• প্রচ্ছদ » » গ্রামের ছেলেমেয়েরা পায়ে হেঁটে রোজ ৫ মাইল দূরের স্কুলে পড়তে যেতে পারে, শহরের ছেলেমেয়েরা কেন হাঁটতে পারবে না?


গ্রামের ছেলেমেয়েরা পায়ে হেঁটে রোজ ৫ মাইল দূরের স্কুলে পড়তে যেতে পারে, শহরের ছেলেমেয়েরা কেন হাঁটতে পারবে না?

আমাদের নতুন সময় : 02/12/2021

রেজা ঘটক : ঢাকার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে পরিমাণ টাকা আদায় করে, তার বিপরীতে তারা শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা করে না কেন? কেন শিক্ষার্থীদের পাবলিক বাসে উঠতে হবে? ঢাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা না করেই কীভাবে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি করে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার নামে আদতে ব্যবসায়ী এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গিও ব্যবসায়ী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়ী হতে দিয়ে এবং সেখানে সরকারি কোনো নজরদারি না থাকায় আজকের এই অরাজকতা। সরকারিভাবে আইন করুন- কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবহন ব্যবস্থার সামর্থ্য অনুযায়ী কেবল তারা শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে। তাদের যদি ১০টা বাস থাকে তারা ৫০০-এর বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারবে না। পাবলিক বাসে কেন শিক্ষার্থীদের উঠতে হবে? কারণ দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা থাকা দরকার, তা তারা করছে না বলেই শিক্ষার্থীদের পাবলিক বাসে উঠতে হচ্ছে। গোড়ায় গলদ রেখে এই সমস্যার সমাধান হবে না। এখানে দুই পক্ষই ব্যবসায়ী। একটা পক্ষ শিক্ষা প্রদানের নামে ব্যবসায়ী, অন্য পক্ষ পরিবহন সেবার নামে ব্যবসায়ী।
প্রথমপক্ষের ব্যবসা আপনার চোখে পড়লেও তা নিয়ে সরকারের কোনো নজরদারি বা কঠোর আইন নেই। আর জনগণ তা শিক্ষাসেবা পাবার নামে নীরবে মেনে নিচ্ছে। আর দ্বিতীয়পক্ষ ব্যবসায়ী এবং মাস্তান। তারা ব্যবসাও করবে, মানুষও মারবে আবার তাদের স্বার্থে টান পড়লে নিজেদের লোকজন নামিয়ে আন্দোলন করবে, পরিবহন বন্ধ করে দেশ অচল করে দেবে, জনদুর্ভোগ বাড়াবে। মূল কথা হলো- এ দেশে ৫০ বছরে কোনো সিস্টেম দাঁড় করানো যায়নি। আইন কেবল কাগুজে দলিল। বাস্তবে সবাই ব্যবসায়ী। আবার উভয় পক্ষের মালিক শ্রেণি দেশের এমপি, মন্ত্রী, রাজা-উজির। শহরের শিক্ষার্থীদের কেন হাঁটার অভ্যাস থাকবে না? তাদের কেন বাসে উঠে স্কুলে যেতে হবে? হেঁটে বা সাইকেল কেন নয়? গ্রামের ছেলেমেয়েরা যদি পায়ে হেঁটে রোজ ৫ মাইল দূরের স্কুলে পড়তে যেতে পারে, একই দেশের শহরের ছেলেমেয়েরা কেন হাঁটতে পারবে না? নাকি শহরে থাকার সুযোগে তাদের হাঁটাহাঁটি করার দরকার নেই? শহরের শিক্ষার্থীদেরও পায়ে হাঁটার অভ্যাস করতে হবে। সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাওয়ার মানসিকতা গড়তে হবে। পাবলিক বাসে হাফ ভাড়ার সুযোগে তারা নিজেরাই নিজেদের সামর্থ্যকে নষ্ট করছে। ঢাকার ছেলেমেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই, সাঁতারের ব্যবস্থা নেই, ঢাকা শহরে পাবলিক বাসে উঠে ট্রাফিক জ্যামে কেন তারা তাদের জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে?
পায়ে হেঁটে স্কুলে গেলে রোজ পথেই সে জীবনের অনেক শিক্ষা পেতে পারে, যা স্কুল থেকে শেখার উপায় নেই। কারণ ওগুলো মূলত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলেছি, যেখানে বাপ-মায়েরা দুর্নীতি করে ছেলেমেয়েদের উচ্চ বেতনের ভালো স্কুলে পড়ায়। আর তাদের ছেলেমেয়েরা কেবল সবকিছুতে আরাম খোঁজে। এই প্রবণতা মোটেও একটি রাষ্ট্রের জন্য শুভ নয়। একটি গ্রামের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনার জন্য কষ্ট করতে পারলে শহরের ছেলেমেয়েরা পারবে না কেন? রাষ্ট্রীয়ভাবে এই বৈষম্য কেন? আর যদি পারফর্ম দেখেন দেখবেন সব ধরনের খেলাধুলায় গ্রামের ছেলেমেয়েরা এগিয়ে। শহরের ছেলেমেয়েরা এক্সপয়েল। কারণ বেশি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে তারা এক্সপয়েল হচ্ছে। কারণ তাদের বাপ-মায়েরা দুর্নীতি করে তাদের ইচ্ছা পূরণ করছে। এই যে সমাজ গঠনে আমরা প্যারাডক্স বানিয়ে নিজেরাই সেই ফাঁদ তৈরি করেছি, তা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য কোনো রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেই। সরকার বাহাদুর সব কিছুতে গলদ রেখে স্বল্প সময়ের জন্য একটা সমাধান বের করে। দীর্ঘমেয়াদি এবং টেকসই কোনো ব্যবস্থার দিকে সরকারের কোনো গরজ নেই। ফলে ৫০ বছরেও আমরা কোনো সিস্টেম দাঁড় করাতে পারিনি। আমরা কেবল ব্রিটিশদের হটিয়ে পাকিস্তান করেছি, পাকিদের হটিয়ে বাংলা শাসন কায়েম করেছি। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী জনগণের জন্য কিছু করেনি। আমার কাছে ব্রিটিশ-পাকিস্তান বা ৫০ বছরের বাংলা শাসকদের চরিত্রের মধ্যে কোনো বড় পার্থক্য ধরা পড়ে না। সবাই এখানে শাসক আর প্রতিপক্ষ আমজনতা। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]