• প্রচ্ছদ » » মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের উদ্দেশে খোলা চিঠি : কেউ জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়


মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের উদ্দেশে খোলা চিঠি : কেউ জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়

আমাদের নতুন সময় : 28/10/2021

এ বি এম কামরুল হাসান

আমি ক্রিকেট বোদ্ধা নই। ক্রিকেট যোদ্ধাও নই। তবে একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা। বাংলাদেশ ক্রিকেটের একজন ভক্ত, নিয়মিত দর্শক। যে বিষয়টি নিয়ে আজ লিখছি, তার জন্য আমাকে ক্রিকেট বোদ্ধা হওয়ার দরকার নেই। একজন সাধারণ নাগরিক হলেই হয়। ঘটনার সূত্রপাত টি-২০ বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের প্রথম খেলায় স্কটল্যান্ডের সঙ্গে পরাজয়ের পর থেকেই। বিসিবি বস বললেন, ওই খেলায় আপনাদের প্ল্যান, অ্যাপ্রোচ আর অ্যাটিচুড তাঁর পছন্দ হয়নি। তিনি কোটি দর্শকের মনের কথা বলেছেন। আপনি প্রতিক্রিয়া জানালেন, আপনারাও মানুষ। বস পাপন তার যথার্থ উত্তরও দিয়েছেন। আপনাদের মতো সারা দেশের মানুষও মানুষ। আপনার সহযোদ্ধা মুশফিক আয়নাতত্ত্ব দিয়েছেন। সমালোচনাকারীদের আয়নায় নিজেদের মুখ দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। বলেছেন, তাঁরা দেশের জন্য খেলেন। তিনি দেশের জন্য খেলেন। আমরা সবাই দেশের জন্য করি। যে যার অবস্থান থেকে দেশের জন্য করি। একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা মুশফিকের মন্তব্যের উত্তর দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ‘আমিও দেশের জন্য খেলি, আপনি ব্যাট-বলে আর আমি মাথার ঘাম পায়ে ফেলে। আপনারা যেমন পেইন কিলার খেয়ে খেলেন, আর আমরা প্রবাসীরা পেইন কিলার তো দূরের কথা, ভাতটাই সময়মতো খেতে পারি না।’
প্রিয় ক্রিকেট যোদ্ধা রিয়াদ, খেলায় জয় পরাজয় থাকে। একদল জিতবে, আরেকদল হারবে। এটাই খেলা। এটা মেনে নিয়েই দর্শকরা খেলা দেখতে বসে। আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ নিকট অতীতে ভালোই করছে, মাঝে মাঝে। নেতৃত্ব নিয়ে কিছু বলছি না। বলছি, আপনাদের সহনশীলতা আর জবাবদিহিতা নিয়ে। ইদানীং আপনাদের মধ্যে এ দু’টোর অভাব লক্ষণীয়। আপনাদের ভুলে গেলে চলবে না, আপনারা বিনা পয়সায় খেলেন না। আপনারা চাকরি করেন। তার জন্য মাইনে পান। বঙ্গবন্ধুর ভাষায় বলতে হয়, ‘আপনার মাইনে দেয় ওই গরিব কৃষক, আপনার মাইনে দেয় ওই গরিব শ্রমিক, আপনার সংসার চলে ওই টাকায়…তাদের সম্মান করে কথা বলেন, তাদের ইজ্জত করে কথা বলেন। তারাই মালিক।’
যাদের টাকায় আপনাদের মাইনে হয়, তাদের চেহারা সেদিন শারজাতে দেখেছেন কিনা জানি না। আমরা যারা টিভির দর্শক, তাঁরা তাদের মুখগুলো সাত হাজার কিলোমিটার দূর থেকেও দেখেছি। চিনেছি। এক যুগ পরবাসী হওয়ার সুযোগে বুঝেছি, এরা তারাই। একদিন কাজ না করলে যাদের খাওয়া জোটে না। এই তারাই কাজ বাদ দিয়ে স্টেডিয়ামে গেছে খেলা দেখতে। সোশ্যাল মিডিয়াতে বলতে শুনেছি তাঁরা অনেক দূর থেকে এসেছে। কেউ কেউ দশগুণ দামে টিকেট কিনেছে। কেউ বলছে, আজ কাজ ফাঁকি দেওয়ার জন্য চাকরিও চলে যেতে পারে। তাঁরা সমালোচনা করছেন। দেশে যাঁরা কৃষক, শ্রমিক, করদাতা- তাঁরা সমালোচনা করছেন। তাঁদের মনের কথা বস পাপন বলছেন। আর আপনার সহকর্মীরা সমালোচনাকারীদের আয়নাতত্ত্ব দিচ্ছেন। জবাবদিহিতার বালাই নেই।
জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে কেউ নন। যাদের বেতন হয় কৃষক, শ্রমিক, করদাতা আর রেমিটেন্স যোদ্ধার টাকায়, তাঁরা তো ঊর্ধ্বে নয়ই। তাই বলছি, সহনশীল হন, নিজেদের মধ্যে জবাবদিহিতার মানসিকতা তৈরি করুন। আপনার আরেক সহকর্মী লিটন, দু’টি সহজ ক্যাচ ধরতে পারেননি। বস পাপন তো বলেছেন, তিনি ক্রিকেট খেলেন না। কিন্তু এমন ক্যাচ পেলে ধরে ফেলতে পারতেন। জানি, এটা কথার কথা। ক্রিকেটের এমন বিশ^ আসরে এমন সহজ ক্যাচ মিস হলে সমালোচনা তো হবেই। এসবের জন্য আয়নাতত্ত্ব, আমরাও মানুষ, ভুল তো হয়, দেশের জন্য আমরাই খেলি, সে অভিজ্ঞ ফিল্ডার- এসব না বলে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
আমি প্রথমেই বলেছি, আমি একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা। পেশা চিকিৎসক। আমি যতো বড় ফিল্ডারই (চিকিৎসক) হই না কেন, দেশের কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যদি দু’টা ক্যাচ (জীবন) মিস করতাম তাহলে কিল, ঘুষি, লাঠি, লাথি- একটাও কি মাটিতে পড়তো? এমনটি হলে আপনি বা আপনার বর্তমান, প্রাক্তন সহকর্মীরা কি আমাকে ক্ষমা করতেন? শুকরিয়া, আপনাদের ক্ষেত্রে এমনটি হচ্ছে না। শুধুই সমালোচনা হচ্ছে। এসব সমালোচনা মেনে নিয়ে তার জবাব নিজের কাজের মাধ্যমে দেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলুন। পেশাদারিত্ব দিয়ে সব সমালোচনা মোকাবেলা করুন। সামনের দিনগুলোতে আপনাদের ইনজুরিমুক্ত সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য কামনা করছি।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]