• প্রচ্ছদ » » তাঁর বিদেশে চিকিৎসায় পক্ষ বিপক্ষের প্রতিপক্ষের বক্তব্য


তাঁর বিদেশে চিকিৎসায় পক্ষ বিপক্ষের প্রতিপক্ষের বক্তব্য

আমাদের নতুন সময় : 27/11/2021

হাসান শান্তনু

আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হবেন, সরকারের সব কৌশল চূড়ান্ত! বঙ্গবন্ধু, তাঁর পরিবারের প্রতি স্বভাবজাত বিদ্বেষী, উদ্ভট সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেন নিজের ঘনিষ্ঠজনদের কাছে অতি উৎসাহের সঙ্গে তাঁকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি রাজনীতি থেকে ‘মাইনাসের’ কথা নিশ্চিত করছেন! বৈশ্বিক প্রচারমাধ্যম ‘ইকোনোমিস্ট’ এক প্রতিবেদনে দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে সরাতে ‘সরকারি উদ্যোগের’ কথা জানায়, দেশীয় কয়েকটি পত্রিকাও ইঙ্গিত দেয়। তখন এক এগারোর কাল। সাপ্তাহিক এখনে সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে- জাতির জনকের মেয়ে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার পরিকল্পনা, প্রক্রিয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে সেদিন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা, দলটির সমর্থক বুদ্ধিজীবী, লেখক, সাংবাদিক এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। এখন সম্পাদক, বরেণ্য সাংবাদিক আতাউস সামাদ নিজেও কয়েকজনকে ফোনে বলেন, শেখ মুজিব তনয়া শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়ার বিষয়ে। সাংবাদিক স্বদেশ রায়ও কয়েকজনকে অনুরোধ করেছিলেন। তাঁদের কেউ সেদিন সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি। শুধু একজনের অনন্য সাধারণ সাহসী বক্তব্যের সাক্ষাৎকার পেয়েছিলো এখন, তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. তালুকদার মনিরুজ্জামান, সেটা আমি নিয়েছিলাম। বলেছিলেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে পৌরাণিক কাহিনির পবিত্র অনল প্রভা থেকে জন্ম নেওয়া ফিনিক্স পাখির মতো। গ্রেপ্তার করে তাঁকে রাজনীতি থেকে সরাতে চাইলেই তা সম্ভব হবে না।’ এর পরের সপ্তাহে আওয়ামী লীগের নেত্রী মতিয়া চৌধুরী এখনকে দুর্দান্ত সাহসী বক্তব্যের সাক্ষাৎকার দেন একই প্রসঙ্গে।
এখন পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ, সাক্ষাৎকারগুলো মুদ্রিত অক্ষরে এখনো আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সেদিন ভয়ঙ্কর উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া, গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে যাঁরা সাক্ষাৎকার দেননি, দুইনেত্রীকে রাজনীতি থেকে ‘সরানোর’ খেলায় যাঁরা মেতে ওঠেন, তাঁরা আওয়ামী লীগের ভক্ত সেজে মাঠে নামতে দেরি করেননি, ২০০৯ সালের ৫ জানুয়ারি তাঁর নেতৃত্বে সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকে। বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে লেখক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকদের মধ্যে তাঁর ভক্ত সেজে সুবিধা নেওয়ার লোকের অভাব ছিলো না। তাঁর সরকার থেকে মওলানা ভাসানীর জীবনী লিখতে ‘দলনিরপেক্ষ’ লেখক, সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ, জিয়াউর রহমানের জীবনী লিখতে সুশীল অর্থনীতিবিদ মোজাফফর আহমদ সরকারি সুবিধা নেন বলে অভিযোগ আছে। তাঁর সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় পদক, পুরস্কার নিতে প্রগতিশীল কবি, লেখকদের তদবিরবাজি অনেক সাংবাদিকেরই মুখস্থ। খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। দল ও পরিবারের সরকারের প্রতি দাবি- উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতির। এ দাবির পক্ষে তাঁর সরকারের আমলে সরকারি সুবিধা নেওয়া ‘নিরপেক্ষ’ সাংবাদিক, লেখক, কবিদের মধ্যে কেউ কথা বলেননি। যা আসলে ক্ষমতার বাইরে, বা রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় থাকলে স্বার্থান্ধ লেখক সমাজের ভূমিকার আরেকটা নজির! ‘ফাঁক’যুক্ত পত্রিকার কথিত সাংবাদিক তাহের ঠাকুররা আওয়ামীপন্থি ভেক ধরলেও তাদের ঘাতকতার কথা ভুলে যাওয়া ঐতিহাসিক ভুল। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ব্যর্থতা, ভুল অবশ্যই আছে। পৃথিবীর অসংখ্য রাজনীতিবিদের ব্যর্থতার সঙ্গে ক্ষমতায় থাকাকালে নিষ্ঠুরতাও সমালোচনার নাগালের বাইরে নয়।
তিনি এখন মৃত্যুর কাছাকাছি। তাঁর বিদেশে চিকিৎসার জন্য সরকারপ্রধান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ মেয়ে শেখ হাসিনার মানবিক বিবেচনা ছাড়া আর কোনো পথ সম্ভবত খোলা নেই। কারণ খালেদার বিরুদ্ধে থাকা মামলা, আদালতের রায়ের গতিপ্রকৃতি সাধারণত নির্ভর করে রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের ওপর। দলগুলো এ ধরনের মামলাকে উপস্থাপন করে থাকে রাজনৈতিক মামলা হিসেবে। বিএনপি এ ক্ষেত্রে শুরু থেকেই ব্যর্থ। সাজাপ্রাপ্ত কাউকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে আইনে স্পষ্ট কিছু নেই। আইনি লড়াইয়ে বিএনপির জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা তেমন নেই। দলটির শীর্ষ বেশ কয়েক নেতা খালেদার চিকিৎসার প্রশ্নে আন্তরিক নন, এটাও প্রমাণিত। খালেদা জিয়ার রোগ, প্রকৃত শারীরিক অবস্থা বিএনপি মোটেও তুলে ধরতে পারেনি মানুষের কাছে। রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া আর আস্থাযোগ্য তথ্য তুলে ধরা মোটেও এক বিষয় নয়। দলীয় কোনো ওয়েববসাইট থেকে বিএনপি সেগুলো তুলে ধরলে সরকারের বাধা দেওয়ার সুযোগ থাকতো না। দলটি তাঁর শারীরিক অগ্রগতি, অবনতির বিষয়ে নিয়মিত বুলেটিনের প্রয়োজনীয়তা বোধ করলো না, করছে না। কেন করেনি, বা করছে না? মায়ের এমন শারীরিক অবস্থার কথা জেনেও যুক্তরাজ্যে থাকা ছেলে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কেন দেশে আসছেন না, এটাও প্রশ্ন। বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে বিএনপির চলমান কর্মসূচি আওয়ামী লীগের সরকারকে রাজি করাতে পারবে, দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেকেই তা মনে করছেন না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিলে আওয়ামী লীগেরই লাভ হবে। রাজনৈতিক ইতিহাসের নিরপেক্ষ আলোচনায় একদিন দলটির, সরকারের ভূমিকার কথা উঠে আসবে। কোন দল ক্ষমতায় থাকাকালে কী করেছে, না করেছে- ইতিহাসের পর্যালোচনায় সেসব ঠাঁই পাবেই। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]