• প্রচ্ছদ » » চায়ের কাপে চামচ নাড়ার শব্দ প্রেমিকার হাসির চেয়েও সুন্দর!


চায়ের কাপে চামচ নাড়ার শব্দ প্রেমিকার হাসির চেয়েও সুন্দর!

আমাদের নতুন সময় : 05/12/2021

খালিদ খলিল : [২] চায়ের কাপে চামচ নাড়ার শব্দ প্রেমিকার হাসির চেয়েও মধুর বিশেষ করে চা পিয়াসীদের কাছে। এই চায়ের প্রতি প্রেমের ইতিহাস অনেক পুরনো। ২৭৩৭ সালে চীনে সম্রাট শেনং এর গরম পানিতে ভুল করে কিছু শুকনো পাতা পড়েছিলো। সেই পানি সম্রাট পান করে দেখেন গরম পানির স্বাদ অভূতপূর্ব হয়েছে। তারপর চায়ের চল ছড়িয়েছে পুরো চীন, তারও পরে সারাবিশ্বে। তবে যেখানেই সে গেছে, সেদেশের নিজস্ব রীতিনীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে গেছে। কখনো চায়ের কাপে, কখনো চা তৈরি করার প্রক্রিয়ায়, কখনো চায়ের সঙ্গে যোগ করা উপাদানে প্রতি দেশে চা স্বতন্ত্র হয়ে উঠেছে। তাহলে জেনে নেওয়া যাক বিভিন্ন দেশের চায়ের ঐতিহ্যের কথা। [৩] চীনের ‘গোংফু চা’ একটা ঐতিহ্যবাহী চায়ের অনুষ্ঠান। অনেকগুলো ধাপে এখানে চা পরিবেশন করা হয়। ঢাকনাওয়ালা থালা থেকে শুরু করে সাঁড়াশি পর্যন্ত থাকে এই উৎসবের হাঁড়ি-পাতিলের তালিকায়। চা পানের আগে তার ঘ্রাণ শোঁকা হয়। তারপর চা জ্বাল দিয়ে প্রথমে সূক্ষ্ম কারুকাজ করা পাত্রগুলোকে ধোয়া হয়। তারপর সব পাত্র এক জায়গায় গোল করে রেখে চা ঢালা হয়। চা শেষ হয়ে গেলেও চায়ের ঘ্রাণে মেতে থাকেন অংশগ্রহণকারীরা।
[৪] পাকিস্তানের ‘গোলাপি রঙের নুন চা’- এটা সাধারণত কাশ্মীরের চা, আর বিশেষ উপলক্ষেই পরিবেশন করা হয়। পেস্তা, কাজু, লবণ, দুশ আর মসলার সংমিশ্রণের এই গোলাপি রঙের চায়ে অনেকে একটু বেকিং সোডাও মেশায়। অন্যদিকে সবসময় পান করা হয় দুধ পাতি। এটা পানি ছাড়া তৈরি দুধ চা। [৫] মালয়েশিয়ার ‘তেহ তারিক’ চায়ের উপাদান শুনলে মনে হবে, এ আর বিশেষ কী? সেই তো চা, চিনি আর ঘন দুধ। কিন্তু এই চায়ের বিশেষত্ব অন্য জায়গায়। তেহ তারিক চা বানানোর সময় একে ফোমের মতো বানাতে প্রস্তুতকারক হাতের মগটাকে এমনভাবে আগপিছু করেন, কিন্তু মগ থেকে এক ফোঁটা চাও পড়ে না। সে এক দেখার মতো বিষয়। চায়ের চল শুরু হওয়ার সঙ্গেই মালয়েশিয়াতে বেড়েছে চা প্রস্তুতকারকের এই অসম্ভব দক্ষতা দেখার লোকের ভিড়। [৬] রূপার পাত্রে ‘ইরানি চা’। যে ইরানে আজ চায়ের কেটলি সারাদিন চুলায় জ্বলে, সেখানে চা জনপ্রিয় হতে অনেকটা সময় নিয়েছে। বিংশ শতকে এসে ইরানিরা নিজেদের কালো চা তৈরি শুরু করে। রূপার পাত্রে করে পরিবেশিত এই চায়ের সঙ্গে দেওয়া হয় ‘নাবাত’ নামের হলদে মিষ্টি। ইরানের মানুষজন কোনোরকম চিনি ছাড়া কড়া চা পানই বেশি পছন্দ করে।
তিব্বতের চমরি গাইয়ের মাখন চা: [৭] চমরি গাইয়ের দুধ থেকে পাওয়া নোনতা স্বাদের মাখন ‘পো চা’। চায়ের কাপে দুধ ভালো লাগে, নাকি লেবু- এ বিতর্ক তো বহু পুরোনো। কেমন হয়, যদি জানতে পারেন তিব্বতীরা তাদের ঐতিহ্যবাহী চায়ে মেশায় চমরি গাইয়ের দুধ থেকে পাওয়া নোনতা স্বাদের মাখন? একে বলা হয় ‘পো চা’। পেমাগুল চায়ের একটা দলাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্বাল দিয়ে সেখানে যোগ করা হয় দুধ, লবণ আর মাখন। তিব্বতের উচ্চতায় আর আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে চলতে স্যুপের মতো ঘন এই চা বেশ কাজে দেয়। [৮] মরক্কোতে তিনবারে ‘পুদিনা চা’ সরু ও লম্বা গ্লাসে পরিবেশিত হয়। এই চায়ে দেওয়া থাকে পুদিনা, সবুজ চা পাতা আর বেশ খানিকটা চিনি। মাগরেবি পুদিনা চা বা তুয়ারেগ চা নামে ডাকা হয় একে। প্রত্যেক অতিথিকে তিনবার চা পরিবেশন করেন মরক্কোবাসীরা। প্রতিবারে লিকার একটু করে গাঢ় করা হয়। প্রথম চায়ের অর্থ ‘জীবনের মতো কোমল’, দ্বিতীয় চা ‘ভালোবাসার মতো শক্তিশালী’, আর তৃতীয় চা ‘মৃত্যুর মতো তিক্ত!’ ভুলেও যদি অতিথি এর এককাপ পান করতে অস্বীকার করেন, তবে এটাকে তার চরিত্রের রুক্ষতা বলে ধরে নেওয়া হয়। [৯] আর্জেন্টিনার ‘ইয়ারবা মা-তায়’ বমবিলা নামের নল দিয়ে পান করা হয়। আর্জেন্টিনার মানুষদের জীবন ইয়ারবা মা-তায় চা ছাড়া চলে না। এই চা তৈরি হয় ‘ইয়ারবা মা-তায়’ নামের ভেষজ উদ্ভিদ থেকে। ‘বমবিলা’ নামের নল দিয়ে পান করা হয় ছোট পাত্রে পরিবেশিত এই চা। আড্ডার সময় এক পাত্র চা সবার মাঝে ঘুরতে থাকে। এভাবে তারা নিজেদের বন্ধন প্রকাশ করে। যদি কেউ ‘ধন্যবাদ’ বলে চা পান না করতে চায়, তবে এর থেকে বড় অপমান আর হয় না। তাছাড়া বমবিলা দিয়ে পাত্রে থাকা চা নাড়া যাবে না। এতে প্রমাণিত হয় চা প্রস্তুতকারকের অদক্ষতা। আগেকার দিনে আর্জেন্টিনার অধিবাসীরা এই চা চিনি ছাড়াই পান করতো। আজকাল এতে চিনি বা মধু মেশানো হয়।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]