• প্রচ্ছদ » » গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রয়াণ দিবস আজ, দেশ ভাগের আগে ভারত ও পাকিস্তানের পাশাপাশি অখণ্ড স্বাধীন বাংলা নামে একটি ‘ডমিনিয়ন রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন


গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রয়াণ দিবস আজ, দেশ ভাগের আগে ভারত ও পাকিস্তানের পাশাপাশি অখণ্ড স্বাধীন বাংলা নামে একটি ‘ডমিনিয়ন রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন

আমাদের নতুন সময় : 05/12/2021

জান্নাতুল ফেরদৌস : [২] ১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রয়াণ জন্ম। তার পিতা ছিলেন বিচারপতি স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দী। তার দাদা ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ স্যার আবদুল্লাহ সোহরাওয়ার্দী। তিনি ছিলেন তার পিতা-মাতার কনিষ্ঠ সন্তান। দেশ ভাগের আগে ভারত ও পাকিস্তানের পাশাপাশি অখণ্ড স্বাধীন বাংলা নামে একটি ‘ডমিনিয়ন রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
[৩] কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষাজীবন শুরু করার পর মায়ের নির্দেশে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ভাষা এবং সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন সোহরাওয়ার্দী। ১৯১৩ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক সম্মান অর্জন করে সেখান থেকেই আইন বিষয়েও লেখাপড়া করেন এবং বিসিএল ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯১৮ সালে ‘বার অ্যাট ল’ অর্জন করেন তিনি। এরপর ১৯২১ সালে কলকাতায় ফিরে আইন পেশায় নিয়োজিত হন। ১৯২৪ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের স্বরাজ পার্টিতে যোগদানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। এ বছরেই কলকাতা পৌরসভার ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন। ১৯২৭ সালে স্বরাজ পার্টি থেকে পদত্যাগ করে ১৯৩৬ সালের শুরুর দিকে তিনি ইন্ডিপেনডেন্ট মুসলিম পার্টি গঠন করেন।
[৪] ১৯৩৭ সালে ফজলুল হক কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার শ্রম ও বাণিজ্যমন্ত্রী, ১৯৪৩-৪৫ সালে খাজা নাজিমুদ্দিনের মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী, ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী, পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভার আইনমন্ত্রী এবং ১৯৫৬-৫৭ সালে ১৩ মাস পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৮ সালে ইস্কান্দার মীর্জার পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারির পর ১৯৫৯ সালের আগস্টে তাকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পাকিস্তান নিরাপত্তা আইনে রাষ্ট্রবিরোধী মিথ্যা অপরাধ দেখিয়ে তাকে ১৯৬২ সালে গ্রেপ্তার করা হয় এবং করাচি সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয়। কয়েক মাস পর তিনি মুক্তি পান। ওই বছরই তিনি আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের উদ্দেশ্যে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) গঠন করেন। [৫] ১৯৬৩ সালে স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি দেশের বাইরে যান। লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থানকালে ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ৭১ বছর বয়সে মারা যান বাঙালির গর্ব বাংলার এই শ্রেষ্ঠ সন্তান। বাংলাদেশের নামকরণের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে এ রাজনীতিবিদের নাম। ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের নামকরণ করেছিলেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]