• প্রচ্ছদ » » ছাত্রদের আন্দোলন পথ দেখিয়েছে, তাদের সঙ্গে জনতার একাত্ম আন্দোলনই একমাত্র ভরসা, অন্য কোনো উপায় নেই এই অচলায়তন ভাঙার


ছাত্রদের আন্দোলন পথ দেখিয়েছে, তাদের সঙ্গে জনতার একাত্ম আন্দোলনই একমাত্র ভরসা, অন্য কোনো উপায় নেই এই অচলায়তন ভাঙার

আমাদের নতুন সময় : 01/12/2021

ফিরোজ আহমেদ

রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে যার ন্যূনতম বোঝাপড়া আছে, তিনি বুঝবেন ‘গণপরিবহনে’ আগুন লাগাতে থাকবে ‘উত্তেজিত’গণরা। রাষ্ট্রনীতি পড়া অনেকেই আপনাকে হয়তো এটাও বোঝাতেও আসবেন- এবং এই কথাটা খুবই ঠিকও- আগুন লাগিয়ে সমাধান নেই। তবু আগুন লাগানো মানুষগুলোর মনস্তত্ত্বকে, তাদের ক্রোধকেও আমাদের বুঝতে শিখতে হবে। মানুষ যখন দেখে সড়কে মৃত্যু হয় স্রেফ অবহেলায়, স্রেফ প্রতিযোগিতায়, সেটার সমাধান আছে এবং সেটা বাস্তবায়নযোগ্য, কিন্তু এই প্রতিযোগিতা মালিক সমিতির নেতাদের, পুলিশের কর্তাদের বাড়তি আয়ের উৎস বলে সেটা বন্ধ করা হবে না- তখন প্রতিকারহীন নালিশ পরিণত হয় অন্ধ ক্রোধে। এই মৃত্যুগুলোর জন্য ঘটনা ঘটিয়ে দেওয়া বাসচালকও দায়ী নয়। বাসগুলোও দায়ী নয়। এগুলোর সকল দায় দুটো পক্ষের: পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা, যারা এভাবে বাসচালকদের বাধ্য করেন প্রতিযোগিতায় নামতে, আর নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় যে সংস্থাগুলোর দায়িত্ব ছিলো সড়কে একটা সুষ্ঠু বন্দোবস্ত কায়েম করা। আর রাজনৈতিক দায় সেই গুণ্ডাতন্ত্রের, যারা মানুষকে জিম্মি করা এই ব্যবস্থাকে নিজের স্বার্থে টিকিয়ে রাখছে, শান্তিপূর্ণ দীর্ঘ আন্দোলনকে যতোভাবে পারে দমিয়ে রাখছে, উপেক্ষা করছে।
সড়কে একতরফাভাবে নাগরিকরা মার খাচ্ছেন। বাড়তি বাস ভাড়া নিয়ে তাদের পকেট কাটা হয়, প্রতিদিন প্রাণের আতঙ্ক নিয়ে তারাই রাস্তায় চলাচল করেন। কোনো সমাধান যদি দূরকল্পনাতেও না থাকে, তখন প্রতিশোধ স্পৃহা কাজ করে, কাজ করে নিজেদের হাতে থাকা আগুনের অস্ত্রটা ব্যবহার করে অপরপক্ষকে ভয় দেখাতে। সড়কে কোনো শৃঙ্খলা না আনলে, সড়কটা যাদের জন্য লাভের খনি, সেই সরকারি-বেসরকারি চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রণে না আনলে উন্মত্ত প্রতিযোগিতা চলতেই থাকবে, মৃত্যু ঘটতেই থাকবে। তাই এগুলো নিছক দুর্ঘটনা হয়, কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড। বাসচালকরা নন, খুনিরা মন্ত্রী থেকে শুরু করে মালিক সমিতির নেতা এবং পুলিশও। নিরাপদ সড়কের আন্দোলন দেশটাকে মেরামত করার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে আজ, কেননা তারা ভাবে কোনো জায়গায় লাগাম আলগা হলে বাকি সকলে তাদের ন্যায্য পাওনাটা চাইতে শুরু করবে। পাকিস্তানের আইয়ুব খান ঠিক এভাবে ভেবেছিলো, ঊনসত্তরে ছাত্রদের মাঠে নামার পর তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কিছু সংস্কারের দাবি করলে স্বৈরশাসক আইয়ুব নিজেকে দুর্বল দেখায় এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে রাজি হননি। নিয়মিত মৃত্যু আর উত্তেজিত জনতার আগুন লাগানো ঘটতে থাকবে, নাকি সড়ক নিরাপদ হবে, সংগঠিত, দৃঢ় এবং অনমনীয় আন্দোলনের বিজয় হবে? ছাত্রদের আন্দোলন পথ দেখিয়েছে, তাদের সঙ্গে জনতার একাত্ম আন্দোলনই একমাত্র ভরসা, অন্য কোনো উপায় নেই এই অচলায়তন ভাঙার। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]