চড়াচ্ছেন তার আগে মনে করুন তো শ্রীলঙ্কার রান ৩০ হওয়ার আগে লিটন কীভাবে নিশ্চিত বাউন্ডারি ঠেকিয়েছিলো এবং সে সময় আতাহার আলী পর্যন্ত বললেন, ‘একজন কিপারের পক্ষে এমন দুর্দান্ত বডিড্রাইভ ফিল্ডিং আমেইজিং’! এরপর সাকিব। তার হাত ফস্কে একটা ইজি বল কি ৪ হয়ে যায়নি? কই তাকে তো কাঠাগড়ায় তুললেন না? লিটনের দু’টো ক্যাচ ড্রপ্ড। প্রথম ক্যাচটা তিনি ৮/১০ মিটার দৌড়ে এসে বলের লাইনে দাঁড়ানোর পর যখন বুঝলেন লাইন মিস করেছেন, একটু বেশি এগিয়ে গেছেন, তখন পেছনে ফেরার উপায় না পেয়ে লাফ দিয়েও বল গ্রিপ করতে পারেননি। ক্যাচটা কঠিন ছিলো। দ্বিতীয় ক্যাচটা তুলনামূলক সহজ ছিলো, কিন্তু কেন পারলেন না? কেন তার তালুতে না এসে বল আঙুলে লেগে পড়ে গেলো? কারণ তিনি উইকেট কিপার। কিপিংয়ের সময় হাতে গ্লাভস থাকে। সেই মেজারমেন্টেই ডাইভ দিয়েছিলেন, কিন্তু গ্লাভস পরা হাত আর খালি হাতের যে এক-দু ইঞ্চি ব্যবধান থাকে তাতেই তিনি মিস করে বসলেন। জানি, এসব বিষয় ম্যানেজমেন্ট, ক্যাপ্টেন বা তীব্র ভর্ৎসনাকারীদের বিবেচনায় আসবে না। লিটনকে ‘বলির পাঁঠা’ বানাতে পারলে বাকিরা দায় এড়াতে পারে। বলি কী, লিটনকে আপনারা ঝেড়ে ফেলে দিন। ওপেনারের অভাব নেই দলে। তাতে করে অন্তত ম্যাচ হারা, ক্যাচ ছাড়া, বিমর্ষ ভিন্ন ধর্মের ছেলেটা রেহাই পায়। গড়হলঁৎঁষ ঐধয়ঁব-র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ুন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]