• প্রচ্ছদ » » বিশ^মানের মানুষ হওয়া মানে আপনার আশেপাশের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা, সত্য বলতে ভয় না পাওয়া


বিশ^মানের মানুষ হওয়া মানে আপনার আশেপাশের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা, সত্য বলতে ভয় না পাওয়া

আমাদের নতুন সময় : 02/12/2021

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি : এটা একটা মোটিভেশান লেখা। যারা পড়তে চান না তারা ইগনোর করবেন। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে এই লেখা এ দেশের হতাশাগ্রস্ত প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর পড়া দরকার। এখানে যে রেজাল্টের মার্কশিটগুলো দেখছেন, এগুলোর একটা ইতিহাস আছে। একটু খেয়াল করলেই দেখবেন আমার সিজিপিএ অতি আজব প্রকৃতির। যথাক্রমে ৩.১৪, ৩.১৩, ৩.৪৪ এবং ফাইনালে ৪.০০ আউট অব ৪.০০, চারুকলা বিভাগ থেকে। তার আগে জানিয়ে রাখি, আমি যখন চারে চার পেয়েছি তখন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আমার নামে একটা মামলা চলছে এবং আমি চরম যন্ত্রণায় বসে আছি। ফাইনাল পরীক্ষা শুরুর একদিন আগেও আদালতে আমি হাজিরা দিয়েছি। বিশ^বিদ্যালয়ের প্রথম বছর র‌্যাগিং নামক যন্ত্রণায় আমার মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে। আমাকে নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মিছিল হয়েছিলো- এক দফা এক দাবি, প্রীতি তুই কবে যাবি? আমার অপরাধ ছিলো আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে আদব শেখার নামে চলা অত্যাচারের প্রতিবাদ করেছি।
প্রতিবাদ করার ফলাফল হিসেবে আমাকে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ধ্বংসকারী’ ট্যাগ পেতে হয়েছে। ছাত্রত্ব বাতিলের দাবিও করেছে। খোদ আমার পরিবারের অধিকাংশের ধারণা ছিলো আমার আর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা হবে না। এর সবই হয়েছে- আমি প্রতিবাদ করেছিলাম র‌্যাগিং নামক একটা সিস্টেমের বিরুদ্ধে। কিন্তু আমি যদি প্রতিবাদ না করতাম তাহলে তারা হয়তো আমাকে নিয়ে গর্বিত হতো, কারণ দীর্ঘদিন প্র্যাকটিস করতে করতে একটা অপরাধই সংস্কৃতি হয়ে যায়। তবুও আমি কোথাও যাইনি, মাটি কামড়ে পড়েছিলাম। আমার এই কামড়ে থাকার সময় গুটিকয় শিক্ষক আমার পাশে ছিলেন। প্রতিটা বইয়ের মতো আমি আমার বিশ^বিদ্যালয়ের রেজাল্ট উৎসর্গ করছি আবরার ফাহাদ নামের এক হতভাগা তরুণকে, যার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের কামরা হয়ে উঠেছিলো র‌্যাগিং নামক অত্যাচারের জন্য বানানো টর্চার সেল। সে মরেছিলো সামান্য এক ফেসবুক পোস্টের জন্য আর অসামান্য এক প্রতিবাদের জন্য।
সে বেঁচে থাকলে হয়তো আমার চেয়েও ভালো রেজাল্ট করতো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও করতো। কিন্তু সে নেই তাতে কী। আমরা যেন ভয় না পাই, আমরা যেন ভুলে না যাই- আমরা মরে গেলেও একটা জিনিস কখনো মরবে না, সেটা সত্য। ইতিহাস লেখা হয় শাসকের হাতে, কিন্তু ইতিহাস লেখার ইতিহাস লেখে কেবল সময়। আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের রায় কী হবে আমরা জানি না, কিন্তু এই সময়ে জানাতে চাই যে- আমরা সবাই মরিনি, এমনকি আমরা যদি না থাকি তবুও আমাদের থাকাটা থেকে যাবে না থাকাটা জুড়ে। তাই কেবল সিজিপিএ’র জন্য না ছুটে প্রতিবাদটাও জারি রাখেন। আমি হয়তো বেঁচে গেছি, কিন্তু র‌্যাগিং নামক অত্যাচারের বলি ছিলো আবরার- সেটা ভুইলেন না। মনে রাইখেন কেবল আবরার নয়, সড়কে ঝরে যাওয়া প্রতিটি প্রাণের প্রতি আমাদের দায়িত্ব প্রতিবাদ করা। এই যে স্কুলের বাচ্চারা সহপাঠীর মতো কাউকে হারাতে চায় না বলে প্রতিদিন রাস্তায় দাঁড়াচ্ছে, এটা অনেক বড় ব্যাপার। তারা আপনাদের অনেকের মতো গা বাঁচানো অভিভাবক পেয়েও যে নিজেরা প্রতিবাদ করতে শিখছে, এটা এতো খারাপের মধ্যেও আনন্দের সংবাদ। স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে মানুষ পড়তে যায় বিশ্বমানের মানুষ হতে। বিশ্বমানের মানুষ হওয়া মানে আপনার আশেপাশের অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা, সত্যটা বলতে ভয় না পাওয়া। ভেবে দেখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে, স্কুলে পড়ে যদি সত্যই না বলতে শিখলেন তাহলে সেই ঘোড়ার ডিমের শিক্ষা দিয়ে কী করবেন? ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]