শেখ ফজলুল হক মনি এবং যুবলীগ

আমাদের নতুন সময় : 04/12/2021

ড. মিল্টন বিশ্বাস

আদর্শবাদী রাজনীতির অন্যতম দিশারী ছিলেন বঙ্গবন্ধু। আর সেই রাজনীতির দীক্ষা গ্রহণ করে নিজেকে তৈরি করেছিলেন শেখ ফজলুল হক মনি। মনির রাজনৈতিক জীবন ছাত্রকাল থেকেই শুরু হয়েছিলো। তিনি ১৯৬০ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বৈরাচারী শাসক আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে তার অবদান ছিলো অপরিসীম। ১৯৬৬ সালে ছয়-দফা আন্দোলনের সময় তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি জনপ্রিয় ছাত্রনেতা ছিলেন। পাকিস্তানি শাসকদের তৈরি গণবিরোধী শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ১৯৬২ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো এবং ছয় মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি। ১৯৬৪ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন চ্যান্সেলর ও পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের কাছ থেকে তিনি সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলেন। তিনি শিক্ষা কমিশনের প্রতিবেদনের প্রতিবাদে সমাবর্তন ত্যাগ করার একটি অভিযানের নেতৃত্বও দিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার ডিগ্রি বাতিল করে দেয় যার বিরুদ্ধে তিনি আদালতে যান, অবশ্য সেই রায় তার পক্ষে যায়।
শেখ মনিকে ১৯৬৫ সালে আবার জননিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো এবং তাকে দেড় বছরের জন্য আটক রাখা হয়। ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি কারাবরণ করেন। এরপর তিনি ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় মুক্তি পেয়েছিলেন। দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য ১৯৭১ সালের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে তিনি আওয়ামী লীগের আরও তিন নেতার সঙ্গে কলকাতায় পালিয়ে যান। নেতারা হলেন তোফায়েল আহমেদ, আব্দুর রাজ্জাক ও সিরাজুল আলম খান। তারা বাংলাদেশকে মুক্ত করতে মুক্তিবাহিনীকে সংগঠিত করেছিলেন। মনি এবং তৎকালীন গবেষণা ও বিশ্লেষণ শাখার (পূর্ব) শাখার যুগ্ম পরিচালক মুজিব বাহিনীকে পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করেন। তিনি একটি ফ্রন্টে কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। প্রথমদিকে তাজউদ্দীন আহমদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলেও তিনি আমাদের স্বাধীনতাকালীন অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করেছিলেন। তবে যুদ্ধের সময় কিংবা পরে সবসময় তাকে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধুর একান্ত অনুগত হিসেবে দেখা হতো।
মনি ছিলেন লেখক ও সম্পাদক। বেশ কয়েকটি উপন্যাসের লেখক ছিলেন তিনি। তার জীবদ্দশায় তার লেখা গল্পগুলো নিয়ে একটি ছোটগল্পের সংকলন বের হয়। তিনি জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা ‘দৈনিক বাংলার বাণী’র প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ১৯৭০ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলা সাপ্তাহিক বাংলার বাণী প্রথম সম্পাদক হিসেবে ফজলুল হক মনির প্রচেষ্টায় প্রকাশিত হয়। আগেই বলেছি, মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুজিব বাহিনী গঠনের পথিকৃৎ ছিলেন। প্রধান হিসেবে তিনি ঢাকা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলায় ওই বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে সাপ্তাহিক বাংলার বাণী দৈনিক পত্রিকায় রূপান্তরিত হয় এবং ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শেখ মনি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালের ২৩ আগস্ট তিনি সাপ্তাহিক সিনেমা এবং ১৯৭৪ সালের জুনে ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ টাইমস চালু করেন যার সম্পাদক ছিলেন তিনি নিজে। তিনি বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সচিব ছিলেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সামরিক অভ্যুত্থানে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সময় মনি তার স্ত্রী আরজু মনিসহ নিহত হন। তিনি ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়ক থেকে দুই কিলোমিটার দূরে থাকতেন। তার বাড়ির ওপর হামলাটির সাক্ষী ছিলেন মাহফুজ আনাম (ডেইলি স্টারের সম্পাদক), যার বাড়ি মনির বাড়ি থেকে লেকের বিপরীত দিকে ছিলো। মনির দুই ছেলে- ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, এখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং ঢাকা-১০ আসনে তিনবারের সংসদ সদস্য ছিলেন। অপরজন শিক্ষাবিদ শেখ ফজলে শামস পরশ যিনি এখন যুবলীগের চেয়ারম্যান। সংক্ষিপ্ত। সূত্র : জাগো নিউজ। লেখক : কবি, কলামিস্ট। সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য, সম্প্রীতি বাংলাদেশ এবং অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। বসধরষ-ফৎসরষঃড়হনরংধিং১৯৭১@মসধরষ.পড়স)




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]