আমাদের দেশটা অনেক সুন্দর

আমাদের নতুন সময় : 04/12/2021

আমিনুল ইসলাম

ভোরবেলায় ঘুম থেকে ওঠে নামাজ পড়ার অভ্যাস সেই ছোটবেলা থেকে। এমন না আমি খুব ধার্মিক। কিন্তু নামাজটা অভ্যাসের কারণেই পড়া হয়। ২৫ নভেম্বর থেকেই একটু জ্বর জ্বর লাগছে। রাতে এমনিতেই ঘুম আসেনি। ভোরে নামাজ পড়ার জন্য বিছানা ছেড়ে হাঁটাহাঁটি করছি। এমন সময় দেখি সব কিছু কেঁপে উঠেছে। বুঝতে পারলাম ভূমিকম্প হচ্ছে। পাশের রুমে বোন-দুলাভাই ঘুমাচ্ছে। আমার কি ওদের জাগানো উচিত? বেশ ভয় লাগছিলো। ভাবছিলাম দুই দিনের জন্য দেশে এসে শেষমেশ না ভূমিকম্পে মরতে হয়। এটা ভাবার পর কোনো এক বিচিত্র কারণে সব ভয় দূর হয়ে গেছে। মনে হয়েছে- মরলে তো নিজ দেশেই মরছি। বিদেশে তো নয়। এ এক অদ্ভুত ব্যাপার। আমি লেখালেখি করি। প্রায় এক যুগ হতে চলেছে পত্রিকায় লেখালেখির। আশপাশের ছোটখাটো ভুলগুলো ধরিয়ে দেওয়া আমার কাজ বলেই আমি মনে করি। এই জন্য হয়তো বেশিরভাগ সময় নানা বিষয় নিয়ে সমালোচনা করি। আমাদের অনেক চমৎকার বিষয়ও আছে। এবারই এমন একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি যে এলাকায় থাকি, ঢাকার নাখালপাড়া। এই এলাকাটিতে মূলত চাকরিজীবী এবং শ্রমজীবী মানুষেরর সংখ্যা বেশি। এখানেই আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা।
দিন দুয়েক আগে গিয়েছি এক ফটোকপির দোকানে। অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাগজ কপি করতে হবে। কলেজ বা ইউনিভার্সিটিতে পড়া এক কম বয়সী ছেলে এসেছে মোবাইলের কী যেন একটা কিনতে। কেনা শেষে দোকানদার তাকে টাকা ফেরত দিয়ে আমার কাজ করছে। খানিক বাদে দেখি ছেলেটা ফিরে এসে বলছে, আপনি ভুলে আমাকে ৫০০ টাকার নোট দিয়ে দিয়েছেন। এই নিন রাখেন। এই দৃশ্য দেখে আমার ভয়ানক ভালো লেগেছে। আমার মনে আছে বিদশে একবার আমি আমাদের বাড়িওয়ালাকে ৫০০ ইউরো বেশি দিয়ে ফেলেছিলাম। ঘণ্টাখানেক পর ফোন করে বলেছিলাম, ভুল করে বেশি টাকা দিয়ে ফেলেছি। ভদ্রলোক আমাকে বললেন, তোমার কাছে কী প্রমাণ আছে? আমার কাছে কোনো প্রমাণ ছিলো না। তো কপির দোকানে এই দৃশ্য দেখে দোকানদারকে বললাম, আমার কাছে বেশ কিছু ১০০ টাকার নোট আছে। একটা এক্সপেরিমেন্ট করলে কেমন হয়? আমি রাস্তা দিয়ে টাকা ফেলতে ফেলতে যাবো। মানুষ ভাববে পকেট থেকে ভুল করে পড়ছে। দেখি মানুষজন কী করে। এই রাস্তা দিয়ে মূলত গার্মেন্টস শ্রমিক কিংবা সাধারণ চাকরিজীবীরাই হেঁটে যায়। তো দেখি- সবাই পেছন থেকে ডাক দিচ্ছে- ভাই, আপনার টাকা পড়ে যাচ্ছে! কেউ টাকা তুলে নেয়নি। অথচ তাদের অনেকেরই হয়তো বেসিক নিড বলতে আমরা যা বোঝাই, সেগুলো নেই। কারও হয়তো ঘরে ভালো খাদ্য নেই। কারও হয়তো ভালো ঘরই নেই। আমাদের দেশটাও অনেক সুন্দর। খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ নয়। বরং দেশটাকে অসুন্দর বানিয়ে ছেড়েছে- বড় বড় পুকুরচুরি যারা করে বেড়াচ্ছে। যাদের আমরা ‘বড়লোক’ বলি! ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]