• প্রচ্ছদ » » পোলাপানদের পিঠ চাপড়ে দিয়েই দায়িত্ব শেষ?


পোলাপানদের পিঠ চাপড়ে দিয়েই দায়িত্ব শেষ?

আমাদের নতুন সময় : 02/12/2021

অভিনু কিবরিয়া ইসলাম : জার্মানিতে একটা স্টুডেন্ট আইডি থাকলে নিজেকে রাজা মনে হতো। বিশাল স্টেটে বাস-ট্রেনে বিনা টিকেটে ঘোরা যেতো। শুধু তাই নয়, উইকেন্ডে সঙ্গে একজন নিয়ে ঘোরা যেতো যার ভাড়া লাগতো না। স্টেটের বাইরে গেলে হাফ ভাড়া। মন খারাপ লাগলেই ট্রেনে উঠে পড়তাম। যেকোনো একটা স্টেশনে নেমে ঘোরাঘুরি করে আবার চলে আসতাম। শুধু তাই না, এই আইডি থাকলে পুরো ইউরোপে মিউজিয়ামগুলোতে হয় ফ্রিতে ঢোকা যেতো, না হলে ডিসকাউন্টে। শুধু মিউজিয়াম কেন, চিড়িয়াখানা থেকে শুরু করে মুভি থিয়েটার, লাইব্রেরি সব জায়গায় ডিসকাউন্ট। এমনকি ভার্সিটি সংলগ্ন খাবার দোকানেও কম পয়সা নিতো। এটা শুধু টাকাপয়সার জন্য ভালো লাগতো এমন নয়। এটা একটা সম্মান। একটা সোসাইটি রিকগনাইজ করছে আপনাকে আর স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে তুমি এখন মন দিয়ে পড়াশোনা করো, জ্ঞান লাভ করে সোসাইটির কাজে লাগো। টাকা ইনকামের পেছনে বেশি সময় ব্যয় না করে পড়াশোনার দিকে, নিজেকে গড়ে তোলায় মনোযোগ দাও। আমরা সোসাইটি কিংবা স্টেট থেকে তোমার ইফোর্টকে সম্মান দিচ্ছি, ব্যাকআপ দিচ্ছি। এসব তো ছিলোই, স্কলারশিপের টাকা যা পেতাম, তা দিয়ে শুধু আরামেই থাকতে পরতাম না, বরং এদিক সেদিক ঘোরাফেরা করার, দেশ-বিদেশ ঘুরে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য পয়সা বাঁচতো। আর এদিকে সেই ৬৯ এর ১১ দফা দাবির মধ্যে থাকা হাফ পাস আদায় করতে ছাত্রদের মাঠে নামতে হয়েছে। তাও আবার বাস ভাড়া বাড়ার পর। শুনলাম প্রথমে নাকি দাবি মেনে নিয়েছে। তারপর নিউজে গিয়ে দেখি, শুধু ঢাকায়। এটুকুই নয়, টাইম ঠিক করে দিয়েছে, সান্ধ্য আইনের মতো। বন্ধের দিনে আবার হাফ ভাড়া নেবে না।
এখানে সম্মান-টম্মানের বিষয় নেই, তোমরা হাউকাউ করছো, আমাদের গাড়ি বেপরোয়া চালিয়ে তোমাদের মারছে, তাই একটু কিছু দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি আর কী! দেওয়ার মালিক যা দেয় তাই নিয়ে খুশি থাকো। এটা শুধু পরিবহনের প্রবেলম নয়। পড়াশোনা করতে টেকাটুকা লাগবে এই মেসেজ তো রাষ্ট্রই দিচ্ছে, রাষ্ট্র কি সকল ছাত্রের পড়াশোনার দায়ভার নিচ্ছে? শিক্ষা ব্যয়, শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ের ব্যয় কি বাড়েনি? পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও এই নামে সেই নামে কি বর্ধিত ফি নেওয়া হয় না? আমাদের সময় একটা ভালো টিউশনি করেই মোটামুটি আরামে পড়াশোনা করা গেছে, এখন পোলাপান তিন-চারটা টিউশনি করেও হিমশিম খাচ্ছে পাবলিক ভার্সিটি বা কলেজে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে, প্রাইভেটের কথা বাদই দিলাম। তবে শিক্ষার্থীরা মাঠে থাকলে অন্তত কিছু হলেও আদায় করে নিতে পারে, এটা বোঝা যাচ্ছে। দেওয়ালে পিঠ এভাবে ঠেকতে থাকলে শিক্ষার্থীদের যে মাঠেই থাকতে হবে তাও দেখা যাচ্ছে। সিস্টেম মেরামতের সংগ্রামের ব্যাপারে শিক্ষার্থীরা আওয়াজ দিচ্ছে, কিন্তু তারা এটা করে দিতে পারবে না। যারা এ সিস্টেম মেরামতের রাজনৈতিক সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে পারেন, তারা কি প্রস্তুত? রাষ্ট্রের ড্রাইভিং সিটে বসা বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অগ্রসর করতে আমরা বুড়ারা কি কিছু করতে পারছি? নাকি পোলাপানদের পিঠ চাপড়ে দিয়েই দায়িত্ব শেষ? ঙারহঁ করনৎরধ ওংষধস-র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ুন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]